এই বইটি কোনো তৎক্ষণাৎ উত্তরের খোঁজে লেখা নয়-এটি লেখা হয়েছে সময়ের একটু আগেই দাঁড়িয়ে। যেখানে বর্তমানের প্রশ্নগুলোকে ছাপিয়ে ভবিষ্যতের ছায়া স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মানুষ চিরকালই ভালো থাকার আকাঙ্ক্ষায় অর্থের পেছনে ছুটেছে। সাধারণ জীবনে থাকলে আয়েশকে অপারগতা না ভেবে অপ্রয়োজনীয় ভেবে দূরে সরিয়ে রেখেছে, আবার সবকিছু হাতে এলে অজান্তেই সেই আয়েশ কিনে নিয়েছে টাকার বিনিময়ে। এই যাত্রাপথে প্রযুক্তি ছিল নীরব সঙ্গী-কখনো দৃশ্যমান, কখনো অদৃশ্য।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ নয়, বরং সবচেয়ে গভীর বাঁক। প্রায় সাত দশক আগে কিছু গবেষকের চিন্তার বীজ আজ এমন এক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে, যা ব্যবসা, সৃজনশীলতা ও মানবিক শ্রমের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছে। অথচ এই পরিবর্তনের মুহূর্তে আমরা দ্বিধায় দাঁড়িয়ে-কারণ শক্তির সঙ্গে এসেছে ভুল ব্যবহারের ভয়, নীতিহীন প্রয়োগের আশঙ্কা, আর ক্ষণস্থায়ী খ্যাতির নেশা।
এই বই এআইকে কোনো যন্ত্র হিসেবে দেখার তাড়াহুড়ো করে না। বরং সময় নিয়ে বোঝাতে চায়-এটি কীভাবে একটি যুগের মানসিকতা বদলে দিতে পারে। দায়িত্বহীন প্রয়োগে কীভাবে সমাজের ভেতর সূক্ষ্ম ক্ষয় শুরু হয়, আবার সঠিক জ্ঞানে কীভাবে একই প্রযুক্তি মানুষের পরিশ্রম কমিয়ে তাকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলে। এখানে প্রশ্ন আছে, সম্ভাবনা আছে, সতর্কতা আছে কিন্তু আতঙ্ক নেই।
একটা উদাহরণ হিসেবে যদি বলি, আমরা চিত্রশিল্প শেখার ক্ষেত্রে শুধু আঁকাই শিখি না, শিল্পের ইতিহাস ও দায়ও বুঝে নিই। ঠিক তেমনই এই বই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের আলোয় রেখে দেখার এক প্রচেষ্টা। আজকের নয়, আগামী দশ বছরের কথা ভেবে লেখা কিছু চিন্তা। যেগুলো ধীরে ধীরে পাঠকের ভেতর নিজের জায়গা করে নেবে।
এটি শুধু একটি বই নয়, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও বাস্তবতার যোগসূত্রের এক গভীর চিন্তাভাবনার দলিল।
প্রান্ত-যার প্রকৃত নাম মোঃ মশিউর রহমান। তিনি বাংলাদেশের বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানার নগরবাড়ি গ্রামে ১৯৮৩ সালের ২১ ডিসেম্বর একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবকাল থেকেই তাঁর মধ্যে শিল্পীসত্তার স্পষ্ট প্রকাশ ঘটে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের কারুশিল্প বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে বিএফএ ও এমএফএ ডিগ্রি অর্জন করেন। স্কুলজীবনেই সংগীতের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় ঘটে। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যায়তনে লোকসংগীতচর্চা করেন এবং প্রথম স্থান অধিকার করেন। যদিও বাস্তব জীবনের ব্যস্ততায় নিয়মিত সংগীতচর্চা সম্ভব হয়নি, তবুও ভবিষ্যতে আবার সংগীতচর্চায় সক্রিয় হওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা। ২০০২ সাল থেকে তিনি শোবিজ অঙ্গনে কাজ শুরু করেন। কাজের আগে বিষয়টি ভালোভাবে শেখা ও বোঝার গুরুত্ব উপলব্ধি করে ২০০৬ সালে প্রাচ্যনাট স্কুল অ্যান্ড একটিং কোর্স সম্পন্ন করেন। ক্যামেরার সামনে ও পেছনে-উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর দক্ষতা সমান। বিজ্ঞাপন নির্মাণ ও সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরিতে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর নির্মিত ১৪টিরও বেশি সচেতনতামূলক ভিডিও ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। ছাত্রজীবনেই ২০০৩ সালে Green Field Toons নামক কার্টুন ফার্মের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে গ্রাফিক্স ও অ্যানিমেশন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে ২০০৯ সালে একুশে টেলিভিশনে ফুলটাইম গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি বৈশাখী টিভি, গাজী টিভি, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি ও নেক্সাস টিভিতে কাজ করেন এবং বর্তমানে দীপ্ত টিভিতে কর্মরত। বর্তমানে তিনি এআই কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও বিশ্লেষণে সক্রিয়। এআইয়ের সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি অনলাইনে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন। তাঁর বিশ্বাস-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এক সম্ভাবনাময় আশীর্বাদ