তৌহিদ হোসেইন মজুমদার, সমকালীন বাংলা কবিতার এক অনন্য
কণ্ঠস্বর, আমার জীবনসঙ্গী। তাঁর কবিতার প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য
যেন তাঁর হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা। সহধর্মিণী হিসেবে তাঁর
সৃষ্টিশীলতার নৈকট্যে থাকার সৌভাগ্য আমি প্রতিদিন অনুভব করি।
তাঁর লেখনী শুধু তাঁর ব্যক্তিগত উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি যেন
জীবনের প্রতিটি স্তরে আমাদের সবার অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর
খোঁজার এক নিরন্তর প্রয়াস।
তাঁর কবিতায় জীবনের গভীর অনুসন্ধান ¯পষ্ট। দ্রোহ ও কোমলতার
চিরন্তন দ্বন্দ্ব তাঁর কবিতায় মিশে যায় এমন এক স্রোতে, যা পাঠকের
হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। শব্দের বাহুল্য থেকে দূরে থেকে, তিনি এমন এক
ভাষা নির্মাণ করেছেন, যা সরল অথচ তার গভীরতা অসীম। একজন
পাঠক হিসেবে আমি বারবার তাঁর কবিতায় হারিয়ে যাই- তাঁর লেখনী
হয়ে ওঠে তাঁর হৃদয়ের ভেতরে প্রবেশের এক বিরল সুযোগ।
তাঁর প্রথম যৌথ কাব্যগ্রন্থ “বোধের জমিনে বাঘের থাবা”, বাংলা
কবিতায় এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে। এখানে জীবন ও সময়ের
টানাপোড়েনকে তিনি এমন এক শৈল্পিক গাঁথুনিতে তুলে ধরেছেন, যা
তাঁর গভীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তাঁর একক কাব্যগ্রন্থ “নীড়ের
যাযাবর” আমার কাছে এটি তাঁর আত্মপরিচয়ের এক অনন্য দিক।
যেখানে নীড় খোঁজার যাত্রা শুধুই ভ্রমণ নয়, এটি মানব জীবনের বিবাগী
মন ও অমোঘ নিয়তির গভীর প্রতিচ্ছবি। এই গ্রন্থে, যাত্রাটি হয়ে ওঠে
আত্মানুসন্ধান এবং শাশ্বত অন্বেষার প্রতীক।
তাঁর সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ “ধ্রুপদী দ্রোহ”, বাংলা কবিতার ধারায় এক
অনন্য সংযোজন। প্রতিটি কবিতা যেন এক-একটি নতুন দিগন্ত
উন্মোচন করে। এখানে প্রেম শুধু আবেগ নয়, এটি জীবনের গভীর
অন্তদৃষ্টি এবং দ্রোহ এখানে প্রতিরোধের পাশাপাশি নতুন এক আশার
বার্তা। তাঁর কবিতার গভীরতায় মুগ্ধ হয়ে আমি প্রতিবার নতুন করে
উজ্জীবিত হই।