"আজ রাতে সতর্ক থেকো"
রাত যত গভীর হয়, ততই শহরটা বদলে যায়। আলো নিভে যায়, রাস্থার বাতিগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ে, আর ছায়ার আড়ালে জেগে ওঠে এক ভয়ংকর উপস্থিতি, ‘ঈগলের চোখ’। নিখুঁত, ঠান্ডা, নির্মম। সে কখনো ভুল করে না। তার শিকার বাঁচে না। শহর যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখনই সে জেগে ওঠে, নিঃশব্দে। তার প্রতিটি পদক্ষেপে আছে শৃঙ্খলা, প্রতিটি শ্বাসে আছে পরিকল্পনা। যেন খু/ন তার পেশা নয়, এক নিখুঁত শিল্প।
অনিক হাসান, এক তরুণ ব্যবসায়ী। বাইরে থেকে সাফল্যের আলোয় ভাসছে, কিন্তু ভেতরে এক অজানা ভয়, এক দমবন্ধ করা অন্ধকারে ডুবে আছে সে। কেউ জানে না তার জীবনের গোপন দিকটা। আর শওকত মৃধা, শহরের ভয়ংকর এক নাম, যার অপরাধের ছায়া ছড়িয়ে আছে প্রতিটি গলি, প্রতিটি অন্ধকারে। ক্ষমতা, টাকায় আর আতঙ্কে গড়া তার রাজত্বে ভয়ই ছিল শাসনের মূল অস্ত্র।
দুইজন মানুষ, দুই প্রান্তের জীবন, অথচ এক রাতে, একই সময়, নির্মমভাবে খু/ন করা হয় দুজনকেই। দু’জনেই গলা কা/টা লা/শ হয়ে পড়ে থাকে। নিখুঁত, হিসেবি হ/ত্যা। তাদের পাশে পড়ে থাকে একটি চিরকুট,
“ঈগলের চোখ কখনো ভুল করে না।”
পিবিআই অফিসার রাকেশ চৌধুরী জানে, এই চিরকুট সে আগেও দেখেছে। অন্য শহরে, অন্য তিনটি খু/নে, যেখানে লা/শের পাশে ছিল একই বার্তা, একই হাতের লেখা, একই হিমশীতল সতর্কবাণী। তিন বছর আগের সেই মামলা এখনো তার দুঃস্বপ্নের মতো ফিরে আসে। এবার আবার শুরু হলো সেই খেলা, এক ভয়ংকর শিকারির খেলা।
পিবিআইয়ের চৌকস অফিসার রাকেশ চৌধুরী বুঝতে পারে, এই হ/ত্যাকারী কোনো সাধারণ মানুষ নয়। সে প্রশিক্ষিত, সে জানে শহরের গোপন পথ, জানে অন্ধকারে কেমনভাবে অদৃশ্য হয়ে যেতে হয়। প্রতিটি খু/নে সে রেখে যায় এক ধরনের নৈপুণ্য, এক চিন্তা, যেন প্রতিটি খু/ন এক বার্তা বহন করে। রাকেশ চৌধুরীর কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ঈগলের চোখ হ/ত্যাকে দেখে এক ধরনের ন্যায় হিসেবে; সে বিচার করে, এবং তার রায় মৃ/ত্যুর মাধ্যমে কার্যকর করে।
তদন্ত যত এগোয়, রাকেশ চৌধুরীর নিজের জীবনও তত জড়িয়ে পড়ে এক ভয়ংকর জালে। প্রতিটি সূত্র, প্রতিটি সাক্ষ্য যেন তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এক অন্ধকার অতীতের দিকে, যেখানে হয়তো লুকিয়ে আছে তার নিজের অপরাধবোধ, নিজের হারানো কাউকে।
‘ঈগলের চোখ’ একটি ক্রা/ইম থ্রি/লার যেখানে প্রতিটি পৃষ্ঠা রক্তে লেখা, প্রতিটি চরিত্র সন্দেহে ঘেরা। এখানে খু/নি কেবল হ/ত্যা করে না, সে পর্যবেক্ষণ করে, বিচার করে, আর শেষে রায় দেয়।
প্রশ্ন একটাই, কে এই ঈগলের চোখ ?
আপনি .. প্রস্তুত তো সেই চোখের সামনে দাঁড়াতে ?
একবার পড়া শুরু করলে, শেষ না হওয়া অব্দি থামবেন না।
কারণ, ঈগলের চোখ তাকিয়ে আছে আপনার দিকেই ।