রক্তিম সূর্য সন্তান
ক্লান্তিহীন চেয়ে আছে ক্যালেন্ডারের চোখ
বিজয় তারিখ বুকে
নির্ভিক অগ্নি-সূর্যের, স্ফুলিঙ্গ দুচোখে
একটি কণ্ঠ, একটি মুখ, মৃত্যুজয়ী, দেশপ্রেম!
লাল সবুজ পতাকা, পতাকায় দীপ্ত-মুখ
কখনো জাতির পিতা, কখনো বঙ্গবন্ধু
মরণের বিষ শুষে
মুক্ত পায়ে হেঁটে চলে রক্তিম সূর্য-সন্তান!
চৌদ্দই ডিসেম্বর
মেধা শূন্যের ঘোর চক্রান্তে বহতা তরঙ্গের দৌড়
বুঝলাম অমরতা ছুঁয়ে, দুয়ারে এসেছে
বুদ্ধিজীবী দিবস!
সজনে ডাটার মতো বেড়ে উঠেছে স্বপ্ন
নির্বিক দুই চোখ চির অমর, অঝোর, দেশের মাটিতে শুয়ে!
প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ আঘাত, কাব্যকথা,
ত্যাগের গৌরবে!
জীবনের রক্তিম শিশিরবিন্দু চিরসবুজের ঘ্রাণ
স্বদেশ প্রেমের টানে ছুটে চলে টলটলে তরতাজা বিশ্বাসে!
প্রতীক্ষা
সু-সবুজ প্রতীক্ষাকে বেড়ে উঠতে দেখেছি আমি লকলকে
পুঁইয়ের ডগার মতন, মনের বারান্দায়
প্রত্যাশিত শীর্ণ ফাঁকা দিয়েও অতি সহজে
আলো-রশ্মিগুলো ছিন্ন করেছে কালো আঁধার!
অদ্ভুত, প্রচণ্ড অদ্ভুত তারুণ্য
উঁকিঝুঁকি কারুকাজ, বাতাসের ন্যায় ছেয়ে গেছে জীবনকুটির!
দৃষ্টি হেঁটে চলছে বিরতিহীন চলনে
সেই থেকে চোখে-চোখে, স্বাধীন দেশে শান্তি, বিজয়ের প্রতীক্ষা!
জাগরণ
ফাঁকা স্থান, ফসলের বীজে ছেয়ে গেলে
বুঝে নিও জাগরণ ছুঁয়েছে মনের মাটি
অন্ধ-বন্ধ বিবেকের, অমাবস্যা কেটে গেলে জাগরণ আসে!
লোক-দেখানো মিছিল, সমাবেশ, স্বার্থ-সাজ
শেকড় থেকে উপড়ে ফেলে আসে জাগরণ
মানুষ হয় প্রেমিক, মৃত্যুঞ্জয়ী-প্রেমিক, মৃত্তিকা-প্রেমিক!
বহিঃর্বিশ্বের কণ্ঠে যখন ধ্বনিত হয়, লাল সবুজের
বাংলাদেশ, বাংলাদেশ
বুঝে নিও, জাগরণ এসেছে সম্ভাবনার নক্ষত্র ছুঁয়ে!
অন্ধ, অন্ধকার, আর জন্মান্ধ ধেয়ে
দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছুঁয়ে, জাগরণ হেঁটে চলে বিজয়ের মাঠে!