১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
আরো দেখুন
১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
গত শতাব্দীর শুরুতেই তাবৎ দুনিয়ায় আছড়ে পড়ে কমিউনিজমের অবিনাশী ঢেউ। এ ঢেউয়ের প্রলয়ে ভাঙাগড়ার প্রবল খেলায় বদলে যায় মতাদর্শিক বিন্যাসের সাথেসাথে চিন্তা ও আদর্শের ভূগোল। এমন কি ভূখণ্ডের ভূগোলও বদলে যায়। পর হয়ে যায় আপন, রক্তের বন্ধন হয়ে যায় পর। য়ুরোপ আমেরিকায় ধ্বংস ও সাফল্যের উৎসবের মাঝেই চীনে রক্তের মহাসাগরের উপর প্রতিষ্ঠিত হয় কমিউনিজম। নানা বিবর্তনের পরেও যা এখনও বহাল আছে। রাশিয়া থেকে বিদায় হলেও অধিকৃত মুসলিম দেশগুলো এর হিসাব চুকাতে গিয়ে কুরবানী দেয় লাখ লাখ উম্মতে মুহম্মদীকে। পাশাপাশি কথিত সাম্যবাদের নামে ইসলামের সুমহান আদর্শ থেকে দূরে সরে যায় নেতৃত্ব, রাষ্ট্র ও সমাজ। পুঁজিবাদকে আপন করে নিলেও ইসলামী আদর্শ থেকে এখনও তারা বহুদূরেই আছে।
আরব আজম ও ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম তারুণ্যকেও বিপুলভাবে প্রভাবিত করে কমিউনিজম। ইসলামী আদর্শের বিপরীতে মুসলমানের সন্তানরাই হয়ে দাঁড়ায় সমাজতন্ত্রের মুখপাত্র। কেউ হয়ে যায় সরাসরি মুখোমুখি। কেউবা ইসলামের সাথে কমিউনিজমকে গুলিয়ে ফেলে একেই ইসলামের আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকে। এই সংকট এখনও কাটেনি। বরং সময়ের সাথে নানামুখী রুপান্তরে প্রভাবিত করছে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সবখানেই।
গোলাম মোস্তফা ছিলেন এ ভূখণ্ডের মুসলিম জাতিসত্তার মহান দিশারি চিন্তক। কবি হিসেবে তিনি কবিতা ও সীরাত চর্চার শিখরে অবস্থান করলেও তত্ত্ব দর্শনের খণ্ডনে ছিলেন অনন্য। এ পর্যায়ে তিনি কলম ধরেন কমিউনিজমের মুখ ও মুখোশের বয়ান উন্মোচনের কাজে। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে তিনি লেখেন “ইসলাম ও কমিউনিজম” গ্রন্থটি। বইটি প্রকাশের পরপরই সাড়া পরে যায়। পক্ষে বিপক্ষে বিপুল তর্কবিতর্ক চলতেই থাকে। যা আজও বিদ্যামান।
আলোচ্য বইটিতে লেখক ইসলাম ও কমিউনিজমের মতাদর্শিক পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি এর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। ইসলামের সাথে কমিউনিজমের বেশকিছু পর্যায়ে মিল থাকলেও মতাদর্শিক প্রেক্ষাপটে কমিউনিজম ও ইসলাম; দুটি যে আলাদা বিষয় তা লেখক সুচারুভাবে তুলে ধরেছেন।
এই বইয়ের আবেদন এখন বিদ্যামান। কমিউনিজমের ঘুলঘুলিতে আজও বাঙালী মুসলিম তারুণ্য দিশেহারা। তাই, ইসলাম ও কমিউনিজমের তুলনামূলক আলোচনার উপর গোলাম মোস্তফা রচিত “ইসলাম ও কমিউনিজম” বইটি তালবিয়া প্রকাশন নতুন করে প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা আশাকরি বইটির নব প্রকাশ পাঠকদের ঋদ্ধ করবে।
গোলাম মোস্তফার জন্ম ১৮৯৭ সালে যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার শৈলকূপা থানার অন্তর্গত মনোহরপুর গ্রামে। পিতা কাজী গোলাম রব্বানী, পিতামহ কাজী গোলাম সরওয়ার। তাঁরা ছিলেন সাহিত্যানুরাগী-ফারসী ও আরবী ভাষায় সুপন্ডিত। তাঁর তিন পুত্রের মাঝে একজন হলেন বিখ্যাত পাপেটনির্মাতা ও চিত্রশিল্পী মুস্তফা মনোয়ার এবং সাম্প্রতিককালের অস্কারজয়ী বাংলাদেশী নাফিস বিন জাফর তাঁর নাতি।
শিক্ষা জীবন গোলাম মোস্তফার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয় চার বছর বয়সে নিজগৃহে ও পার্শ্ববর্তী দামুকদিয়া গ্রামের পাঠশালায়। কিছুদিন পরে তিনি ফাজিলপুর গ্রামের পাঠশালাতে ভর্তি হন। দু’বছর এই পাঠশালায় বিদ্যা অর্জনের পরে তিনি ভর্তি হলেন শৈলকূপা উচ্চ ইংরেজী স্কুলে। ১৯১৪ সালে এই স্কুল থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে তিনি প্রবেশিকা বা ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯১৬ সালে তিনি দৌলতপুর বি. এল কলেজ থেকে আই. এ এবং ১৯১৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ থেকে বি. এ পাশ করেন। পরে ডেভিড হেয়ার ট্রেনিং কলেজ থেকে বি. টি ডিগ্রীও লাভ করেন।
পেশাগত জীবন ১৯২০ সালে জানুয়ারী মাসে ব্যারাকপুর সরকারি হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে গোলাম মোস্তফার শিক্ষকতা জীবনের সূচনা হয়। ১৯২৪ সালে ব্যারাকপুর হাই স্কুল থেকে তিনি কলকাতা হেয়ার স্কুলে বদলী হন। দীর্ঘদিন এখানে শিক্ষকতা করার পর তিনি কলকাতা মাদ্রাসায় বদলী হন। সেখান থেকে ১৯৩৫ সালে বালিগঞ্জ সরকারি ডিমনেষ্ট্রেশন হাই স্কুলে বদলী হয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদে উন্নীত হন এবং কয়েক বছর পর উক্ত বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদমর্যাদা লাভ করেন। এই বিদ্যালয়ের তিনিই প্রথম মুসলিম প্রধান শিক্ষক। ১৯৪০ সালে তিনি বাঁকুড়া জিলা স্কুলে বদলী হন। শিক্ষকতা জীবনে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করার পর ১৯৪৬ সালে তিনি ফরিদপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ত্রিশ বছর শিক্ষকতা করার পর ১৯৫০ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বাংলা সাহিত্যের সাধক কবি গোলাম মোস্তফা তাঁর শেষ জীবনের কয়েক বছর ঢাকা শান্তিনগরস্থ নিজ গৃহে (মোস্তফা মঞ্জিল) অতিবাহিত করেন। বেশ কিছু দিন রোগ যন্ত্রণা ভোগ করার পর কবি ১৯৬৪ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।