প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 21 May 2026 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
"যে আগুন জ্বলে তা আর নেভেনা কভু" কথার সারধ্বনী হিসেবে এই বইটিতে উঠে এসেছে কালের এক অমোঘ ব্যঞ্জনা।
গণতন্ত্র থেকে খেলাফত কিংবা ফেরাউন থেকে মূসার ধারায় আমাদের এই দীর্ঘ রক্তে লেখা যে ইতিহাস গড়ে উঠেছে তারই একছটা স্বাদ দেবে বইটি। কেবল বন্ধুত্ব নয়, বরং দেশপ্রেম, ভূ-রাজনীতি এবং সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলো কিশোর-তরুণদের উপযোগী করে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। লেখক এক্ষত্রে সফল হয়েছেন।
গল্পের এক পর্যায়ে হাদী এমন এক নেতৃত্বে আসীন হয়, যেখানে সে হযরত ওমর এর আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করার চেষ্টা করে।
বইটি মূলত টানবে তরুণ প্রজন্মকে, তাদের ইতিহাস সচেতন হতে এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে গর্ব করতে অনুপ্রাণিত করবে।
বইটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে দুই বন্ধু সোলায়মান হাদী ও ইমতিয়াজ ওসমান কে কেন্দ্র করে, যারা রসূলপুর কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞানের ছাত্র। গ্রামের কলেজে পড়লেও তারা সমসাময়িক বিশ্ব ও প্রযুক্তি সম্পর্কে বেশ সচেতন।
গল্পের শুরু হয় যখন হাদীর মামা ফয়সাল আহমেদ যিনি দিল্লিস্থ বাংলাদেশি দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার—হাদীর জন্য উপহার হিসেবে দিল্লি থেকে এক জোড়া ময়ূর কিনে আনেন। ময়ূরের সৌন্দর্যে এলাকাবাসী মুগ্ধ হলেও হাদীর চোখে এটি কেবল একটি নিছক সাধারণ উপহার নয়।
সাংস্কৃতিক কূটনীতি ও ন্যায্যতা: ওসমান ময়ূর উপহার দেওয়ার বিষয়টিকে ভারতের "সাংস্কৃতিক দাদাগিরি" হিসেবে অভিহিত করে। সে যুক্তি দেয় যে, ভারত যদি বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল উপহার দিত, তবে তা বেশি যথাযথ হতো।
ঐতিহাসিক সংযোগ: ওসমান "সাংস্কৃতিক ন্যায্যতা"র ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম, তিতুমীর বা নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্মৃতিচিহ্নের কথা উল্লেখ করে, যারা উভয় দেশের ইতিহাসের সঙ্গেই যুক্ত। সে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের উদাহরণ দিয়ে বলে যে, ষাটগম্বুজ মসজিদের রেপ্লিকা উপহার দেওয়া একটি সঠিক কূটনৈতিক কাজ, কারণ এর স্থাপত্যে তুর্কি প্রভাব রয়েছে যা দুই দেশের ৬০০ বছরের পুরনো বন্ধুত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়।
সংকট: গল্পের মোড় ঘোরে যখন ময়ূর দুটি উড়ে পাশের বাঁশবাগানে চলে যায় এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে জানান যে ময়ূর বন্যপ্রাণী হওয়ায় তা ব্যক্তিগতভাবে লালন-পালন করা আইনত দণ্ডনীয়।
কোনো রকম রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত অারোপিত পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই, শুধুমাত্র নিরন্তর পরিশ্রমের কারণে স্বার্থান্ধ রাজধানীতে টিকে গেছেন অামিরুল মোমেনীন মানিক ৷ তাঁর কোনো পলিটিক্যাল উইশ নেই ৷ অাছে সোশাল কমিটমেন্ট ৷ মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের অাদর্শকে তিনি সবসময় সামনে রাখেন ৷ মানিক, সাংবাদিকতা-সঙ্গীত-সাহিত্যের মধ্য দিয়ে মূল্যবোধসম্পন্ন ও যুক্তিনির্ভর মানব সমাজের স্বপ্ন দেখেন ৷ গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে তাঁর ইউনিক দিক হচ্ছে-এক সাথে তিনি মেঠো রিপোর্টিং, জীবনবাদী গান, টক-শো সঞ্চালনা, খবরপাঠ ও গদ্য লেখেন ৷ দেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অামিরুল মোমেনীন মানিককে অাখ্যা দোয়া হয় হয় 'শুদ্ধ উচ্চারণের সংবাদকর্মী' হিসেবে ৷ টিভি সাংবাদিকতায় মানিকের হাতেখড়ি ভারতের এনডিটিভির নির্বাহী প্রযোজক অভিজিৎ দাশুগুপ্তের কাছে ৷ গানের ক্ষেত্রে তিনি ক্ষুদ্র হলেও অালাদা ধারা তৈরী করেছেন ৷ মানিক এর নাম দিয়েছেন-মানুষমুখী গান ৷ অবশ্য প্রচলিত গণমাধ্যম তাঁকে বলে 'ব্যতিক্রমী গানের শিল্পী'৷ অবাক শহরে ও অায় ভোর তাঁর বিপুল অালোচিত এ্যালবাম ৷ ছোটবেলায় কবিতার নামে ছাইপাশ লিখতেন ৷ এখন সচেতনভাবে এটা এড়িয়ে চলেন ৷ সোজাসাপ্টা গদ্য লেখেন ৷ সমাজের অসঙ্গতি চোখে অাঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন ৷ তাঁর লেখা 'বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় স্টুপিড শিক্ষক' ছিলো বইমেলায় তরুণদের মধ্যে দ্বিতীয় সবোর্চ বিক্রিত বই ৷ কিংবদন্তি নচিকেতার সঙ্গে তাঁর ভিডিও গানের কৃতিত্ব এপার বাংলা ওপার বাংলায় প্রথম ৷ ২০১৬ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারীতে টিভি সাংবাদিকতায় মানিকের ১০ বছর পূর্ণ হচ্ছে ৷ এর অাগে স্কুল সময়ের ৫, কলেজ বেলার ২, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫, পেশাগত জীবনের ১০; টোটাল ২২ বছরের লড়াই ৷ অামিরুল মোমেনীন মানিক সাংবাদিকতায় পেয়েছেন সম্মানজনক পুরস্কার 'ইউনেস্কো ক্লাব জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড '৷ শুধুমাত্র অন্তহীন কর্মতৎপরতার কারণে তাঁর কিছু শত্রুও তৈরী হয়েছে ৷ মানিক এদের নাম দিয়েছেন- বেকুব নপুংসক ৷ তবে শুভাকাঙ্ক্ষীরাই তাঁর কাজের মূল প্রেরণা ৷ পেয়েছেন উদীচী ইতিাস প্রতিযোগিতা পুরস্কার, রিপোর্টার্স ইউনিটি লেখক সম্মাননা, সাঁকো এ্যাওয়ার্ড, মৃত্তিকা পদকসহ বেশ কিছু পুরস্কার ৷ প্রফেশনালিজ ও প্র্যাগমাটিজম, তাঁর সারাজীবনের ধ্যান ৷ ২০১৬ সালে অামিরুল মোমেনীন মানিকের মূল শ্লোগান- বাঁচো এবঙ বাঁচাও ৷