কবি, গীতিকবি ও সঙ্গীতশিল্পী সাকিনা কাইউমের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘নীরব নীহারিকা’ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। শিল্পী সাকিনা কাইউমের অন্তর্লোকে নিরবচ্ছিন্ন সৃজনশীলতার যে দুর্নিবার তাড়না তাঁকে প্রতিনিয়ত জাগিয়ে রাখে, এই কাব্যগ্রন্থ তারই নিখাদ প্রতিফলন।
একবিংশ শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশেই দ্রুত পরিবর্তিত মানবিক ও সামাজিক সম্পর্কের অম্ল-মধুর নির্যাসই হলো নীরব নীহারিকা। মুখ ও মুখোশের অবিরাম পোস্টমর্টেম করতে করতে মানুষ যেন মানুষকেই ভালোবাসতে ভুলে যাচ্ছেÑএই কঠিন সত্য সাকিনা কাইউম তাঁর কবিতাগুলোয় অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন।
কবিতাগুলোর নিবিড় পাঠে পাঠক যেন আয়নায় দেখা নিজের মুখচ্ছবির মতোই মিলিয়ে নিতে পারবেন নিজের অভিজ্ঞতাকে, নিজের ভেতরের ক্ষত-স্মৃতি, এমনকি অনাকাক্সিক্ষতভাবে প্রিয় থেকে অপ্রিয় হয়ে ওঠা মানুষগুলোকে। গ্রন্থে স্থান পেয়েছে কিছু নিটোল প্রেমের কবিতাওÑযা প্রেমের সুবাতাস ও নিজস্ব সুরভি ছড়িয়ে দেবে পাঠকের হৃদয়ে।
নীরব নীহারিকা-র প্রতিটি কবিতায় শব্দচয়ন, উচ্চারণ ও বিন্যাসে রয়েছে মনোমুগ্ধকর নতুনত্ব। আছে কবির স্পর্শকাতর মনের আবেগ-অনুভূতিÑপরতে পরতে জমে থাকা অভিমান, ঘন কুয়াশার মতো দীর্ঘ শ্বাসÑযা পাঠকচিত্তকে সহজেই আলোড়িত করবে।
এই ধাবমান সময়ের ব্যস্ত জীবনযাত্রাকে পেছনে ফেলে সাকিনা কাইউম মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, স্বপ্ন ও স্বপ্নাহত যন্ত্রণা এবং আশা-আকাক্সক্ষার রূপরেখা তাঁর কবিতায় চমৎকারভাবে বিন্যস্ত করেছেনÑযা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও আশাজাগানিয়া।
সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায়, সাবলীল চলনে, নিজস্ব শিল্পিত ঢঙে তিনি তাঁর আন্তরিক অনুভূতিগুলোকে কাব্যের ভাষায় রূপ দিয়েছেন। আমার বিশ্বাসÑগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতাই আবৃত্তিপ্রেমী এবং কবিতাপ্রেমী পাঠকের হৃদয় সহজেই ছুঁয়ে যাবে।
সাকিনা কাইউমের কাব্যগ্রন্থ ‘নীরব নীহারিকা’-র সার্বিক সাফল্য কামনা করছি। আগামী দিনগুলোতেও তাঁর কবিসৃজন আরও উজ্জ্বল হোকÑএই আমার আন্তরিক প্রত্যাশা।
"মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি" হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে চলা এক নিভৃতচারী স্বপ্নদ্রষ্টা'র নাম সাকিনা কাইউম । তিনি একাধারে - কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, কলামিস্ট, কণ্ঠশিল্পী, আবৃত্তি শিল্পী, কারুশিল্পী, প্রচ্ছদশিল্পী, সম্পাদক, প্রকাশক এবং একজন সফল শিক্ষক। নারায়ণগঞ্জের মেয়ে সাকিনা কাইউম তাঁর বহুমাত্রিক শিল্পকলা'র দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন "কালারফুল আর্টিস্ট্রি" নামক অনলাইন ভিত্তিক একটি আর্টস এন্ড ক্রাফটস প্রতিষ্ঠান, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করছেন। ২০১০ সালে তাঁর প্রথম প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থ - " Let's Practice Manners "। ২০২২ সালে প্রকাশিত হয় কাব্যগ্রন্থ "আমি হেরে গেলে তুমি সমুদ্র পাবে", যা ব্যাপক পাঠক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'আমারে ছাইড়া কই যাও পাগল' বইমেলার সেরা বিক্রিত গ্ৰন্হ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে তার প্রকাশিতব্য উপন্যাস 'ফুঁ' খুব শীঘ্রই পাঠকের হাতে তুলে দেবেন বলে সাকিনা কাইউম আশাবাদী। এছাড়াও তাঁর বেশ কিছু যৌথ কাব্যগ্রন্হ রয়েছে । বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী "সাকিনা কাইউম" এতকিছু করার পরেও তিনি নিজেকে অণুমাত্রিক ভেবে সুখ পান। তিনি মানুষের প্রেম,বিষাদ,ঘৃণা,কামনা,বাসনাকে তার কবিতার ছন্দে প্রকাশ করেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ভয়ংকর চিত্রগুলো তাঁকে খুব বেশি আহত করে এবং মৌলবাদ ও উগ্রবাদের অশুভ হাত তাঁকে ভাবায় প্রতিনিয়ত। এ-সব ভাবনা থেকেই তিনি বারবার জ্বলে ওঠেন। আর এভাবেই সৃষ্টি হয় তার বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল কাজগুলো।