'পাহাড়ের ওপার থেকে কনকনে হিম ঠাণ্ডা বাতাস আসছে। তখন লক্ষ করলাম রাস্তার ওপাশে একটি মেয়ে ফ্লাস্কে চা বিক্রি করছে। আমি হাঁটতে হাঁটতে রাস্তা পার হয়ে আনমনে তার কাছে গিয়ে চায়ের অর্ডার করলাম। হাত বাড়িয়ে চা নিতে গিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে 'ওই জিনিস' খাইলাম। কনে দেখা আলোয় ঝলমল করছে মেয়েটি! মনে হচ্ছে ক্লিওপেট্রা, হেলেন কিংবা মোনালিসার তাবৎ সৌন্দর্য তার উপর ঢেলে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মেয়েটিকে।' নারীর অপার সৌন্দর্য বর্ণনার গভীর অনুধ্যানের সময় যোগীর চেতনায় সাম্প্রতিক যুবক-যুবতীর হঠাৎ দেখা বিমোহনজাত শব্দ 'ক্রাশ'কে শফিক আশরাফ রসবোধের উপজাত হিসাবে 'কাশ' খাওয়া হিসাবে ব্যবহার করেছেন অবলীলায় 'ভুটান: পাশের বাড়ির সুন্দরী' গ্রন্থের পাতায়। নারী ও প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনার মুন্সিয়ানায় বইটি একটা নান্দনিক উপস্থাপন তো বটেই; উপরন্তু ভুটান যাত্রার প্রাথমিক স্তর যেমন ভারতীয় হাইকমিশন থেকে ট্রানজিট ভিসা সংগ্রহ, দ্রুত ভিসা পাওয়ার কায়দা, বুড়িমারী সীমান্ত অতিক্রমের কায়দা-কানুনসহ ভুটান ভ্রমণের অন্যান্য সকল বিষয় এই গ্রন্থপাঠে জানা সম্ভব।
লেখক-অধ্যাপক শফিক আশরাফ ১০টি পর্বে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনার মধ্য দিয়ে তাঁর নান্দনিক অভিব্যক্তি প্রকাশের পাশাপাশি ভুটান যাত্রায় আগ্রহীদের জন্য বিরাট উপকার করেছেন বলেই আমার বিশ্বাস। এই কাজটি দুইদিক থেকে বিচার করা যায়: এক. ভুটানের মানুষের আচরণ, সৌন্দর্য এবং বিনয়ের পাশাপাশি আতিথ্যের কৌলিন্য; দুই. প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য বর্ণনা এবং ভ্রমণ-সঞ্জাত স্থানিক ও কালিক ঐতিহাসিক-প্রত্নতাত্ত্বিক অভিজ্ঞান।
সার্টিফিকেট নাম শফিকুর রহমান। জন্ম উত্তাল একাত্তরের ৬ আগস্ট, টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানার নিজগ্রাম সিঙ্গাইরের অদূরবর্তী কাজিবাড়ি গ্রামের শেওড়াতলা কবরস্থানে। ১৯৯০ সালে বল্লা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে ময়মনসিংহের প্রখ্যাত আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে মানবিক বিদ্যা শাখায় উর্ত্তীণ হন ১৯৯২ সালে। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগে থেকে স্নাতক সম্মান এবং এম.এ তে সাফল্যের সাথে ১ম স্থান অধিকার করেন; ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে স্টাডিজ (আইবিএস) থেকে পি-এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন ২০০৮ সালে। কবি শামীম নওরোজ, ফারুক আকন্দ এবং শফিক আশরাফ এই তিন বন্ধু মিলে চিহ্ন ছোটকাগজ বের করেন ২০০০ সালে। পরবর্তীতে এই পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে চিহ্ন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের খ্যাতনামা ছোটকাগজ। প্রখ্যাত কবি ও কথাসাহিত্যিক শিমুল মাহমুদ সম্পাদিত কারুজ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পি-এইচ.ডি গবেষণা কর্মটি বাংলা একাডেমি বাংলাদেশের গ্রাম ভিত্তিক ছোটগল্পে জীবন, সমাজ ও সংস্কৃতি (১৯৪৭-২০০০) শিরোনামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে ২০১৩ সালে। কালের কণ্ঠ পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখক হিসেবেও তাঁর খ্যাতি রয়েছে। তিনি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।