সব মানুষের মনে ভাবের উদ্রেক হয়। সেই ভাবকে যারা ছন্দবদ্ধ করে ভাষায় রূপ দিতে পারেন তাদেরকে বলা হয় কবি। নিজের মনের ভাব যিনি যত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারেন তার পাঠক-প্রিয়তা ততো বেশি, তিনি খ্যাতিমান হন। তার লেখা জনে জনে ছড়িয়ে পড়ে। যুগ যুগান্তে মানুষ তার সৃষ্টিকর্ম আবৃত্তি করে মেটাতে থাকে কাব্য পিপাসা। কাব্যগুণে সমৃদ্ধ কবিতা শত বছর পরেও পাঠকহৃদয় নাড়া দেয়। কাল বিচার না করে সব পাঠককের মন সমভাবে আন্দোলিত করে।
কবিতা মানুষের মনের খোরাক জোগায়, অল্প কথায় বেশি ভাব প্রকাশ পায়। কবিতা মানুষকে উজ্জীবিত করে। মানুষের ভেতর স্পৃহা জাগরিত করে। পাঠক আবেগ আপ্লুত হয়ে কবির কথার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন, পাঠক অনুধাবন করেন কবিতায় কবি তার মনের কথাই সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন তখনই কবির জনপ্রিয়তা বাড়ে। একজন কবির সার্থকতা এখানেই পাওয়া যায়।
আধুনা যারা কবিতা লিখে নিজের মনের ভাব প্রকাশ করছেন, কবিতা লেখায় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছেন, পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সচেষ্ট তাদের মধ্যে ফাতেমা উম্মে রায়হান বীণা অন্যতম। তিনি একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি। তার চেষ্টা আছে, কবিতা প্রেমী মানুষ ও পরিশ্রমী মানুষ।
দীর্ঘদিন যাবত তিনি কবিতা লিখছেন। শুধু কবিতা নয়, তিনি প্রবন্ধ, গল্প এবং উপন্যাস লিখেও সুনাম কুড়িয়েছেন। পত্র-পত্রিকায় ও ম্যাগাজিনে তার অনেক লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তার ছাত্র-ছাত্রীরা, সহকর্মীগণ ছিল কবিতার প্রথম পাঠক। এ সব কবিতার মাধ্যমে তিনি তাদের মনের খোরাক জোগাতে পেরেছিলেন। কবিতার মাধ্যমে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিতে পেরেছিলেন। সাহিত্য, সংস্কৃতির চর্চায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছেন। পাঠকের ছোট্টগণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর সাহিত্যজগতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। তার লেখা পুস্তক আকারে প্রকাশ করার ভাবনায় থাকলেও বাস্তবে রূপ দিতে অনেক সময় পার করেছেন। এবারে তার সে চেষ্টার সফলতা এসেছে। তার লেখায় দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, নারী জাগরণ ও নারী উন্নয়ন, পরিবার- সংসারধর্ম, আধ্যাত্মিকতা, ধর্ম চিন্তা ইত্যাদি বিষয় স্থান পেয়েছে। একজন সার্থক ও সফল মানুষের প্রতিচ্ছবি পাঠকের সামনে দাঁড় করিয়েছেন।
কবিতাগুলো ছন্দবদ্ধতায় সীমাবদ্ধ না রেখে নিজের মনের ভাব অতি সহজ সরলভাবে প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি কবিতার মর্মবাণী অতিসহজে পাঠক বুঝতে পারবেন। মানব হৃদয়ে কত রকম ভাবের উদ্রেক হয়, সেই ভাব কিভাবে ভাষায় প্রকাশ পায় তা এসব কবিতায় স্পষ্ট রূপে ফুটে উঠেছে। তার অনেক কবিতা আছে যা খুবই অসাধারণ, ভাবে আর ভাষার অপূর্ব সম্মিলন ঘটিয়েছেন।
ফাতেমা উম্মে রায়হান বীণার 'আবৃত্তির জন্য কবিতা' অনেক বড় অবয়বে প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি একজন গুছানো মানুষ। কালের পরিক্রমায় এ কবিতাগুলো যাতে সংরক্ষিত থাকে এ চেষ্টা তিনি করেছেন। এখানে অনেক কবিতা আছে যা কালোত্তীর্ণ হবে, পাঠক হৃদয় তিনি জয় করতে পারবেন। কাব্য জগতে প্রবেশের জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানাই। তার কাব্যচর্চা অব্যাহত থাকুক, সাহিত্য চর্চায় তার সফলতা কামনা করি।
পিতার চাকরি সূত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে লেখাপড়া করেন। আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ময়মনসিংহ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে এমএ করেন। তারপর বি.এড করেন। ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ মোমেনশাহী সেনানিবাসে সিনিয়র শিক্ষিকা হিসেবে ০১/০২/২০০০ থেকে ২৩/০৩/২০২১ মোট ২০ বছর শিক্ষকতা করেন। তিনি জামালপুর জেলার, সদর উপজেলার, তুলশীর চর ইউনিয়নের, শ্বশুরের নামে প্রতিষ্ঠিত 'কে এইচ সামছুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। স্বামী মো. হামিদুল হক মিন্টু অবসরপ্রাপ্ত উপ-মহাব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, দুই কন্যা- হাফসা ফারিয়া হক মন্টি, হাসনা ফারিয়া হক মিথিলা এবং এক পুত্র- ফয়সাল রায়হান। হককে নিয়ে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে নিজ ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন।
সপ্তম শ্রেণি থেকে লেখালেখি করছেন বিভিন্ন ম্যাগাজিন এবং পত্রিকায়। কলিগ, শিক্ষার্থী, বন্ধু-বান্ধব, খুশুর বাড়ি এবং বাবার বাড়ির আত্মীয় পরিজন, প্রতিবেশী, প্রাণপ্রিয় স্বামী, সন্তানদের উৎসাহ, অনুপ্রেরণায় এবং মহৎ প্রাণ, পরিশ্রমী ইতিবাচক প্রকাশক- ফোরকান আহমদ ভাইয়ের আন্তরিক সহযোগিতায় বইটি আপনাদের উপহার দিতে পারলাম। সৃষ্টিকর্তার কাছে হাজার শুকরিয়া করছি। ভুলত্রুটি নিজ গুণে ক্ষমা করে দিবেন। আপনাদের সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তির জন্য দোয়া করি। আমার জন্য দোয়া করবেন।