বন্ধক দিবো মন বইতে দারিদ্র মিজান মাহমুদ তার কবিতায় বাস্তবধর্মী জীবনের এক চিত্রকে তুলে ধরেছেন। তিনি মানুষের বর্তমান জীবনের বাস্তব ঘটনাকে কাগজের জমিনে বাবুই পাখির মতো সুনিপুণ কারিগর হিসাবে মনের মাধুরি দিয়ে বুনন করেছেন। তিনি সৃষ্টি করেছেন ছিদাম মাঝি, নিশি পাল, অঞ্জলি ও সেনবাড়ির বাস্তব কাহিনি। আবার টেনশন ও মোবাইলের কারণে কবিতায় ঘুনেধরা সমাজের কথাই তিনি তুলে ধরেছেন। পাহাড়ি নারীর প্রেম, ভালোবাসা ঋণ দেওয়া, হৃদয়ের দুঃখকে বিনিময় করা, মনকে বন্ধক দেওয়া, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান সমাজে মানুষের জটিল মনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তার এই গ্রন্থে। তাই তাকে বাস্তববাদী কবি বলা হয়।
আবার বিশ্বের শাসন ব্যবস্থাকে ভেঙেচুরে নতুন করে জাতিসংঘকে তৈরি করার যে প্রতিবাদ তা তার কবিতায় তুলে এনেছেন। মূলত তার লেখনীতে বিশ্বের অবিচার, অন্যায় ও জুলুমের বাস্তব চিত্রই ফুটে উঠেছে।
দারিদ্র মিজান মাহমুদ তার কবিতায় মনের আগাছাকে দূর করা এবং লজ্জা কিছু কিনে নতুন করে সফটওয়্যার মানুষের মনে ইন্সটল করতে বলেছেন।
কবি গাজার ধ্বংসের কথা, ইহুদিদের শয়তানী ও মধ্যপ্রাচ্যকে ধবংসের কথা তার কবিতায় প্রতিবাদী কলমে তুলে ধরেছেন।
এই বইয়ে উঠে এসেছে বাংলার সমাজ, ইতিহাস, মানুষ ও হৃদয়ের গভীর অনুরণন। ভাষা সহজ, কিন্তু অনুভূতি গভীর; চিত্রকল্প প্রাণবন্ত, অথচ বেদনাভরা। পাঠকের মনে নষ্টালজিক, তীব্র মমতা আর ভবিষ্যতের আশার আলো একসাথে জাগিয়ে তোলাই এ বইয়ের কাব্যিক শক্তি।
এই গ্রন্থে কবি যেমন স্মরণ করেছেন দেশ এবং স্বাধীনতাকে, তেমনি আহ্বান করেছেন দেশের মানুষকেÑ নিজের শিকড়, ভালোবাসা ও মানবতার কাছে ফিরে যেতে। এক কথায় বন্ধক দিবো মন তার হৃদয় নিংড়ানো এক অন্যন্য সৃষ্টি।