মানুষের সবচাইতে বড় অসহায়ত্ব কোথায় জানেন? সময়।যেটা আমরা চাইলেই কালকের দিনে ফিরতে পারি না, বা চাইলেই তিরিশ বছর আগের কোনো ভুল জীবন থেকে শুধরে নিতে পারি না।
কিন্তু কালিম্পংয়ের সেই কুয়াশাঘেরা জরাজীর্ণ ‘নীলকুঠি’র নিয়মগুলো একটু ভিন্ন।
সেখানে বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেই মৃ/ত ল্যান্ডলাইন ফোনটা হঠাৎ সজাগ হয়ে ওঠে। ওপাশ থেকে ভেসে আসে এমন একজনের কণ্ঠস্বর, যে আজ থেকে প্রায় তিরিশ বছর আগেই ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গিয়েছিলো।
নীলা বন্দ্যোপাধ্যায়—১৯৯৬ সালের এক মায়াবী সুরেলা কন্ঠের কিশোরীর নাম।
আর এপাশে দাঁড়িয়ে আছে ২০২৬ সালের এক নিঃসঙ্গ তরুণ বিজ্ঞানী তমাল আহমেদ।
মাঝখানে ২৯টি বসন্তের এক বিশাল শূন্যতা রয়েছে। তমাল তার লেজার রশ্মি দিয়ে কক্ষের অন্ধকার চিরে যখন নীলার আবছা ছায়াটা দেখতে পায়, তখন সে আর কোনো বিজ্ঞানী থাকে না, সে তখন হয়ে যায় একজন প্রেমিক। যে ছায়াটাকে ছোঁয়া যায় না, যে প্রতিধ্বনিকে জাপ্টে ধরা যায় না, তার জন্য এক তীব্র দহনে পুড়তে থাকে আধুনিক যুগের এই শ্রেষ্ঠ মেধাবী বিজ্ঞানী তমাল।
তমালের হাতে আছে নীলার সেই আধপো*ড়া ছেঁড়া ডায়েরিটা। সে জানে, এই ডায়েরির শেষ পাতাটা কত ভয়াবহ। সে জানে, এই মায়াবী মেয়েটার আয়ু আর মাত্র ক’দিনই।
ওপাশে নীলা যখন অবিশ্বাসের হাসি হাসতে থাকে, এপাশে তমাল তখন সারাক্ষন বিরহে কাতর হয়ে থাকে। এক অদ্ভুত অসম লড়াই শুরু হতে থাকে তখন। একদিকে মহাকালের অমোঘ নিয়ম, আর অন্যদিকে এক প্রেমিকের মর*ণপণ জেদ।
এটা কি শুধুই বিজ্ঞান? নাকি সময়ের ওপার থেকে আসা এক অসম্পূর্ণ ভালোবাসার আহ্বান? তমাল কি পারবে আগুনের হাত থেকে নীলাকে ছিনিয়ে তার বর্তমান সময়ে আনতে? নাকি মহাকালের নিয়মে নীলা কেবল এক টুকরো পোড়া স্মৃতি হয়েই রয়ে যাবে নীলা আজীবন?
সময়ের চাকা কি উল্টো ঘুরবে? নাকি এই ‘শূন্য ডায়াল’ কেবল এক দীর্ঘশ্বাসের গল্প হয়েই থেকে যাবে?
সাবিলা সাবি—পুরান ঢাকার বাসিন্দা, বাবা–মায়ের একমাত্র সন্তান। ২৩+ বয়সে তিনি ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হলেও, লেখালেখির প্রতি তাঁর আবেগ অনেক গভীর ও ব্যক্তিগত। নিজের কল্পনা, অনুভূতি ও জীবনের অভিজ্ঞতাকে তিনি গল্পের ভাষায় ফুটিয়ে তুলতে ভালোবাসেন।
“আযদাহা” তাঁর লেখা প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস—একটি কল্পবিজ্ঞান, প্রেম ও রহস্যের অনন্য মিশেল।
এ ছাড়া তাঁর প্রকাশিত ইবুকের তালিকায় রয়েছে—
আযদাহা
অ্যাথানাসিয়া
তরুণী লেখিকা হিসেবেই নয়, বরং নতুন গল্প নতুন ভাবে বলার সাহসী প্রচেষ্টার জন্যও সাবিলা সাবি পাঠকদের নজরে দ্রুতই জায়গা করে নিচ্ছেন