আসলে মেটিকুলাস ডিজাইন কাজ করার একটা পদ্ধতিমাত্র। আর এই শব্দটার পারিভাষিক অর্থটা হলো নিখুঁত নকশা। আমরা তো আসলে সবাই জানি যে যেকোনো কাজ সঠিকভাবে করে তার সর্বোচ্চ ফল লাভ করার জন্য কাজটিকে সব দিক থেকে সঠিকভাবে করতে হয়। এটাকে আমরা বিভিন্ন ভাষায় বলি―কেউ বলি ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাপ্রোচ বলতে গেলে মেটিকুলাস ডিজাইনের ধারণাটা আমাদের আছে।
একসময় আমরা সফল ও বড় মানুষদের জীবনী পড়তাম সফল ও বড় হওয়ার জন্য। কোনো সন্দেহ নেই, তাতে আমাদের স্বপ্ন শক্ত হয়, অনেক কিছু জানা যায় এবং ক্লুও পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশ-কাল-স্থান ও পাত্রভেদে প্রত্যেকের দুর্বলতা এবং সবলতা এক নয় এবং বিস্তারিতে প্রত্যেকের কৌশলও এক নয়। কিছু মৌলিক মিল থাকলেও প্রত্যেক মানুষ আসলে তার মতো করে নিজের রাস্তা তৈরি করে নেয়।
তা না হলে একটি পদ্ধতি শিখলেই হয়ে যেত। একজনের জীবনী পড়লেই রহস্য ভেদ করা যেত। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। তাই কোনো একটি বিষয় যখন বিভিন্নভাবে বিভিন্ন দিক থেকে বিস্তারিত জানা যাবে, কোনো একটা কৌশল হয়তো কারও মস্তিষ্কে জমা হয়ে যেতে পারে। সেখান থেকে বদলাতে পারে মানুষের জীবন। আমার প্রথম বই বের হওয়ার আগে আমার অন্তর্জালে লেখা পড়ে একবার একজন আমার সাথে দেখা করতে এসেছিলেন। তখন তিনি আত্মহত্যার কথা ভাবছিলেন। আমি তাকে অনেক সময় দিয়ে তার সাথে তার আত্মহত্যার বিষয়টি বাদ দিয়ে দুনিয়ার নানা বিষয়ে নানা গল্প ঘটনার আলাপ করি। কিন্তু আমার মাথায় মূলত ছিল তার মাথায় সুন্দর ভাবনাগুলো ফুটিয়ে তোলা, তাকে স্বপ্ন দেখানো। তিনি খুব ভালো আছেন। পরে আমি এ বিষয়ে একটি বই লিখেছিলাম ‘সুন্দর এই বেঁচে থাকা’ শিরোনামে।
আর সে জন্যই এই বই। মেটিকুলাস ডিজাইনের অর্থ ও তাৎপর্য বুঝলেও এটিকে বাস্তবায়ন করার জন্য আমি প্রায় এক বছর সময় নিয়ে এই পাণ্ডুলিপিটি তৈরি করি। এতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের কথা চিন্তা করা হয়েছে। রাজনীতি, ধর্ম, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান আবিষ্কার, প্রযুক্তি, এআই নানাবিধ উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, বলে দেওয়া হয়েছে কর্মপদ্ধতি। এটা মেটিকুলাস ডিজাইনের মানচিত্র বলা যায়।
সাথে সাথে কোথায় তিনি মেটিকুলাস ডিজাইন ব্যবহার করবেন এবং কোথায় করবেন না এবং কোথায় কতটুকু করবেন, কোথায় থামবেন সেটাও অনুধাবন করা দরকার। এসব বিষয় আলোচনা করতে গিয়ে যতগুলো আমার মাথায় এসেছে তত ধরনের উদাহরণ আমি উল্লেখ করেছি। যার সংখ্যা প্রায় ২০০ বা তার বেশি। যেগুলো আমি বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, ইন্টারনেট এমনকিকিছু কিছু ক্ষেত্রে এআইয়ের সাহায্য নিয়ে একত্র করেছি, কিছু বিষয় যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে নিয়েছি।
কেউ যদি মেটিকুলাস ডিজাইনের বিভিন্ন দিক ভালো করে একবার বুঝে নেন, তার জীবনে এটা কোথাও না কোথাও অথবা সব ক্ষেত্রে কাজে লাগবে, কখনো চেতন মনে কখনো অবচেতন মনে। কারণ যখন আমাদের মাথায় কিছু ঢুকে যায় তখন আমরা সেটা কখনো কখনো অবচেতন মনে আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে থাকি।
তাই এটা একটা কাজের এবং সর্বজনীন পাঠ্যবই হতে চলেছে। বাকি কথা বইয়ে হবে।
এই প্রবন্ধটি আমাকে এ বইটি লিখতে অনুপ্রাণিত করে। আর বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিয়ে এর আলোচনা আমাকে উৎসাহ জোগায়। আর যখন আমার ব্লগ shovnio.com-এ পাঠক প্রতিদিন মেটিকুলাস ডিজাইন-সংক্রান্ত লেখাগুলো পড়েন, তখন এগুলোকে আরও উন্নত করে বইয়ে আনার কথা ভাবি।
বইয়ের ভাষায় আমি আমার নিজস্বতা এবং পরে ইংরেজি অনুবাদ যেন সহজে করা যায় সেটা বিবেচনা করে বাক্যের কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করেছি। বেশ কয়েকবার সম্পাদনা করে ইংরেজি শব্দের ব্যবহার কমাতে চেষ্টা করেছি।
এই বইয়ের সাথে সকল সহযোগীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সৃজনশীল কাজের জন্য ব্যক্তিগত জীবন থেকে সহযোগিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আমার মায়ের উৎসাহ ও সহধর্মিণীর সহযোগিতা বরাবরই আমি কোনো প্রকার ঘাটতি ছাড়াই পাই। তাই তাদের কথা না বললেই নয়।
কাজ এবং ভুল এই দুটো একসূত্রে গাঁথা, তাই এ বইয়ে কোনো ধরনের ভুল না-থাকা অস্বাভাবিক। তবে পাঠকের কাছে অনুরোধ, পাঠক ভুলটাকে বড় করে না দেখে সদিচ্ছাকে বড় করে দেখবেন। অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য অগ্রিম অনুগ্রহ ও ভবিষ্যতে তা শুধরে নেওয়ার জন্য এ যাত্রায় সহযোগিতা ছাড়া আর কী চাইতে পারি?