কিছু গল্প থাকে, যা শুধু গল্প হয়ে ওঠে না- তা হয়ে ওঠে জীবনের প্রতিচ্ছবি। কিছু সম্পর্ক থাকে, যেগুলো কখনো পূর্ণতা পায় না, অথচ মানুষের ভেতরে আজীবন বেঁচে থাকে। এই গল্প ঠিক তেমনই এক অসমাপ্ত ভালোলাগা, অপূর্ণ ভালোবাসা আর নিঃশব্দ আত্মত্যাগের কথা বলে; যেখানে ভালোবাসা আছে, কিন্তু দাবির ভাষা নেই; অপেক্ষা আছে, কিন্তু পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
এই কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক তরুণ হৃদয়ের দীর্ঘ যাত্রা; শৈশব থেকে যৌবন, বন্ধুত্ব থেকে নিঃশব্দ প্রেম, আশার আলো থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার বেদনা পর্যন্ত। এখানে প্রেম উচ্চকণ্ঠ নয়, চুপচাপ। এখানে বিচ্ছেদ কোলাহলময় নয়, নীরব। এখানে প্রতিটি অনুভূতি জমে থাকে বুকের গভীরে, বারবার নিজেকে দগ্ধ করে, অথচ মুখ ফুটে বের হয় না।
গল্পের নায়ক-নায়িকা কিংবা চরিত্রগুলো কোনো রূপকথার মানুষ নয়। এরা আমাদেরই মতো; পথের ধুলো মাখা, ব্যর্থতায় নুয়ে পড়া, আবার স্বপ্নে মাথা তুলে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষ। বন্ধুত্বের আড়ালে যে ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে, প্রকাশ না পাওয়া অনুভূতি যে কী ভয়ানক শক্তিশালী হতে পারে এই গল্প তারই স্পষ্ট দলিল।
এখানে আছে অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস, আছে বারবার ফিরে দেখা স্মৃতির জানালা, আছে নিজের মনের সঙ্গে নিজের যুদ্ধ। কারও জীবনে কেউ এসে সবকিছু পাল্টে দেয়, অথচ সেই মানুষটিকেই কোনোদিন জানানো যায় না- এই অসহনীয় যন্ত্রণা নীরবে বহন করার এক বাস্তব চিত্র এই গল্প।
“মিথ্যা মায়া” উপন্যাসটি কেবল দুটি মানুষের সম্পর্কের কাহিনি নয়; এটা আসলে নিজেকে হারাতে হারাতে বড় হয়ে ওঠার গল্প। যেখানে চাওয়া আর পাওয়া সমান পথ ধরে হাঁটে না, যেখানে ভালোবাসা প্রকাশের আগেই দায়িত্ব, বাস্তবতা আর সামাজিক দেয়াল দাঁড়িয়ে যায় অদৃশ্য প্রাচীর হয়ে।
এই গল্প পাঠকদের আবেগী করবে- হয়তো নিজের জীবনের কোনো এক না-বলা অধ্যায়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে। কাউকে মনে পড়বে, যার জন্য আমরা কখনো চুপ করে থেকেছি, কাউকে মনে পড়বে, যাকে কখনো বলা হয়নি “ভালোবাসি।”
এই গ্রন্থ সেইসব মানুষদের জন্য, যারা ভালোবাসতে জানে, কিন্তু ধরে রাখতে পারে না। যারা হারাতে হারাতে শক্ত হয়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ক্ষয়ে যায়। যারা হাসে সবার সামনে, অথচ রাতে একা একা নিজের নীরবতার সঙ্গে যুদ্ধ করে।
এই গল্প কোনো রূপকথার সুখের সমাপ্তির প্রতিশ্রুতি দেয় না। বরং বাস্তব জীবনের মতোই এখানে আছে পাওয়া আর না-পাওয়ার দ্বন্দ্ব, আছে ভালোবাসা আর বিচ্ছেদের চিরাচরিত লড়াই, আছে মানুষের মনের গোপন কান্না।