১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
আরো দেখুন
১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
অনলাইন বাণিজ্য মেলায় আপনার পছন্দের পণ্যে ৭৫% পর্যন্ত ছাড়! বছরের শুরুতেই সেরা ডিল, রকমারি অনলাইন বাণিজ্য মেলা, ২০২৬
গোরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস। গোরা নিঃসন্দেহে খুব শক্তিশালী একটি উপন্যাস। উপন্যাসের পটভূমি, তৎকালীন কলকাতা, ব্রিটিশ আমল যখন বাংলাতে হিন্দু সমাজ এবং ব্রাহ্ম সমাজের মধ্যে বিরোধ ছিল তুমুল পর্যায়ে। পুরো উপন্যাসের মধ্যে রাজনীতি আর ধর্মের দার্শনিক বিতর্ক খুবই সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটির বিষয়বস্তুকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতর ফেলা যায় না। কেননা, এতে যেমন রাজনীতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক, নারীমুক্তি, দেশাত্মবোধ, হিন্দুসমাজ সংস্কার আন্দোলনের মতো ভারী বিষয়বস্তু রয়েছে। পাশাপাশি বন্ধুতার বন্ধন, মাতৃত্ব, প্রেম-ভালোবাসাও রয়েছে।
পুরো উপন্যাস এত সুন্দর কাব্যিক ভাষায় লেখা, এত সুন্দর করে সব কিছুর বর্ণনা দেওয়া যে না পড়েও ওঠা যায় না। গোরা উপন্যাসে অনেক অসাধারণ চরিত্রের সৃষ্টি করেছেন রবীন্দ্রনাথ। যেমন গৌরমোহন বা গোরা, বিনয়, পরেশবাবু, সুচরিতা, ললিতা, আনন্দময়ী প্রভৃতি।
গৌরমোহন বা গোরা উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলেও বিনয়কে ভালো না বেসে উপায় নেই। প্রথম থেকেই গোরাকে কিছুটা গোঁড়া হিসেবে দেখানো হয়। যদিও আমার উপরে সত্য নির্ভর করছে, উক্তি অনুসারে গোরাকে ঠিক গোঁড়াও বলা যায় না। সে নিজেকে হিন্দু বলে, ব্রাহ্মণ হিসেবে পরিচয় দিতে হিন্দুসমাজের সংস্কারগুলো অতি তীব্রভাবে মেনে চলে।
বিনয় গোরার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। কিছুটা তার প্রাণের মতো একমাত্র বন্ধুও বলা চলে। বিনয়ের মতো এত বিনয়ী মানুষ বোধহয় খুবই কম আছে পৃথিবীতে। বিনয়ের চরিত্রের মাধুর্য অসাধারণ। বিনয় ও গোরা উভয়ই তৎকালীন ব্রিটিশ আমলের উচ্চশিক্ষার অধিকারী। কিন্তু অন্যান্য বাঙালি উচ্চশিক্ষার অধিকারীদের মতো তারা ব্রিটিশদের অনুগত ছিল না বরঞ্চ তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ছিল তুমুল। এই উপন্যাসের আমার অন্যতম পছন্দের বিষয়গুলোর মাঝে গোরা এবং বিনয়ের বন্ধুতা অন্যতম। তাদের বন্ধুতা এখনকার দিনে বিরল। অনন্যসুলভ তাদের বন্ধুতার মেলবন্ধন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (২৫ বৈশাখ ১২৬৮) কলকাতার জোড়াসাঁকোয়। বাবা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ। বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ভারতীয় মনীষী এবং বিশ্ববিখ্যাত কবি। ছাপার অক্ষরে স্বনামে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘হিন্দু মেলার উপহার’ (৩০.১০.১২৮১ ব.)।
১৮ বছর বয়সের মধ্যে তিনি ‘বনফুল’, ‘কবিকাহিনী’, ‘ভানুসিংহের পদাবলী’, ‘শৈশব সংগীত’ ও ‘রুদ্রচণ্ডু’ রচনা করেন। ‘জ্ঞানাঙ্কুর’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ভুবনমোহিনী প্রতিভা’ তাঁর প্রথম গদ্য প্রবন্ধ। ‘ভারতী’র প্রথম সংখ্যায় তাঁর প্রথম ছোটগল্প ‘ভিখারিণী’ এবং প্রথম উপন্যাস ‘করুণা’ প্রকাশিত হয়। ২২ বছর বয়সে নিজেদের জমিদারি সেরেস্তার এক কর্মচারীর একাদশবর্ষীয়া কন্যা ভবতারিণীর (পরিবর্তিত নাম মৃণালিনী) সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয় (৯.১২.১৮৮৩)। পুত্র রথীন্দ্রনাথের শিক্ষা-সমস্যা থেকেই কবির বোলপুর ব্রহ্মচর্য আশ্রমের সৃষ্টি হয় (২২.১২.১৯০১)। সেই প্রতিষ্ঠানই আজ ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’-এ রূপান্তরিত হয়েছে।
১৯১২ সালের নভেম্বর মাসে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ বা ‘ঝড়হম ঙভভবৎরহমং’ প্রকাশিত হয়। ১৯১৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ভারতবাসী রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডক্টরেট (১৯১৪) এবং সরকার স্যার (১৯১৫) উপাধিতে ভূষিত করে।
রবীন্দ্রনাথের একক চেষ্টায় বাংলাভাষা সকল দিকে যৌবনপ্রাপ্ত হয়ে বিশ্বের দরবারে সগৌরবে নিজের আসন প্রতিষ্ঠা করেছে। কাব্য, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, গান প্রত্যেক বিভাগেই তাঁর অবদান অজস্র এবং অপূর্ব। তিনি একাধারে কবি, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সুরকার, নাট্যপ্রযোজক এবং স্বদেশপ্রেমিক। তাঁর রচিত দুই হাজারের ওপর গানের স্বরলিপি আজো প্রকাশিত হচ্ছে। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের (ভারত ও বাংলাদেশ) জাতীয় সংগীত-রচয়িতারূপে একমাত্র রবীন্দ্রনাথেরই নাম পাওয়া যায়।