সারারাত ঘুম হয়নি সাদিতের। গতকালই নতুন বাসায় উঠেছে সে। পুরোনো একটা দোতলা বাড়ি, পুরোনো হলেও তাঁর কোন আপত্তি নেই। গ্রাম থেকে এসেছে সাদিত, দোতলা বিশিষ্ট বাড়িতে যে সে ভাড়ায় থাকতে পারছে, এটাই তাঁর কাছে রাজকীয় ব্যপার।
ভোরে ঘুম ভাঙে সাদিতের। পুরো বাড়িতে কাউকে দেখতে না পেয়ে তাঁর মনে বেশ কৌতূহল জেগেছে। এই বাড়িতে প্রথম রাত কাটলো সাদিতের।
দেখা যাক না, কেমন কাটে পরের দিন গুলো। এই সব ভাবতে ভাবতে বারান্দায় আসলো সাদিত। বারান্দার এককোনে একটা পত্রিকা পড়ে আছে, দেশের প্রথম সারির একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা। চারিদিকে তাকিয়ে দেখে কেউ তো নেই। বাড়ির মুল ফটকে দারোয়ান আছে কেবল। সকালবেলা পাখির কিচিরমিচির ছাড়া আর কোন সাড়া শব্দ নেই। এত ভোরে কেউ ত এখানে আসার কথা না, তাহলে এই পত্রিকাটা কে রেখে গেলো। পত্রিকাটাও একেবারে তরতাজা। মনে হচ্ছে মাত্রই ছাপাখানা থেকে পত্রিকাটা কেউ এখানে রেখে গেছে। অথচ পুরো বাড়িতে আর কোন মানুষের চিহ্ন নেই। রাতটাও নিস্তব্ধতার ভিতর কাটছে সাদিতের। এবার কিছুটা ভয় কাজ করছে তাঁর। সামনে গিয়ে পত্রিকাটা হাতে নিলো সাদিত।
প্রথম পাতায় হেড লাইনে বড় করে লিখা:
শহরের সেই নির্জন বাড়িতে মিললো গলা কাটা লাশ!
বিস্তারিত: গ্রাম থেকে আসা সাদিত, প্রথম রাতেই খুন।
এতটুকু পড়েই সাদিতের চোখ কপালে। হাত পা কাঁপছে ওর। নিজের নির্মমভাবে খুন হওয়ার খবর সেই নিজেই পড়তেছে পত্রিকায়। অথচ সে এখনো জীবিত একটা মানুষ। সাদিতের গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।
সে আবার পড়তে লাগলো:
এই মূহুর্তে তার রুম থেকেই গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এটা পড়েই সাদিত দৌড়ে গেলো রুমের ভিতর। গিয়ে দেখে রুমের মেজেতে লেগে আছে রক্তের দাগ! রক্তে ভেজা বালিশ, তার নিচ বরাবর মেজেতে জমাট বদ্ধ হয়ে আছে রক্ত। সাদিতের চোখে মুখে আতঙ্ক, জ্ঞান হারানোর উপক্রম। জবাই করে একটা মানুষকে টেনে বাহিরের দিকে নিয়ে গেলে যেমন দাগ লেগে থাকে, তেমনি তাঁর রুম থেকে বারান্দার দিকে এমনই রক্তের দাগ দেখা যাচ্ছে। সাদিত চিৎকার করতে চাচ্ছে, কিন্তু তার গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছে না। নিজের খুনের আলামত সে নিজেই দেখতেছে। অথচ সে এখনো জীবিত এটার চেয়ে ভয়ংকর আর কি হতে পারে। সাদিত জানেনা কি হতে চলেছে তার সাথে। তাঁর চোখ রক্ত বর্ণ ধারণ করেছে। সে হাত থেকে পত্রিকাটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বাহিরের দিকে দৌড়াতে চাচ্ছে, কিন্তু তার পা যেন এগোচ্ছে না।
কাজী আমির হোসেন রিপন আপনার ঠিক পাশের বাড়ির ছেলেটা। জন্ম নোয়াখালী জেলা সেনবাগ থানার কাজির খীল গ্রামে। মাতা আনোয়ারা বেগম। এবং পিতা মুক্তার হোসেন। ১৯৯৪ সালের ২৫শে নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। প্রকৃত নাম মোঃ আমির হোসেন। বংশগত ভাবে তিনি কাজী বংশ। সাহিত্যে কাজী রিপন নামে সমাধিক পরিচিত। কাজী আমির হোসেন রিপন এর ছোটবেলা থেকে বেড়ে উঠা তাঁর নিজ বাড়ি, কালা কাজির বাড়িতেই ছোট বেলা কেটেছে। আর ছোটবেলা থেকেই তিনি গল্প, কবিতা, গান, ইসলামি সংগীত ও ছবি আঁকা পছন্দ করতেন। ছাত্র জীবন থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহু পুরুষ্কার অর্জন করেছেন। স্কুল জীবন থেকে লিখালিখি শুরু করলেও একাদশ শ্রেণিতে এসে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। তার প্রকাশিত বইসমূহঃ • ভালোবাসার হালখাতা (কাব্যগ্রন্থ) • গ্রামের সংসদ (গল্পগ্রন্থ) • অবেলায় (কাব্যগ্রন্থ) • মায়ের পানের বাটা (উপন্যাস)