‘কিসসা এক মুসাফির’ এক অনন্ত জীবনের আলেখ্য, যেখানে জীবন অন্তহীন আলেয়ার মতো মিথ্যা কৌতূহল জাগিয়েছে। তবু হতাশায় থেমে যায় নি। মৃত্যুর কাছ থেকে কিছুটা বেশি সময় পেয়েছিলেন বলে হয়তো জীবন-সংগ্রামটা জারি রেখে সাফল্যের শীর্ষে উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন কোনও বৈলক্ষণ্য ছাড়াই। ভাগ্যের হাতে তৃষ্ণীভাবে সবটাই সোপর্দ না করে এই ফরিয়াদি মুসাফির আদায় করেছেন আদাব। তিনি শূন্য থেকে শুরু করে ঝুলিতে এনেছেন তাঁর সঙ্গীত সমালোচনা বিষয়ক তিন খণ্ডে ২,৭০০ পৃষ্ঠার গ্রন্থ, ৫টি উপন্যাস, ৬০টি মতো নাটক, ২টি ছোট গল্প, থিয়েটার সমালোচনা বিষয়ক ১৫০টি নিবন্ধ, ১১টি প্রবন্ধ এবং নোবেল, অস্কারসহ বহু সসম্মানা স্বীকৃতি-সংবর্ধনা। তিনি দেড় মিলিয়নের বেশি চিঠি লিখেছিলেন যা, কুড়ি খণ্ডে প্রকাশ হওয়ার যোগ্য। আমাদের মুসাফির জীবনের কপর্দক, সাহিত্য জগতের স্বরাট নান্দীকারকে নিয়ে এ গ্রন্থ আবর্তিত হয়েছে। সাহিত্যে ‘নোবেল’ ও শ্রেষ্ঠ অ্যাকাডেমী পুরস্কার অস্কার গ্রহণ করলেও ‘অর্ডার অব মেরিট’ সহ আরও অনেক রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রত্যাখ্যান করেছেন এই জীবন সায়াহ্নের মুসাফির। শেক্সপিয়ার পরবর্তী প্রজন্মের শীর্ষস্থানীয় এই নাট্যকার, লেখক ও ঔপন্যাসিক দেখেছেন প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং সিনফিন ও ইস্টার বিদ্রোহের রূপ। যুদ্ধবিরোধী এই বিচিত্র স্বভাবের রসিক মানুষটি স্ট্যালিন, হিটলার ও মুসোলিনির প্রশংসা করেছেন। মার্কসবাদ, সমাজতন্ত্রবাদ, ফেবিয়ানবাদ ও সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক ফেডারেশনের ভক্ত এই মানুষটি অ্যানি বেসান্তের মতো আরও বহু রমণীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েও আদর্শগত কারণে বেরিয়ে আসেন। নিয়ম-নিগড়ে উনত্রিশ বছর ব্রহ্মচর্য পালনের পর তাঁর যৌন জীবন কেমন ছিল, তা নিয়ে তাঁর জীবনীকারদের মধ্যে জল্পনা ও বিতর্কের অন্ত নেই। তিনি ‘কর্নো ডি বাসেটো’ ও ‘জি বি এস’ নামেও পরিচিত। তাঁর সমর্থন ছাড়া ‘লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স’ বা LSE (১৮৯৫) প্রতিষ্ঠা করাই যেত না। এতে তাঁর ধনী অ্যাংলো-আইরিশ সদ্য সদ্য বিবাহিত স্ত্রী স্ত্রী শার্লোট পেইন-টাউনসেন্ড-এর আর্থিক অবদানও ছিল। ছিল। ও আমৃত্যু আপোসহীন যুদ্ধ-বিরোধী স্বচ্ছ মনের দরদী-মরমী-রোমান্টিক মনের মানুষটির বহুমুখী জীবনের গল্প, অভিজ্ঞতা আর অভিজ্ঞান জন্ম দিয়েছে জীবনমুখী, কালজয়ী নাটকের আলোক সম্ভার। সেই তিনিই হচ্ছেন সুদীর্ঘ চুরানব্বই বছর জীবনকালের অধিকারী রঙিন প্রগতিশীল মন-মানসিকতায় স্থিত স্যার জর্জ বার্নার্ড শ। তাঁকেই নিয়ে গড়ে উঠেছে এই গল্পোপন্যাস ‘কিসসা এক মুসাফির’, যা এক এনসান পুরুষের এন্তার কাহিনির কুদরত-কা কানুন।