বাস্তবতা, সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে লেখা কবিতাগুলোতে রয়েছে—রাজনীতি, মানুষের চরিত্র, দর্শন, প্রতিবাদ, জীবনের ক্ষণস্থায়ী প্রকৃতি ও রাষ্ট্রের কথা, যা স্মৃতির নস্টালজিয়াকে রূপক ও চিত্রকল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন কবি। পাঠক নির্বাচিত এ কাব্যগ্রন্থটি পড়লে আরও পাবেন সময়ের সাথে মানুষের সংঘাত, বিবর্তন ও স্মৃতির গভীরতা।
গোষ্ঠ বিহারী সাহা একজন শিক্ষক বলে তিনি এ বইয়ের পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় সময়কে ধারণ করে কবিতাগুলো সম্পন্ন করেছেন। মুনশিয়ানার সঙ্গে যেন একটা বাংলাদেশকে এঁকেছেন তিনি। অন্যদিকে মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, স্নেহ এবং প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে তিনি যুক্ত করেছেন কিছু ছড়া-কবিতা। সাধারণত মাতৃত্বের গভীর অনুভূতি ও প্রকৃতির সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের কথা নানা মাধ্যমে থাকলেও কবি তাঁর ‘নির্বাচিত কবিতা’ বইয়ে—দায়িত্ব ও বিনয়ের সঙ্গে ছড়া-কবিতাগুলো তুলে ধরেছেন।
প্রেম, যুদ্ধ, বিরহের প্রকাশকে কিছুটা পাশে রেখে—একজন নিভৃতচারী গোষ্ঠ বিহারী সাহার মরমি বোধের যে নিজস্ব শক্তি রয়েছে, তা মূলত এ গ্রন্থে তিনি প্রকাশ ঘটিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন কবি হিসেবে তাঁর নির্বাচিত কবিতা’য় এক স্বতন্ত্র ও আলাদা বিবেচনার দাগ রেখেছেন।
নির্বাচিত এই বইটিতে ৭৮টি কবিতায় কবির নিজস্ব কাব্যশৈলী, গভীর জীবনদর্শন, প্রকৃতিপ্রেম এবং সময়ের চেয়ে এগিয়ে নিজের চিন্তাকে পঙক্তির মাধ্যমে বোঝাতে পেরেছেন বলে তিনি তাঁর ছাত্র এবং পাঠকের কাছে স্মরণে থাকবেন এটা বিশ্বাস করি। কারণ কবি গোষ্ঠ বিহারী সাহা তাঁর নির্বাচিত কবিতা’য় বিস্ময় ও প্রশ্নবোধক চিহ্ন রেখে—বিশ্বাসের কথা অনেকটাই বলে দিয়েছেন।