User login

Sing In with your email

Email Address
Password
Forgot Password?

Not Account Yet? Create Your Free Account

Send

Recipients:
Message:

Share to your friends

Copy link:

    Our Price:

    Regular Price:

    Shipping:Tk. 50

    • Size:
    • Color:
    QTY:

    প্রিয় ,

    সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
    মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?

    Please Login to Continue!

    Our User Product Reviews

    Share your query and ideas with us!

    Customer Reviews

      By Abdullah Ahmed

      11 May 2026 11:30 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      এই উপন্যাসের শেষ কাহিনী দিয়ে লেখক আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। যদিও শেষ কাহিনীটি কষ্টের ছিল। "কাছের মানুষ একসময় দূরের মানুষ হয়ে যায়।"এটাই হয়তো প্রকৃতির নিয়ম, যার বেড়াজালে সমগ্র মানুষ বাস করে। লেখক কে অত্যন্ত ধন্যবাদ জানাই।

      By Habiba Sultana

      25 Oct 2021 11:45 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      #chondrovuk_rokomari_book_club_review_2021 বইয়ের নাম : কাছের মানুষ দূরের মানুষ লেখক : পিওনা আফরোজ প্রকাশনী : চন্দ্রভুক প্রচ্ছদ : সেলিম আহমেদ ধরন : সমকালীন উপন্যাস প্রকাশকাল : ডিসেম্বর,২০২০ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৩৮ মুদ্রিত মূল্য : ২৮৫ টাকা রিভিউ দাতা : হাবিবা সুলতানা রেটিং : ৪.৫/৫ ◾লেখক পরিচিতিঃ ফাল্গুনের আগমনীতে ( ১৩ই ফেব্রুয়ারি) নবাগত ও সম্ভাবনাময় লেখক পিওনা আফরোজ জন্মগ্রহণ করেন। ফাল্গুনের সূত্র ধরেই হয়তো সুমিষ্ট কন্ঠের অধিকারী হয়েছিলেন। যারপরনাই পরবর্তীতে আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন । আবৃত্তি ও কবিতা প্রেমের সূত্র ধরেই লেখালেখির জগতে তিনি পদার্পণ করেছেন। বিভিন্ন দৈনিক ও সাময়িকী এবং অনলাইন সাহিত্য পত্রিকায় কবিতা, গল্প প্রকাশিত হলেও তার প্রথম মৌলিক বই "কাছের মানুষ দূরের মানুষ" এর মাধ্যমে পাঠক হৃদয়ে জায়গা করে নেন। এরপর কয়েকটি সংকলনের সম্পাদনা করেন। 'নিহত জ্যোৎস্না' নামে তার আরেকটি মৌলিক বই রয়েছে। ◾প্রচ্ছদঃ আপাত দৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও ছায়ায় ঘেরা মানব-মানবীর অবয়বের মাঝের দূরত্ব কিংবা ঝরে পড়া পাতাগুলো যেন ইঙ্গিত দেয় পুরো উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তুর। ◾উৎসর্গঃ লেখিকা বইটি উৎসর্গ করেছেন তার মাকে। উৎসর্গপত্রে লিখেছেন,"আমার মা ইয়াসমিন আক্তার। যিনি আমার সকল কাজের অনুপ্রেরণা।" ◾সার-সংক্ষেপঃ বইটি ৩০ টি অনুচ্ছেদে বিভক্ত। ◾প্রেক্ষাপটঃ স্বার্থ কিংবা লোভ খুব কাছের মানুষকেও যোজন যোজন দূরে সরিয়ে নেয়। যার ফলে চেনা মানুষেরাও একদিন অচেনা হয়ে যায়। নিঃসঙ্গভাবে পৃথিবীতে আসা মানুষগুলো জীবনের একটা সময়ে একা হয়েই ফিরে যায়। এরূপ নিষ্ঠুরতম বাস্তবতার নিরিখে রচিত হয়েছে উপন্যাসের প্লট। ◾নামকরণের স্বার্থকতাঃ 'জীবনের কোনো এক পর্যায়ে গিয়ে অথবা দুঃসময়ে কাছের মানুষ দূরের মানুষ হয়ে যায়' সম্পর্কের এই জটিল ধাঁধাকে কেন্দ্র করে বইয়ের নামকরণ করা হয়েছে "কাছের মানুষ দূরের মানুষ"। ◾চরিত্রঃ মিনারা ও মাহমুদের দাম্পত্যজীবন নিয়েই উপন্যাসটির পটভূমি রচিত হয়েছে যেখানে মামুন,মায়া,ফিরোজ, নীলা ও রত্নার মতো চরিত্রেরা ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে এবং উপন্যাসটিকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। ◾পাঠ-পর্যালোচনাঃ নিঃসন্তান দম্পত্তি মিনারা আর মাহমুদের ভালোবাসাবাসির মধ্য দিয়ে উপন্যাসের সূচনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় ঘটে মায়া, মামুন ও ফিরোজের সাথে। তাদের জীবনের একাকিত্ব, প্রেম, বিশ্বাস, অবিশ্বাস,ভালোবাসা,ভয়,সংসার, নির্ভরশীলতা কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েনে এক বিচিত্রতার সৃষ্টি হয়। চিরায়ত নিয়মে সম্পর্কের বাঁধন ছিন্ন করে পাড়ি জমাতে হয় পরপারে। শুরু হয় হারানোর বেদনার সাথে মানসিক দ্বন্দ্ব। একাকিত্বের সেই সময়ে যাদের খুব বেশি কাছে পাওয়া প্রয়োজন তারাই সরে যায় যার যার স্বার্থচিন্তায়। চেনা মানুষগুলো ক্রমশ অচেনা হয়ে উঠে সময়ের ব্যবধানে। ◾পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ সময়ের ব্যবধানে সম্পর্কগুলোর মাঝে যে দূরত্বের সৃষ্টি হয় তাই যেন সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে লেখকের সুনিপুণ লিখনশৈলীতে। উপন্যাসে লেখকের পটভূমি উপস্থাপন, চরিত্রায়ন ও ঘটনাপ্রবাহ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ◾পছন্দের কিছু বাক্যঃ ১. জীবন মানুষকে যা শেখায় তা কোনো বইয়ের পাতায় লেখা থাকে না। ২. দুনিয়া ভইরা স্বার্থের খেলা, স্বার্থ ছাড়া কিছুই নাই। ৩. জীবনের বেশিরভাগ খারাপ পরিস্থিতির জন্যই আমরা প্রস্তুত থাকি না। জীবনে খারাপ সময় কোনো পূর্বাভাস দিয়ে আসে না। ৪. আসলে ভালোবাসলেই মানুষ নির্ভরশীল হতে থাকে। সুখ-দুঃখ,ব্যথা-কান্না সবকিছুই ভালোবাসার মানুষের কাছে বলতে না পারলে যেন অনুভূতিগুলো পূর্ণতা পায় না। ৫.জীবনটা একটা স্রোতের মতো, নিরবধি বয়ে যায়। ◾বেদনা জাগানো বাক্যঃ ১. মানুষের জীবনে এমন কিছু সময় আসে যখন নীরব থাকা ছাড়া কিছুই করার থাকে না ২. রাত্রি সে তো নিশাচর দুঃখবিলাসী মানুষেরই অনাকাঙ্ক্ষিত যাপিত জীবনেরই অংশ ৩. জীবনের কত বিচিত্র রং,কত বিচিত্র অনুভূতি। সব রং মুছে দিয়ে মৃত্যুতেই জীবনের শেষ পরিণতি। ৪. শুধুমাত্র দেহ থেকে প্রাণটা হারালেই মানুষের মৃত্যু হয়না। এই পৃথিবীতে এমনও মানুষ আছে,যারা প্রতিদিন বারবার মরেও বেঁচে থাকে। ◾শিক্ষণীয় বিষয়ঃ স্বার্থ মানুষের মনুষ্যত্বকে নষ্ট করে ফেলে,সম্পর্কের টানাপোড়েনের জন্ম দেয়,রহস্যময় করে তুলে চিরচেনা মানুষগুলোকে। ◾বইটির ইতিবাচক দিকঃ সহজ ও সাবলীল ভাষায় গভীর জীবনবোধ আর নিষ্ঠুর বাস্তবতার আলোকে রচিত বইটিতে অধিক চরিত্রের সমাবেশ ঘটলেও কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো ম্লান হয়ে যায় নি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চরিত্রগুলোও পরিপূর্ণ ছিল। যার ফলে বইটি সহজেই পাঠক হৃদয়ে জায়গা করে নিতে সক্ষম। ◾পাঠক-সমালোচনাঃ বানানের ভুলসহ সর্বনামের ব্যবহার খুবই কম হয়েছে। ৬ নং পৃষ্ঠায় বর্তমান সময়ে মিনু তথা মিনারাকে অষ্টাদশী নারী বলা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় তিনি একজন বয়স্ক নারী। যা পাঠক হৃদয়ে খানিকটা দ্বিধার সৃষ্টি করেছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় সময়ের ক্ষেত্রে যেন মিল খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ◾বইটি সম্পর্কে আরও কিছু কথাঃ বইটির ছাপা,প্রচ্ছদ ও বাঁধাই আকৃষ্ট করার মতো। ◾বইটি কেন পড়বেন? বাস্তবধর্মী ও জীবনমুখী বইটি পাঠককে নিজের,পরিবারের কিংবা চারপাশের চিরচেনা নিষ্ঠুর জীবনচিত্রের সাথে আবারও পরিচয় করিয়ে দিবে।

      By Abu Talha

      25 Oct 2021 11:34 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      #chondrovuk_rokomari_book_club_review_2021 রিভিউকারীঃ আবু তালহা বইঃ কাছের মানুষ দূরের মানুষ লেখকঃ পিওনা আফরোজ প্রকাশনীঃ চন্দ্রভুক প্রকাশন পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৩৮ মুদ্রিত মূল্যঃ ২৮৫ টাকা আমাদের জীবন চলার পথে নানান সময়ে নানান মানুষের সাথে আমরা পরিচিত হই প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে ভীড় জমায় অনেকেই। কিন্তু কে সত্যিকারের কাছের মানুষ আর কে দূরের মানুষ, সেটা অধিকাংশ সময়েই আমরা বুঝে উঠতে পারিনা। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে কিভাবে হারিয়ে যায় প্রিয়জন মানুষগুলো! কিংবা স্বার্থের মোহে পড়ে কিভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করে চিরচেনা মুখগুলো! লেখিকা অত্যন্ত গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেই সত্যকেই আমাদের সামনে তুলে এনেছেন 'কাছের মানুষ দূরের মানুষ' বইটির মাধ্যমে। উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে মূলত দু'জোড়া নারী পুরুষকে কেন্দ্র করে। নিঃসন্তান দম্পতি মাহমুদ ও মিনারার রোমান্টিক আলাপন মূহুর্তের মধ্য দিয়েই গল্পের শুরু। উপন্যাসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র মামুন; মাহমুদ সাহেবের ভাইপো। মামুনের সাথে একটি নিখুঁত প্রেমময় সম্পর্ক আঁচ করা যায় তার ফুপাতো বোন মায়ার সাথে। প্রেম আর প্রণয়ের পরিপূর্ণ আস্বাদ যাকে বলে, তা এই দুজোড়া চরিত্রের মাঝে ফুটে উঠেছে। পরবর্তীতে আরো নানান চরিত্র এসে ভীড় করে উপন্যাসটিতে। এক পর্যায়ে মাহমুদ ঢাকায় নীলা নামের এক বিধবা নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। আর মামুন অজান্তেই জড়িয়ে যায় রত্না নামের এক অসহায় মেয়ের সাথে। অনেকটা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের মতোই সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সূত্র ধরেই এগিয়ে যায় উপন্যাসের কাহিনী। একপর্যায়ে চেনা মুখগুলো সময়ের ব্যবধানে অচেনা ও রহস্যময় হয়ে ওঠে! মুখোশ উন্মোচন হয় কিছু বিশ্বাসঘাতকের। এ যেন প্রতিটি মানুষের জীবন লিপির অব্যক্ত উপাখ্যান। বইটিতে সচরাচর চিরায়ত বাংলা সাহিত্যে আঞ্চলিক ভাষার প্রয়োগ যেভাবে দেখা যায়, সেদিক থেকে কিছুটা দূর্বল মনে হয়েছে। তাছাড়া রূপক ও উপমার ব্যবহার ও অনেকটা অনুপস্থিত ছিলো। তবুও প্রথম উপন্যাস হিসেবে লেখিকার সুনিপুণ বর্ণনা আর কাহিনীপ্লট অসাধারণ ছিলো। চরিত্র চিত্রণে ও দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা। মূল চরিত্রগুলোর পাশাপাশি পার্শ্ব চরত্রিগুলো ও ছিলো যার যার অবস্থানে স্বতন্ত্র। গ্রামীণ পরিবেশের পাশাপাশি শহুরে পরিবেশের বর্ণনা যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা। একদম শুরু থেকে চরিত্রগুলোর সর্বশেষ অবস্থা জানার প্রবল আকর্ষণ নিয়েই শেষ হয়েছে বইটি। সর্বোপরি আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে। আপনিও পড়তে পারেন।

      By kulsuma mily

      20 Oct 2021 07:42 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      #chondrovuk_rokomari_book_club_review_2021 বইয়ের নাম: কাছের মানুষ দূরের মানুষ লেখকের নাম: Peona Afrose প্রতিযোগি: Kulsuma Mily ভূমিকা- ------- 'জীবনের কত বিচিত্র রং, কত বিচিত্র অনুভূতি সব রং মুছে দিয়ে মৃত্যুই জীবনের শেষ পরিণতি ' জীবন কখনো রক্তরাঙা রঙে রাঙানো আবার কখনো গভীর অন্ধকারে আচ্ছাদিত। জীবন নদীর মতোই নিজস্ব গতিতে বয়ে চলে। কখনো ভাঙে, কখনো বা গড়ে, কখনো বুঝে উঠার আগেই অনেক কিছু কেড়ে নেয় ঠিক আচমকা কালবৈশাখীর ঝড়ের মতো। সুখে দুঃখে, আনন্দ বেদনায় এভাবেই জীবন ভাসমান! কত বিচিত্র জীবনের রং! লেখিকা পরিচিতি- ------------------- শ্রদ্ধেয়া গুণী পিওনা আফরোজ লেখিকার জন্ম ১৩ ফেব্রুয়ারী! বেড়ে উঠা ঢাকা এবং নোয়াখালীতে। লেখালেখির শুরু কলেজ জীবনে রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। তিনি আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে স্বনামধন্য। বলা যায় আবৃত্তি ও কবিতাপ্রেমের সূত্র ধরেই লেখালেখির জগতে পদার্পণ। বইটির প্লট- ------------ " কাছের মানুষ দূরের মানুষ " বইটি একটি সামাজিক উপন্যাস। এই উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে দুই জোড়া নারী পুরুষকে ঘিরে। তাদের প্রেমময় সম্পর্ক, পরস্পর নির্ভরশীলতা, সম্পর্কের টানাপোড়ন, বিশ্বাস অবিশ্বাসের দ্বন্দ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা সব মিলিয়ে জীবনের রহস্যময় অসহায় পর্বটিকে লেখিকা অত্যন্ত দরদ দিয়ে উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। প্রেক্ষাপট উপস্থাপন- --------------------- " কাছের মানুষ দূরের মানুষ "উপন্যাসটি মূলত গ্রামীণ জনপদের মানুষের জীবনচিত্র নিয়ে রচিত হয়েছে। নিজের স্বার্থে, নিজেদের প্রয়োজন ও সুখ সমৃদ্ধির কথা ভেবে কখনো কখনো কিছু মানুষ আপনজনের মুখোশ পরিধান করে কাছে আসে আবার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে বের হয়ে আসে স্বার্থপর মুখোশধারীর আসল রুপ। এই উপন্যাসেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। লেখিকা মামুন, মায়া ও ফিরোজের চরিত্রে ফুটিয়ে তুলেছেন একটি অসহায় বিষাদময় গল্প। প্রচ্ছদ ও কাগজের মান- ------------------------ " কাছের মানুষ দূরের মানুষ "বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সেলিম আহমেদ বইটির নামের সঙ্গে প্রচ্ছদের চমৎকার সামঞ্জস্য হয়েছে। কারোর কাছে থেকে দূরে চলে যাওয়া কারোর যেন অপলক তাকিয়ে থাকা। বইটির কাগজের মান অনেক ভালো হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী হবে। কোথাও কোনো অগোছালো কাগজের ভাঁজ বা অতিরিক্ত কলমের দাগ নেই মাশা আল্লাহ। ভাষা ও সাহিত্যমান- -------------------- বাংলায় প্রকাশিত বই স্পষ্ট বাংলা না হলে যেন একদম ভালো লাগেনা। কিন্তু কাছের মানুষ দূরের মানুষ বইটিতে অনেক সুন্দর চমৎকার ভাবে বাংলা ভাষাকে উপস্থাপন করেছেন। বইটি যেহেতু গ্রামীণ সমাজের মানুষদের তথাকথিত জীবনচিত্র সেক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভাষাকে সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন যা পাঠক মহলে সরল ও সহজ সাধ্য হবে। মাঝে মাঝে দারুণ সব ছন্দ তুলে ধরেছেন যা একজন পাঠকে আকৃষ্ট। গ্রন্থ পর্যালোচনা- ---------------- সবুজ-ঘেরা গ্রামীণ সমাজে এক নিঃসন্তান দম্পতি মিনারা এবং মাহমুদের জীবনকে নিয়ে গড়ে উঠেছে ' কাছের মানুষ দূরের মানুষ ' উপন্যাসটি। যাদের জীবনে ধন- সম্পত্তি কোনো অভাব ছিল না ছিল না সুখের অভাব! তবে টাকায় কেউ কেউ সুখী হয়না টাকার পাশাপাশি মানসিক সুখেরও দরকার হয়। মিনারা-মাহমুদ নিঃসন্তান হওয়ায় প্রতিটি মুহুর্ত যাদের কাটে প্রচন্ড বেদনাদায়ক ভাবে।তারা বৈশাখের কালো মেঘে ঢাকা মুহুর্ত গুলো সন্তান শোকে ভুলে থাকে মাহমুদের ভাইয়ের মা বাবা হারা মামুনকে নিয়ে। সন্তানের মতই আদর-স্নেহ, মায়া-মমতা, ভালোবাসা দিয়ে পালন করেছে মামুনকে। তার জীবনের সকল চিন্তা- ভাবনা যেন তাদের। মামুন যেন জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এরকম নানা রকম চেষ্টা তাদের। অন্যদিকে মা বাবা হারা মামুনের একমাত্র মাথা গোছার জায়গা মিনারা- মাহমুদ। গল্পে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছে 'মায়া' মামুনের ভালোবাসার মানুষ। যাকে মিনারা-মাহমুদও নিজের সন্তানের মতই ভালোবাসে মায়া ও এর ব্যতিক্রম নয়। গল্পের শুরুতে ভালোবাসায় টইটম্বুর প্রতি চরিত্রে মায়া-মাহমুদের চার হাত এক করে দিয়েছে মিনারা। মামুনের সংসার হয়েছে, সন্তান হয়েছে অনেক প্রয়োজনে পাশে পেয়েছে মাহমুদ ও মিনারা কে! ভালোবাসার কোনো অভাব নেই।গল্পের এক পর্যায়ে আবির্ভাব হয় রত্না নামের এক চরিত্রের। যার সাথে না চাইতেও কিছুটা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে মামুন যদিও সেটা ক্ষণিকেরই ছিল। মামুন নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেটা সে শুধরে নেয় একেই হয়তো বলে সম্পর্কের টানাপোড়ন। অন্যদিকে, মিনারা একজন নিঃসন্তান নারী যিনি জীবনে কখনো মা হবে না জেনেও তার স্বামী মাহমুদ কে আকঁড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চেয়েছে। নিজের কষ্টের ভাগ কখনো স্বামী কে দিতে চায় নিই। তার জীবনেও ছিল সম্পর্কের টানাপোড়ন। তাদের জীবনেও ছিল তৃতীয় ব্যক্তি নীলা একজন বিধবা নারী।কোনো নারীই পারে না ভালোবাসা ভাগ করতে মিনারাও পারে নি সেই তার স্বামী মাহমুদের জীবনে মিনারা ছাড়াও অন্য কেউ আছে এটা সে মেনে নিতে পারেনি। এক সময় কালের অন্তনীলে অন্ধকারে রাতের আকাশের তাঁরা হয়ে যায় মিনারা। যদিও মাহমুদ নীলা কে শুধুই বন্ধু হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এক সময় স্ত্রী শোকে একাকী জীবনে এক কঠিন সময়ের মুখাপেক্ষী হয়। মাহমুদের হার্ট ব্লক ধরা পড়ে। সন্তানসুলভ মায়া-মামুন, ভাগিনা আত্মীয় পরিজন সবাই থাকা সত্ত্বেও সন্তান শোকে কাতর হয়ে পড়ে মাহমুদ। কারণ আজ কেউ তারা তার পাশে নেই তাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। মামুন অসুস্থ পিতৃসুলভ চাচার জীবনের পরোয়া না করে ব্যাংকের চেক-বুক নিয়ে গ্রামে বেশ সুখেই দিন কাটাতে থাকে তার খবর নেওয়ার প্রয়োজন মনে করে নি। মাহমুদের অপেক্ষা যেন শেষ হয়না হয়তো ফিরোজ এলো বলে, হয়তো মামুন মায়া আর আবিদ কে নিয়ে এলো বলে। দরজাটা খোলা রেখে গভীর এক আচ্ছনতার আড়ালে একা বসে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে মাহমুদ হোসেন, তার কাছের মানুষ গুলো আসার প্রতীক্ষায়। আলোচনা সমালোচনা- ---------------------- আমার পড়া বইগুলোর মধ্যে " কাছের মানুষ দূরের মানুষ " বইটি অত্যন্ত প্রিয়। লেখিকা সহজ সরল ও সুন্দর ভাবে বাস্তব দিক গুলো তুলে ধরেছেন। আমাদের বাস্তব জীবনের সম্পর্কও গল্পের থেকে ব্যতিক্রম নয়। বইটি আমাদের বাস্তব জীবনের আঙ্গিককেই রচিত হয়েছে। বইটির প্রচ্ছদ, ভাষা, লেখনী সব কিছুই দারুণ হয়েছে। বইটির বানান অনেক সুন্দর ও ত্রুটিহীন। তবুও অসংখ্য ভালোর মধ্যেও কিছু না কিছু ত্রুটি থেকেই যাই। সেক্ষেত্রে বইটির এক জায়গায় একটু সমালোচনার বিষয় থেকে যায় মায়া এবং মামুনের কিছু ঘনিষ্ঠ মুহুর্ত। অন্য সব দিক থেকে বইটি অসাধারণ ও অপূর্ব। ভালোলাগার কিছু উক্তি- ------------------------ ~ ভালোবাসলেই মানুষ নির্ভরশীল হতে থাকে। সুখ-দুঃখ, ব্যথা-কান্না সবকিছু ভালোবাসার মানুষের কাছে বলতে না পারলে যেন অনুভূতি গুলো পূর্ণতা পায় না ~ কত রুপ ঐ চাঁদের, জোছনার আলোচ্ছটায় পৃথিবীর রুপ কত অসাধারণ! মনে প্রশ্ন জাগে তবুও চাঁদ কেন একা.? সবাই কেন দিনের আলোই খুঁজে বেড়ায়.? রাত্রি সে তো নিশাচর দুঃখ বিলাসী মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত যাপিত জীবনে অংশ। ~ 'জীবনের কত বিচিত্র রং, কত বিচিত্র অনুভূতি সব রং মুছে দিয়ে মৃত্যুই জীবনের শেষ পরিণতি '। ~ ' সব রং জীবন কে রাঙ্গাতে পারে না কিছু কিছু রং ক্ষণিকের তরে ছড়িয়ে আবার অন্ধকারে মিলায় '! একনজরে বইটি- ------------------- বই : কাছের মানুষ দূরের মানুষ লেখিকা : পিওনা আফরোজ প্রকাশনায় : চন্দ্রভুশক প্রকাশকাল: ডিসেম্বর ২০২০ মূল্য : ২৮৫ ৳ পৃষ্টা : ১৩৮

      By টি এ অনন্যা

      21 Oct 2021 09:46 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      #chondrovuk_rokomari_book_club_review_2021 রিভিউ কারী: টি এ অনন্যা বইয়ের নাম: কাছের মানুষ দূরের মানুষ লেখকের নাম: পিওনা আফরোজ      "জীবন বড় অনিশ্চিত। জীবনের অনেক ঘটনাই আমরা আগে থেকে আঁচ করতে পারি না। মানুষ তো কেবল ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে। কখনো ইচ্ছের বিরুদ্ধে, কখনো বা স্বেচ্ছায় ঘটনার সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।"      সত্যিই জীবন বড়ো অনিশ্চিত। কে, কখন, কোন ঘটনায়, কার আপন হয়ে ওঠে আবার কখন হারিয়ে যায় নিজ স্বার্থের গভীরতায় বুঝা বড্ড মুশকিল। রক্তের সম্পর্কের বাইরের অনাত্মীয় কখনও হয়ে ওঠে আপন আত্মীয় আবার কখনও রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় পর হয়ে।  কিন্তু কাছের বা দূরের যে-ই হোক আমাদের কাছে আসা সবাই কি আপন হয়ে ওঠে? আর সম্পর্কের এই জটিল ধাঁধাকে উপজীব্য করে তরুণ প্রজন্মের প্রিয় লেখক পিওনা আফরোজ লিখেছেন "কাছের মানুষ দূরের মানুষ"       নাম কথন:       আমরা সচরাচর বলে থাকি "নামে নয় গুণে পরিচয়"। কিন্তু আসলেই কি সব সময় ঠিক তা-ই? না একদম-ই তা নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নাম হয়ে ওঠে এমন যা মনে হয় বিন্দুতে সিন্ধুর মতো। বইয়ের ক্ষেত্রে একটা সার্থক নাম সম্পূর্ণ উপন্যাসের কিংবা গল্পের তাৎপর্য বহন করে। তবে এখানে তাৎপর্যপূর্ণতা নির্ভর করে লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি আর মননশীলতার উপর। আমার পাঠক দৃষ্টিতে পিওনা আফরোজ রচিত "কাছের মানুষ দূরের মানুষ" উপন্যাসের ক্ষেত্রে লেখক তার দূরদর্শিতা নিশ্চিত করতে পেরেছেন। নামকরণে সুকৌশলে এমন একটা নাম নির্বাচিত করেছেন যা ১৩৭ পৃষ্ঠার একটি বইয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছে। যখন পাঠক উপন্যাসের ঘটনা প্রবাহে নিজেকে হারায় তখনই ধীরে টের পায় লেখকের এমন নাম চয়নের মূখ্য কারণ। বইয়ের নামটা দেখার পরেই কৌতূহল জাগে পাঠক হৃদয়ে, কে হবে কাছের মানুষ আর কে-ইবা দূরের মানুষ? এই একটা কৌতূহল মিটাতে পাঠককে পড়তেই হবে সম্পূর্ণ উপন্যাসটি।        প্রচ্ছদ কথন:       সাধারণের মাঝেও অসাধারণ এমন কিছু থাকে যা আমাদের দৃষ্টিকে দেয় প্রশান্তি, হৃদয়ে লাগে ভালো লাগার পরশ। "কাছের মানুষ দূরের মানুষ" বইয়ের প্রচ্ছদে তেমন কোনো জাঁকজমকপূর্ণ কিছু নেই, নেই অতিরঞ্জিত আঁকিবুঁকি। আপাত দৃষ্টিতে প্রচ্ছদটি খুব সাধারণ কিন্তু অন্তর্দৃষ্টিতে সেই প্রচ্ছদটি এতটাই অনন্য যা কেবল পাঠক হৃদয়েই উপভোগ্য। হালকা রঙের প্রচ্ছদটির ছাপের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক নারী মুখাবয়ব যা পাঠককে কৌতূহলী করে তোলে। এছাড়াও উপরের দিকে একজন পুরুষ অবয়ব এর রহস্যটাও পাঠককে কম আকৃষ্ট করে না। আর ঝরে পড়া পাতা কিসের ইঙ্গিতবাহী তা জানতে তো পড়তেই হবে বইটি। কিছুটা আবেগময়, খানিক অনুভূতিপ্রবণ নান্দনিক প্রচ্ছদটি এক কথায় আকর্ষণীয়।      উপন্যাস সংক্ষেপ:      এক শাশ্বত প্রেমময় জুটি মাহমুদ ও মিনারার ভালোবাসাময় মুহূর্ত দিয়ে রচিত উপন্যাসের সূচনা। একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, বিশ্বাস, ভরসা, নির্ভরশীলতা সবমিলিয়ে এক সুখী দাম্পত্য জীবন তাদের। কিন্তু কোথাও একটা নিঃসঙ্গতা, শূন্যতা এবং অপ্রাপ্তি থেকে যায়। কী সেই শূন্যতা বা অপ্রাপ্তি? কে দায়ী এর জন্য?       উপন্যাসের আরেক জোড়া চরিত্র মামুন ও মায়া, সম্পর্কে তারা মামাতো ফুফাতো ভাই বোন। মাহমুদ সাহেব তার ভাইয়ের অসহায়ত্বের কথা ভেবে বাড়িয়ে দেন সাহায্যের হাত। এমনকি ভাইয়ের মৃত্যুর পর ভাতিজা মামুনের জন্য আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দিয়েছেন হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসা। আর মিনারা বেগম! সে তো মামুন বলতে পাগলপ্রায়। নিজ সন্তানের মতোই ভালোবাসেন। মামুন ঢাকায় চাকরি করাকালীন হঠাৎই একদিন তার চাচি জরুরি তলবে গ্রামে ডেকে আনেন। সে ভেবে পায় না কেন তাকে এভাবে ডেকে আনা হলো? কোনো দুঃসংবাদ নাকি অন্য কোনো ঘটনা?      মামুন এ মায়া ভালোবাসে একে অপরকে। তার অনুরোধ আর চাচির আকুতিতে শহরের চাকরি ছেড়ে চাচার বদৌলতে গ্রামের বাজারে ফার্মেসি নিয়ে বসেন। সেখান থেকেই ঘটনা বশত তার সাথে পরিচয় হয় রত্নার। কীভাবে পরিচয় হয় তাদের? কী ছিল সেই ঘটনা? উপন্যাস গড়াতে থাকে ভিন্ন মোড়ে। রত্নার হৃদয়ে দুর্বলতা হয়ে ওঠে মামুন। কিন্তু মামুন সে কি পারবে মায়াকে ছেড়ে রত্নাকে গ্রহণ করতে? নাকি কোনো অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে রত্নার ভালোবাসা?        এরইমধ্যে গ্রামে মায়া আর মামুনকে নিয়ে কুৎসা রটে। যদিও তার জন্য দায়ী প্রকৃতি। কিন্তু সেসব কথা পৌঁছে যায় তাদের পরিবারের সকলের কানে। এতে ঘটে বিপত্তি। কী হবে এর পরিণতি? একদিকে মায়া আরেকদিকে রত্না কে হবে মামুনের জীবনসঙ্গী?       মিনারা এবং মাহমুদ ছিলেন ভালোবাসার কাঙাল। তাদের দ্বারা অনেকেই উপকৃত। তাদের ভালোবেসে অনেকেই পাশে থাকতে চায়। মামুন ছাড়াও তাদের ঘনিষ্ঠ ছিল বাজারের ফার্মেসি দোকানদার রিপন এবং মাহমুদের ভাগিনা ফিরোজ। কিন্তু তারা কি সত্যিই মাহমুদ ও মিনারাকে ভালোবেসে পাশে থাকে নাকি তাদের স্বার্থে আসে?       উপন্যাসের ঘটনা প্রবাহে পাঠকের সামনে আসে এক নতুন রহস্য নীলা। কে এই নীলা? এক পর্যায়ে তার সাথে মাহমুদের সখ্যতার খবর পায় মিনারা। কিন্তু তার দৃঢ় বন্ধনের মাঝে অন্য কেউ আসবে ভাবতে পারেন না তিনি। তিনি পড়েন দোটানায়, কী সম্পর্ক তাদের? তিনি কি সরাসরি জিজ্ঞেস করবেন মাহমুদকে? এভাবেই প্রেম-বিরহের দ্বন্দ্ব সংঘাতে এগিয়ে চলে উপন্যাসের পটভূমি। কে হবে কার কাছের মানুষ কিংবা আপনজন? আর কে-ইবা হবে দূরের মানুষ? আর কী-ইবা হবে উপন্যাসের শেষ পরিণতি? এসব জানতে হলে পড়তে হবে "কাছের মানুষ দূরের মানুষ"। পাঠ পর্যালোচনা : একটি উপন্যাস তখনই সার্থকতা পায় যখন পাঠক বইকে শুধুমাত্র আনন্দের উৎস হিসেবে গ্রহণ না করে এর আনন্দরসকে সত্যিকার অর্থেই আস্বাদন করতে পারে। আর সেই আনন্দরস উত্থাপনে লেখকের ভূমিকাই মূখ্য। উপন্যাস রচনায় লেখকের পটভূমি উপস্থাপন, ভাষার ব্যবহার, চরিত্রায়ন ও সাহিত্য উপাদানের নিপুণ লিখনশৈলী পাঠককে মুগ্ধ করে। পিওনা আফরোজ রচিত লেখকের উপন্যাস " কাছের মানুষ দূরের মানুষ" বইয়ের পাঠ পর্যালোচনায় এই দিকগুলো আলোচ্য। পটভূমি উপস্থাপন: একজন লেখকের পটভূমি নির্বাচনটাই মূখ্য নয় উপন্যাসে তার উপস্থাপনটাই মূখ্য। পাঠকের কাছে একটি সাধারণ পটভূমিও অসাধারণ ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে লেখকের অনন্য শব্দ বুননে কাহিনির সঠিক ক্রমধারায় উপস্থাপনের মাধ্যমে। যেমনটা দেখা যায় পিওনা আফরোজ রচিত লেখকের উপন্যাস " কাছের মানুষ দূরের মানুষ" বইতে। প্রথম দিকে যখন মাহমুদ ও মিনারার প্রেমময় মুহূর্ত দিয়ে শুরু হয় উপন্যাসটি তখন মনে হয়েছিল এ যেন কোনো একঘেয়ে করা প্রেমের উপন্যাস। কিন্তু এরপরই ঠিক সময়ে উপন্যাসটি মোড় নিলো ভিন্ন দিকে। সৃষ্টি হলো আরেকটু আকর্ষণ। মনে হলো না এটা কোনো প্রেমের উপন্যাস নয়। শব্দের সমারোহে ঘটতে থাকে নানান ঘটনা। পাঠক আটকে যায় উপন্যাসের রহস্য জালে। সেই রহস্য ভেদ করতে পাঠককে পড়তে হয় সম্পূর্ণ উপন্যাসটি। মাঝপথে উপন্যাসটি ফেলে উঠে যাওয়ার উপায় নেই। আর তা সবই সম্ভব হয়েছে লেখকের চমৎকার উপস্থাপনে। ভাষা ও বর্ণনা ভঙ্গি: পিওনা আফরোজ রচিত লেখকের উপন্যাস " কাছের মানুষ দূরের মানুষ" বইটি চলিত ভাষায় রচিত। কিন্তু চরিত্রের প্রয়োজনে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারও লক্ষণীয়। তবে তা কেবলই কথোপকথনের ক্ষেত্রে লেখা হয়েছে; লেখকের বর্ণনায় এসে গুরুচণ্ডালী সৃষ্টি করেনি। উপন্যাসে চরিত্রের পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক অবস্থার বর্ণনাও ছিল বেশ ভালো। কিছু বানানের ক্ষেত্রে আরেকটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে হ্যাঁ লেখকের লিখনশৈলী ছিল মুগ্ধ করার মতো। চরিত্র বিশ্লেষণ : উপন্যাস হয় আনন্দসঞ্চারী ও উপভোগ্য। কিন্তু সেটা তখনই পরিপূর্ণ হয় যখন চরিত্র হয়ে ওঠে অধিক প্রাণবন্ত। কারণ উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে চরিত্র। চরিত্র রূপায়ণে লেখক প্রশংসার দাবিদার। উপন্যাসের প্রয়োজনে এসেছে একাধিক চরিত্র এবং তাদেরকে সুসঙ্গতভাবেই লেখক পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন পাঠকদের সাথে। চরিত্রগুলোকে অতিরঞ্জিত না করে সাধারণ, খুব সাধারণভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে উপন্যাসটিকে পাঠকের কাছে কেবল একটা বইয়ের কাল্পনিক ঘটনা মনে হয়নি বরং বাস্তবিকই মনে হয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্র মাহমুদ ও মিনারা এবং পার্শ্ব চরিত্র মামুন ও মায়া ছাড়াও ফিরোজ, রিপন, আলাউদ্দিন, নীলা, রত্না, মামুনের বোন, দুলাভাই, মায়ার মা প্রমুখ চরিত্র রয়েছে। লেখক প্রতিটি চরিত্র উপস্থাপনেই গুরুত্ব দিয়ে পাঠক সম্মুখে উপস্থাপন করেছেন। যা কিছু অসঙ্গতি: মানুষের সৃষ্টিতে ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। বইটিতেও টুকটাক ত্রুটি হিসেবে কিছু বানানের ক্ষেত্রে ভুল লক্ষ্য করা যায়। আশা করি পরবর্তী মুদ্রণে তা শুধরে নেওয়া হবে।        পাঠ প্রতিক্রিয়া:       উপন্যাস হতে হয় জীবনের প্রতিচ্ছবি। সেখানে শুধুমাত্র শব্দের সমারোহ  কিংবা অতিরঞ্জিত  কিছু চরিত্রের উপস্থাপনই যথেষ্ট নয়। সেইসব চরিত্রের মার্জিত ও সূক্ষ্ম  বিশ্লেষণ যখন পাঠক দৃষ্টিতে জীবন্ত হয়ে উঠে তখন উপন্যাস হয়ে উঠে চিত্তাকর্ষক। পিওনা আফরোজ রচিত " কাছের মানুষ দূরের মানুষ" এমনই একটি চিত্তাকর্ষক রচনা যেখানে শব্দের ধারায় বিচ্ছুরিত হয়েছে লেখকের ভাবনা। যদিও এখানে উঠে এসেছে বেশকিছু চরিত্র আর ঘটনাবলি তবুও যেন মনে হয়েছে এ যেন আমাদের সমাজেরই দর্পন। ভালো লাগার পরশ বুলিয়েছে পাঠক হৃদয়ে।       উপন্যাসের সূচনা খুবই সাদাসিধে এবং সাধারণ। বইটি পড়ার সময়ও বুঝতে পারিনি ধীরগতিতে শুরু হওয়া উপন্যাসটি হৃদয়ে এতটা দাগ কাটবে, দাঁড় করাবে কিছু নির্মম ঘটনার সম্মুখে। উপন্যাস চরিত্র হলেও এমন অসংখ্য মিনারা আর মাহমুদ আছেন আমাদের চারপাশে যাদের হৃদয়ের একটা প্রকোষ্ঠে লুকিয়ে রাখেন সূক্ষ্ম কষ্টের ধারা যা শুধুমাত্র নিজেই উপলব্ধি বোধ করে।       সম্পূর্ণ উপন্যাস জুড়ে লেখকের শব্দের বুনন ছিল বেশ সুসংহত। লেখার সময় হয়তো পাঠকের মতো তিনিও হারিয়ে গিয়েছিলেন চরিত্র এবং ঘটনার মাঝে। একটি উপন্যাসে ঘটনার ঘনঘটা ঘটবে স্বাভাবিক কিন্তু সেই ঘটনাকে পাঠক শুধুমাত্র গলাধঃকরণ না করে উপলব্ধি করবে। এদিক থেকে বইটি রচনায় লেখক সার্থক।  আমি পড়ার সময় লেখকের বর্ণনা উপন্যাসের এতটাই গভীরে পৌঁছে গিয়েছিলাম  কখন যে এক বাসায় সম্পূর্ণ বইটি শেষ করেছি টেরই পাইনি।       সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে ঘটনা বা চরিত্রের সাপেক্ষে পারিপার্শ্বিক অবস্থানকে লেখক শব্দের ছোঁয়ায়  এতটা বাস্তবমুখী করে তুলেছিলেন যে মনে হয়েছে এটা কোনো উপন্যাস নয় বরং আমার আশেপাশে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা যার প্রত্যক্ষ দর্শক আমি নিজে। এমনকি বারবার নিজেকে হারিয়েছি বিভিন্ন চরিত্রের মাঝে। কখনও মিনারা, কখনও মায়া আবার কখনও রত্নার মাঝে।       তবে হ্যাঁ, লেখক উপন্যাসটি বাস্তবিক করে তোলার লক্ষ্যে শব্দের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। কিন্তু পাঠক আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে এখানে শব্দের কাঠিন্য, অবাঞ্চিত উপমা কিংবা অতিরঞ্জিত বাক্য বিন্যাস করেননি। তাছাড়া চরিত্রগুলোকেও এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে সম্পূর্ণ উপন্যাসটাই ছিল বাস্তবতার আদলে গড়া। উপন্যাসে রোমান্টিকতা ছিল কিনে তার বর্ণনা দিয়ে নয়। লেখক রোমান্টিকতা এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে শুধুমাত্র পাঠক তা উপলব্ধি করে নিবে। ভালোবাসা, সার্থপরতা, নিঃসঙ্গতা ইত্যাদি ঘটনায় সবমিলিয়ে এক মিশ্র অনুভূতির মিশেলে শেষ হয় বইটি। টুকটাক ত্রুটিগুলো এড়িয়ে গেলে "কাছের মানুষ দূরের মানুষ" বইটি মুগ্ধকর।       ব্যক্তিগত অভিমত:       পিওনা আফরোজ রচিত "কাছের মানুষ দূরের মানুষ" সামাজিক জনরার একটি উপন্যাস। লেখক উপন্যাসের মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করেছেন সম্পর্কের এক জটিল প্রচুর যেখানে রয়েছে নানান টানাপোড়েন, ভালোবাসা ও স্বার্থের দ্বন্দ, মানুষের রহস্যময় পরিবর্তন।     সত্যি বলতে বইয়ের প্রথম দিকে মিনারা ও মাহমুদের প্রেমময় অনুভূতিপ্রবণ সংলাপ বা আলাপন দেখে আমি ভেবেই নিয়েছিলাম হয়তো কোনো এক রোমান্টিক উপন্যাস হবে এটা যেখানে এই দুজন মানব-মানবীর প্রেমকেই প্রাধান্য দিয়ে লেখক শব্দ বুনে যাবেন। কিন্তু না পরক্ষণেই লেখক আমার ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে নিয়ে এলেন মামুন-মায়া চরিত্র জুটি। তবে তাদের মাঝেও প্রেম ছিল। কিন্তু প্রেমের বাইরেও তাদের একটা জগতকে পাঠকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন লেখক।       উপন্যাসটিতে মাহমুদ এবং মামুন দুজনের মাঝেই কেমন যেন একটা সংযোগ ছিল। তাদের ভালোবাসার মানুষ মিনারা ও মায়া ব্যতীত তাদের জীবনে অজান্তেই প্রবেশ করে নীলা ও রত্না। এই ব্যাপারটা মামুন ও রত্নার ক্ষেত্রে যতটাই হোক খোলাসা হয় কিন্তু নীলা ও মাহমুদের ক্ষেত্রে আমার কাছে কেমন যেন রহস্যময় ছিল। চরিত্রের প্রয়োজনে নয় বরং উপন্যাসের প্রয়োজনে যখন নীলার আগমন ঘটে তখন থেকেই আমার পাঠক হৃদয় উদগ্রীব ছিল তার রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে। আরেকটা রহস্যময় চরিত্র  ছিল মাহমুদের ভাগিনা। তাকে নিয়ে প্রথম থেকেই আমি দোটানায় ছিলাম, সে কি সত্যিই এতটা ভালোবাসা নাকি সবটাই ছল? যদিও এর উত্তর শেষ অবধি আমি পেয়েছি।       সম্পর্কের টানাপোড়েনকে উপজীব্য করে লেখা উপন্যাসটিতে আমাদের জন্য লেখক একটা বার্তা ঠিকই প্রেরণ করেছেন, পৃথিবীতে কিছু মানুষ থাকে যাদের হৃদয়ে মিনারার মতো উপচে পড়ে ভালোবাসা যা কোনো স্বার্থ বুঝে না। এই ভালোবাসা হারাতে চায় না কেউ। ক্ষণিকের জন্য হারালেও তার জন্য বড্ড আফসোস হয়। আর মাহমুদ সাহেবের মতো লোক যদি প্রতিটি সমাজে থাকত তাহলে তার আশেপাশের মানুষগুলো আঁকড়ে থাকার মতো একটা খুটি পেত। কিন্তু সবাই বুঝে না ভালোবাসার মর্ম, কেউ কেউ আবার স্বার্থকে সমুন্নত রাখতে গিয়ে হারিয়ে ফেলে কাছের মানুষদের, হয়ে ওঠে দূরের মানুষ।       মামুনের হৃদয়ে ভালোবাসার সংশয় আমাকে ব্যথিত করে। যদিও রত্নার বিপদে তার পাশে দাঁড়িয়ে চমৎকার মনুষ্যত্বের পরিচয় দিয়েছে কিন্তু তার হৃদয়ে মায়া থাকা সত্ত্বেও সে দোটানায় পড়ে যায়। রত্নার প্রতি তার অতিরিক্ত প্রশ্রয়টাই হয়তো রত্নাকে এতটা দূর্বল করে তোলে। সেদিকে তার সচেতন থাকা আবশ্যক ছিল।      লেখক তার শব্দধারায় একের পর এক শব্দ গেঁথে ঘটনার ঘনঘটায় চলতে চলতে একটা সময় এসে থেমেছেন। কিন্তু শেষটায় এসে আমার পাঠক হৃদয় হয়েছে ভারাক্রান্ত। মিনারা এবং মাহমুদ সাহেবের এমন পরিণতির জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। বইটি পড়তে পড়তে চোখের কোণে অশ্রুকণারা এসে ভীড় করে। পড়া শেষ হওয়ার পরেও দীর্ঘক্ষণ এর রেশ ছিল আমার মস্তিষ্কে। তখন মনে হচ্ছিল, কেন উপন্যাসের পরিণতি এমন হলো? কেন লেখককে এখানেই থামতে হলো? উপন্যাসটা কি আরেকটু বড়ো হতে পারত না? বারবার মনে পড়ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই কথা, "শেষ হইয়াও হইলো না শেষ"।      প্রিয় কথামালা: "কিছু কিছু সময় হোক না ক্ষণিকের। তবু সেই সময়ের কাছে ঋণ থেকে যায় চিরদিনের।" "সব সম্পর্কে 'ভালোবাসি' বলে বোঝানো যায় না। কিছু কিছু ভালোবাসা জীবনের আড়ালের গল্প হয়েই থেকে যায় সারাজীবন।" "বিশ্বাস শব্দটা ছোট হলেও এর অর্থ কিন্তু অনেক বড়। এটা যদি কারো জীবন থেইকা হারাইয়া যায়, যদি তার প্রতি অবিশ্বাস জন্মায় তারপর সে যতই ভালো কিছু করুক না কেন, তারে আর কাছের মানুষ মনে হয় না।" "সব রঙ জীবনকে রাঙাতে পারে না। কিছু কিছু রঙ ক্ষণিকের তরে রঙ ছড়িয়ে আবার অন্ধকারে মিলায়।"

      By Fabiha Binte Kashem

      20 Oct 2021 11:39 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      টানাপোড়েন,ভাঙ্গন,প্রত্যাশা,আকাঙ্ক্ষা,স্বপ্ন সব মিলেই জীবন। বহু রঙে বিচিত্র এই জীবন। ত্রিধরার প্রতিটি সম্পর্ক তৈরি হয় ভালোবাসার ছায়াতলে। কিন্তু সেই ভালোবাসায় যখন অবিশ্বাস দানা বাঁধে তখনই শুরু হয় টানাপোড়েন । বাড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ক্রমবর্ধমান দূরত্ব। এমনই প্রচ্ছন্ন ও প্রকাশ্য টানাপোড়েন ও ভালোবাসা এবং একাকিত্বের ঔপন্যাসিক প্রকাশ 'কাছের মানুষ দূরের মানুষ' বইটি। 🌱গল্প কথন: 'কাছের মানুষ দূরের মানুষ ' বইয়ের গল্পটিতে পাঠক দুই ধরনের স্বাদ পাবেন,যার ফলে তারা নিমিষেই হারিয়ে যাবেন কাহিনীর গভীরে। দু'জোড়া নারী-পুরুষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা গল্পটিতে একদিকে যেমন দেখা যায় তাদের প্রেমময় সম্পর্ক এবং নির্ভরশীলতা,ঠিক তেমনি অন্যদিকে পাওয়া যায় স্বার্থপরতা, দ্বন্দ,অবিশ্বাস,নির্জন-নিভৃত একাকিত্বের স্বাদ। অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস যাকে আরও পূর্ণতা দিয়েছে। দাম্পত্য জীবন মাত্রই সন্তান প্রাপ্তি ছাড়া পরিপূর্ণ হয় না। বিশেষ করে নারীত্বের পূর্ণতা তো মাতৃত্বেই। ধন-সম্পদ,মান-সম্মান,প্রিয়জনেরা থাকার পরও তাই নিঃসন্তান দম্পতি মাহমুদ-মিনারার অন্তরে জ্বলতো অপূর্ণতার অনল। অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে মাহমুদ-মিনারা দম্পতি মামুনকে সন্তান স্নেহে লালন পালন করেন।মামুন মাহমুদ সাহেবের আপন ভাইয়ের ছেলে। নিঃসন্তান মিনারার পুরো পৃথিবীটাই ছিলেন মাহমুদ । কিন্তু নীলা নামের কেউ একজনের আগমনে সেই পৃথিবীটাই দূর হয়ে গেলো মিনারার কাছ থেকে।মানুষ সব সময় মন খুলে তার প্রতিটি অনুভূতি কারও সাথে ভাগাভাগি করতে চায়,ঘটাতে চায় প্রকাশ।যখন তা না পারে তখনই তৈরি হয় এক সূক্ষ্ম ব্যবধান,যা কোন দাম্পত্য সম্পর্কে থাকা উচিত নয়।তেমনি এক ব্যবধানের ফাঁক গলিয়ে মাহমুদ-মিনারার মধ্যে প্রবেশ করে নীলা নামের চরিত্রটি। মিনারার সন্তানহীনতার কষ্টকে পরম যত্নে আগলে রাখতেন। কিন্তু সেই একই বেদনা যে তার ভেতরটাকে কুরে কুরে খাচ্ছে তা কখনও বলতে পারেননি,হয়তো মিনারার কথা ভেবেই পারেননি। নীলা ছিলো তার বেদনা বোনার চাদর। তাতেই গড়ে উঠে ঘনিষ্টতা,যা ক্রমেই মাহমুদ- মিনারার মাঝে তৈরি করে দ্বন্দ -অবিশ্বাস ।অবশেষে ধরায় ভাঙ্গন,কারণ হয় মিনারার বেদনা বিথুর মৃত্যুর ; যা পাঠক হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটে। মামুন-মায়া হলো কাহিনীর অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র। মায়ার প্রতি ভালোবাসা থাকার পরও রত্মা নামের বিধবা মহিলার সাথে তার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। দেরীতে হলেও মামুন বেরিয়ে আসতে পেরেছিলো সেই সম্পর্ক থেকে। মিনারার মৃত্যুর পর মামুনের চরিত্রে স্বার্থপরতার চিত্র ধরা পড়ে পাঠকের চোখে। বৃদ্ধ রোগাক্রান্ত মাহমুদ কে হাসপাতালে ফেলে রেখে সই করা চেক বই নিয়ে রীতিমত উধাও হয়ে যায় মামুন। সবকিছু বুঝতে পারলেও মানতে চায় না মাহমুদের মন। আপন জনকে কে অবিশ্বাস করতে চায়? বৃদ্ধ বয়সে একান্ত নির্ভরতার জায়গাটি যখন সরে যায়,একাকিত্ব তখন বিশাল প্রস্তর খন্ড হয়ে বুকে চাপে। আবেগ ঘন এই মূহুর্তটিকে লেখিকা যথাযথ দরদ দিয়ে চিত্রায়িত করেছেন তার উপন্যাসে। 🌱লেখিকা কথন : পিওনা আফরোজ বহু গুণে গুণান্বিতা একজন বাঙালী নারী। সুমিষ্ট কন্ঠী হবার পাশাপাশি প্রিয়ংবদাও ,যার প্রমাণ আমরা পাই "কাছের মানুষ দূরের মানুষ" উপন্যাসে । বাস্তবতাকে বোঝার ও ফুটিয়ে তোলার গুণ তার মাঝে পুরোটাই বিদ্যমান তাতো বলাই বাহুল্য। গুণী এই লেখিকার জন্ম ১৩ ফেব্রুয়ারি। বেড়ে ওঠা ঢাকা ও নোয়াখালীতে। লেখালেখিটা তার শুরু হয় কলেজ জীবন থেকেই। আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে তার জুড়ি নেই। আবৃত্তি ও কবিতার হাত ধরেই তার সাহিত্যজগতে পদার্পন।এক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই তিনি সম্ভাবনার স্বাক্ষর রেখেছেন। 🌱যা যা শিক্ষণীয় : উপন্যাসের পটভূমি বাস্তবতার নিরীখে রচিত ।তাই বইটি পাঠকদের জন্য রেখে যায় শিক্ষণীয় কিছু বার্তা। - দাম্পত্য জীবনে কখনও পরস্পরের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি হতে দেয়া উচিত নয়,কারণ যাই হোক না কেন। কেননা , এই ব্যবধানেই দুজনের মধ্যে ঢুকে পড়তে পারে ৩য় পক্ষ। -মানুষ সব সময় স্বার্থান্বেষী। স্বার্থ পূরণ হয়ে গেলে আর বিবেক কাজ করে না। যা আমরা মামুনের চরিত্র পর্যবেক্ষণে বুঝি। কঠিন হলেও এটাই বাস্তবতা। - যতক্ষণ প্রয়োজন থাকে ততক্ষণ আশেপাশে প্রিয়জনের অভাব হয় না। যখন প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় তখন চেনা মুখগুলোও বড় অচেনা হয়ে ওঠে। অস্পষ্ট ,রহস্যময় হয়ে যায় আপন স্বজন। জীবনের এই পর্বটি বড়ই অসহায় ,দুর্বিসহ। - বিশ্বাস বড় নাজুক সম্পদ। তাই এটিকে খুব যত্ন করে ধরে রাখতে হয় । 🌱 চরিত্র চিত্রণ : বইটিতে অনেক চরিত্রের সুন্দর সন্নিবেশ ঘটেছে। প্রতিটি চরিত্র স্বভূমিকায় উজ্জ্বল। অনেক চরিত্রের ভীড়ে কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো এখানে ম্লান হয়ে যায়নি ,যা অনেক সময় বিভিন্ন উপন্যাসে দেখা যায়। 🌱সমালোচনা : সমালোচনা মানেই একটি কর্মের ভালো- মন্দ আলোচনায় নিয়ে আসা। আর সাহিত্যের ক্ষত্রে আমার ব্যক্তিগত অভিমত এই যে, প্রতিটি নতুন কাজ বিশেষভাবে সমালোচনা পাওয়ার দাবী রাখে। গ্রামীন পটভূমিতে নির্মিত গল্পের কাহিনীটি তে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার কম দেখা গেছে। বয়স অনুপাতে মিনারার চরিত্রে কোথাও কোথাও তরুণী সুলভ আচরণ পরিলক্ষিত হয়।এছাড়া, কাহিনী এবং চরিত্র চিত্রায়ণ সাবলীল ও সুন্দর হয়েছে। একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো কোনভাবেই মূল কাহিনী থেকে লেখিকার মোটেও বিচ্যুতি ঘটেনি, যদিও উপন্যাসের ব্যাপ্তির প্রয়োজনে অনেক ঘটনার সমাবেশ ঘটাতে হয়েছে তাকে।কিছু ছোটখাট দুর্বলতা উপন্যাসে অবশ্যই ছিলো । তবুও আমার ব্যক্তিগত অভিমত এই যে, লেখিকা পিওনা আফরোজ পাঠকের মন জয় করতে বহুলাংশে সফল হয়েছেন।কেননা, মানব জীবনের কঠিন সব বাস্তবতা তার আবেগমিশ্রিত লেখনীর মধ্য দিয়ে চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে। একাকিত্বের পীড়া,স্বজনহীনতার যন্ত্রণা এবং ভালোবাসার মুহূর্তগুলো এত অনবদ্য আর হৃদয়গ্রাহী করে পিওনা আফরোজ উপহার দিয়েছেন যা বলাই বাহুল্য। লেখিকার আবেগপ্রবণ লেখনী নয়ন সিক্ত হবার কারণও হয়েছে। এই উপন্যাস পাঠকের মনকে সহজেই নাড়া দেবে। 🌱ভালো লাগা উক্তি : ১) শুধুমাত্র দেহ থেকে প্রাণটা হারালেই মানুষের মৃত্যু হয়না। এই পৃথিবীতে এমনও মানুষ আছে,যারা প্রতিদিন বারবার মরেও বেঁচে থাকে। ২)জীবনের কত বিচিত্র রং,কত বিচিত্র অনুভূতি। সব রং মুছে দিয়ে মৃত্যুতেই জীবনের শেষ পরিণতি।' ৩) সব সম্পর্কে 'ভালোবাসি' বলে বোঝানো যায় । কিছু কিছু ভালোবাসা আড়ালের গল্প হয়েই থেকে যায় সারাজীবন। ৪) আসলে ভালোবাসলেই মানুষ নির্ভরশীল হতে থাকে। সুখ-দুঃখ,ব্যথা-কান্না সবকিছুই ভালোবাসার মানুষের কাছে বলতে না পারলে যেন অনুভূতিগুলো পূর্ণতা পায় না। ৫) এর নামই কি ভালোবাসা ? কিন্তু এ তো সেই দূর আকাশের চাঁদের মতোই । ধরা যাবে না। ছোঁয়া যাবে না। কখনো না। ৬) আসলে জীবন মানুষকে যা শেখায় তা কোন বইয়ের পাতায় লেখা থাকে না। 🌻 পরিশেষে অজস্র ভালো লাগা রেখে গেলাম আগেই প্রিয়ংবদা পিওনা আফরোজের লেখনীর সমীপে। কামনা করছি স্রষ্টা যেন উত্তর উত্তর তার লেখনীর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে দেন। যাতে তিনি আরো নতুন সব চমকে তার ভক্ত পাঠক গোষ্ঠিকে আনন্দ দিতে পারেন। আর চন্দ্রভুক প্রকাশনার জন্যও রইলো একরাশ শুভ কামনা এমন দারুণ বই পাঠকের হাতে তুলে দেয়ার জন্য। বই : কাছের মানুষ দূরের মানুষ লেখিকা : পিওনা আফরোজ পৃষ্ঠা :১৩৮ মূল্য : ২৮৫ টাকা প্রকাশনায় : চন্দ্রভুক প্রকাশন

      By Rahad Islam

      20 Oct 2021 10:58 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      #chondrovuk_rokomari_book_club_review_2021 উপন্যাসঃ কাছের মানুষ দূরের মানুষ লেখাঃ পিওনা আফরোজ প্রকাশনীঃ চন্দ্রভুক প্রকাশন প্রচ্ছদঃ সেলিম আহমেদ প্রথম প্রকাশঃ ডিসেম্বর- ২০২০ মোট পৃষ্ঠাঃ ১৩৮ মুদ্রিত মূল্যঃ ২৮৫ টাকা রিভিউঃ রাহাদ ইসলাম মানুষ চিরটিকালই একা। তবুও একা হওয়ার ভীষণ ভয় আঁকড়ে ধরে তাকে। চারপাশের মানুষগুলোকে ভালোবেসে নিজের কাছে রাখতে চায়। সব সময় পাশে কেউ কি থাকে?এক জীবনে ? পুরোটি জীবনে প্রকৃতির ঋতু বদলের মতোই এক এক সময় এক একজন ব্যক্তি জীবনে খুব গুরুত্বপুর্ন হয়ে পাশে থাকে। কোন কারণে অকারণে একসময় ইচছায় হোক আর অনিচ্ছায় সেই মানুষটি জীবন থেকে চলে যায় বা সরে যায়। তারপর ঐ শূন্যস্হান হয়তো অন্যজন পূরণ করে। এভাবেই চলতে থাকে জীবনের চক্রাকার খেলা অবিরাম। পাশে থাকা আর একা থাকা এটাই প্রকৃতির নিয়ম। জীবনের কোনো প্রাপ্তিই তো পূর্ণাঙ্গ নয়। কত গাছের সব কটা কুড়ি ফুটে ওঠার আগেই ঝরে পড়তে হয়, শেষ অস্তমিত যাওয়ার আগেই কত দিনের সুর্য মেঘে ঢাকা পড়ে যায়। কত গল্প অসম্পূর্ণই রয়ে যায়, কত স্বপ্ন বিস্মৃতিতে হারায়। তবুও একটা সোনালি ভোর কড়া নাড়ে এই সব পাওয়া না পাওয়ার দিনরাত্রি তে। আমাদের ঘরের চারপাশের দেয়ালে ছায়া পড়া কিছু চরিত্র নিয়ে লেখা হয়েছে বাস্তবধর্মী জীবনধারার উপন্যাস "কাছের মানুষ দূরের মানুষ।" উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছে মাহমুদ- মিনারা দম্পতি। অর্থ, সম্মান, প্রভাব, প্রতিপত্তি কোন কিছুরই কমতি ছিল না তাদের। তবে সৃষ্টিকর্তা তাদের সংসারে শুধুমাত্র একটি অপূর্ণতাই রেখেছিলেন। সেটি একটি সন্তানের অপূর্ণতা। নিঃসন্তান এই দম্পতির একমাত্র কাছের মানুষ মাহমুদের ভাইয়ের ছেলে মামুন। নিজের সন্তানের মতোই যাকে আগলে রেখেছেন। পড়াশুনা করে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হতে না পারলে টাকা দিয়ে ওষুধের দোকান করে দিয়েছেন, প্রেমের নায়িকা মায়ার সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন, আর্থিকভাবে দূর্বল মামুনকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মামুন-মায়ার বিয়ে এবং পরবর্তীতে তাদের সন্তান আদিবের লালল পালনেও নিঃস্বার্থভাবে অবদান রেখেছেন। এছাড়াও গল্পের প্রয়োজনে ফিরোজ, রিপন, নীলা, রত্না নামের বেশ কিছু চরিত্রের দেখা মিলেছে। দেখা মিলেছে ক্ষমতা বলে কিভাবে জোর জোবস্তিতে অন্যের জমি- জিরাত কিভাবে নিজের দখলে নেয়া যায়। স্ত্রী মিনারার মৃতূর পর মাহমুদ হোসেন ক্রমাগত অসুস্থ হতে থাকেন। শেষ অব্দি তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। নিঃসন্তান মাহমুদ ঢাকার একটি হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন মামুনের জন্য। মামুনকে দুদিন আগে ব্যংকের চেকে সই দিয়ে বলেছিলেন, আমি টাকার অংকটা লিখলাম না, তোমারে বিশ্বাস করি। টাকা নিয়ে আসলে রিং পরানো হবে। কিন্তু বেলা শেষে আসলেই মামুন- মায়া তাদের কাছের মানুষ হতে পেরেছেন? নাকি কেবলই স্বার্থ পূরণের জন্যই ব্যবহৃত হয়ে এসেছিলেন এত বছর? রয়ে গিয়েছিলেন দূরের মানুষ রূপেই? জানতে হলে পড়তে হবে উপন্যাসটি। মফস্বল শহরের পটভূমি কেন্দ্র করে উপন্যাস বিস্তার লাভ করলেও গোটা আখ্যানে মানুষের দাঁতাল সময়ের প্রতিরূপ দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন উপন্যাসিক পিওনা আফরোজ। প্রিয় কিছু উক্তিঃ ১) জানালের গরাদের ফাঁক দিয়ে রাতে অসীম আকাশের দিকে তাকাই। নিঃসঙ্গ চাঁদটাকে দেখি। কত রূপ ঐ চাঁদের! জোছনার আলোকচ্ছটায় পৃথিবীর রূপ কত অসাধারণ। মনে প্রশ্ন জাগে, তবুও চাঁদ কেন একা? সবাই কেন দিনের আলোই খুঁজে বেড়াই? রাত্রি সে তো নিশাচর দুঃখবিলাসী মানুষেরই অনাকাঙ্খিত যাপিত জীবনেরই অংশ। ২) জীবনের বেশিরভাগ খারাপ পরিস্থিতির জন্যই আমরা প্রস্তুত থাকি না। জীবনে খারাপ সময় কোনো পূর্বাভাস দিয়ে আসে না। ৩) আমরা কত নিয়মের বেড়াজালে জীবনকে বাঁধতে চাই, তাই না! জীবন কি সেই নিয়মে চলে? জীবন তো নদীর মতোই নিজস্ব গতিতে বয়ে চলে। কখনো ভাঙে, কখনো বা গড়ে। কখনো না চাইতেই অনেক কিছু দিয়ে যায়। আবার কখনো কিছু বুঝে উঠার আগেই অনেক কিছু কেড়ে নেয়। ঠিক আচমকা কালবৈশাখী ঝড়ের মতো। রেটিং ১০/১০

      By Murad Hossain

      20 Oct 2021 09:47 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      #chondrovuk_rokomari_book_club_review_2021 বইয়ের নামঃ কাছের মানুষ দূরের মানুষ। লেখকের নামঃ পিওনা আফরোজ। ক্যাটাগরিঃ সমকালীন উপন্যাস। প্রকাশনীঃ চন্দ্রভুক প্রকাশন। প্রকাশকালঃ ডিসেম্বর ২০২০. রিভিউ কারীঃ মোঃ মুরাদ হোসেন। Peona Afroz is a popular name for poetry and recitation lovers in Bangladesh. The name is often seen on the literary pages of various popular online portals and national newspapers. He is going to introduce himself as a writer by publishing the literary pages of YouTube, online portals and magazines recently. Amar Ekushey Book Fair 2021 will see the first novel of this young author 'Near people, far people'. Although the book was published in December last year. The novel begins with the beautiful moments of Minara and Mahmud's life. It is seen that they have spent thirty long years of married life in trust, faith and deep love. Money, land, savings, everything, but the imperfection of a child remains in their lives. The motherhood of the childless Minara is fulfilled through Mamun. Mamun is the son of Minara's brother-in-law. Mamun lost his parents at a young age. So he grew up with Minara and Mahmud. Minarai has nurtured him since childhood. When Mamun got a job and moved to the city, Minara felt the emptiness of a child again. So Mamun left his job in Dhaka and started a business in the village. From his student days, Mamun developed a relationship with a girl named Maya, whom he later married. This is how the story goes. Later, however, various characters came and crowded into the novel. These human relationships include hidden and overt tensions, conflicts of faith and disbelief. When the place of man's personal dependence is removed in old age, when loneliness becomes a huge rock and sits on the mind, even the people who have been close to it for so long seem to be far away. Matching the relationships of life to money, the rate of loved ones to needs, the sudden disappearance of familiar faces, doubts about who is near and who is far - all in all, this book is a wonderful text. Also particularly noteworthy is the author's skillful description and language magic, which will easily take a reader to the last page of the novel. The pre-order of the book is going on in various ways. The book is published by Chandrabhuk Prakashani. The cover of the book is designed by Selim Ahmed. On the cover is a vague image of a woman, the shadow of a man in the distance - who knows if he is near or far!

      By Tunisha Guha

      19 Oct 2021 04:29 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      #chondrovuk_rokomari_book_club_review_2021 বইয়ের নাম: কাছের মানুষ দূরের মানুষ বইটির ধরণ: সমকালীন উপন্যাস লেখিকার নাম: Peona Afrose রিভিউ ধরণ: লিখিত রিভিউ করছি : তুনিশা গুহ প্রকাশনায়: চন্দ্রভুক প্রকাশন প্রকাশক: মোঃ সোলায়মান আলী প্রথম প্রকাশ: ডিসেম্বর, ২০২০ প্রচ্ছদ: সেলিম আহমেদ পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৩৮ ⚫ প্রচ্ছদপট : বইটির প্রচ্ছদের সাথে বইটির নামের এবং কাহিনীর সুন্দর সামঞ্জস্য রয়েছে যা ছিলো ভালো লাগার প্রথম চমক। ⚫ উৎসর্গপত্র: লেখিকা বইটি উৎসর্গ করেছেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ, মা ইয়াসমিন আক্তারকে। ⚫ উপন্যাসের চরিত্রগুলোর পরিচয়: কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো মাহমুদ হোসেন-স্ত্রী মিনারা এবং তাদের ভাতিজা মামুন হোসেন-প্রেমিকা মায়া।এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্র দিয়ে উপন্যাসের কাহিনী সমৃদ্ধ করেছেন লেখিকা। ⚫উপন্যাসের কাহিনী বর্ণনা (অসমাপ্ত): মাহমুদ-স্ত্রী মিনারা এবং মামুন-প্রেমিকা মায়া এই দুই জোড়া জুটির মিষ্টি ভালোবাসার গল্প দিয়ে কাহিনীর শুরু হলেও পরবর্তীতে এই ভালোবাসার জের ধরেই পারস্পরিক নির্ভরশীলতা,ভয়-সঙ্কোচ, অবিশ্বাস, সম্পর্কের টানাপোড়েন,সম্পর্কের বৈচিত্র‍্যতা ইত্যাদি বিষয়গুলি মূখ্য হয়ে ওঠে। নিঃসন্তান মাহমুদ হোসেন জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে চরম জীবনবোধের মুখোমুখি হন! কি সেই জীবনবোধ? কেনই না ভালোবাসার উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও মাহমুদ হোসেনের জীবন অপূর্ণ ছিলো এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে বইটি পড়তে হবে। ⚫ বইটির ভালো দিক: বইটিতে লেখিকা নিঃস্বার্থ ভালোবাসার উদাহরণ দেখালেও এর পাশাপাশি জীবনস্বার্থের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখিও দাঁড় করিয়েছেন। সুবিন্যস্ত কাহিনীর শেষের চমকটি ছিলো একদমই অনাকাঙ্ক্ষিত!! ⚫বইটির খারাপ দিক: কাহিনীটিতে মাহমুদ ও নীলার সম্পর্কের বিষয়ে লেখিকা অস্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন হয়তো কাহিনীর স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সম্পর্কে কোনো খোলাসা করেননি। ⚫বইটির মূল কথা: জীবনযাত্রায় মানুষ একাই পথ চলে সময়ে অসময়ে। পৃথিবীতে মানুষ আসেও একা যায়ও একা। ⚫বইটি কেন পড়বেন : জীবনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বইটিতে আপনি জীবনেরই প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবেন। কাছের ও দূরের মানুষের মধ্যকার পার্থক্য অনুভব করতে চাইলে এখনই পড়ে ফেলুন বইটি। ⚫পিওনা আফরোজ: লেখালেখির সূচনা ঘটে কলেজ জীবনের রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।বিভিন্ন দৈনিক-সাময়িকী, অনলাইন সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর কবিতা, গল্প পাঠকের মন জয় করেছে। ভবিষ্যতের একজন সম্ভাবনাময়ী লেখিকা হিসেবে ইতিমধ্যেই নিজের সৃষ্টির পরিচয় করিয়েছেন তিনি। ⚫বইটির প্রিয় কিছু উক্তি : ১/জীবন মানুষকে যা শেখায় তা কোনো বইয়ের পাতায় লেখা থাকে না। ২/ শুধুমাত্র দেহ থেকে প্রাণ হারালেই মানুষের মৃত্যু হয়না। এই পৃথিবীতে এমন মানুষও আছে , যারা প্রতিদিন বারবার মরেও বেঁচে থাকে। ৩/জীবনের কত বিচিত্র রঙ,কত বিচিত্র অনুভূতি;সব রং মুছে দিয়ে মৃত্যুতেই জীবনের শেষ পরিণতি। ৪/দুনিয়া ভইরা স্বার্থের খেলা, স্বার্থ ছাড়া কিছুই নাই। ⚫পরিশেষে পাঠকের উদ্দেশ্যে: বই মানুষকে বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগায় আর "কাছের মানুষ দূরের মানুষ"-এর মত বাস্তবধর্মী জীবনমুখী বই তো জীবনেরই কথা বলে। জীবনকে চিনতে ও জানতে শেখায়। তাই বাস্তবধর্মী বই বেশি বেশি পড়ুন ও জীবনকে জানুন, জীবনের উদ্দ্যেশ্যকে জানুন, নিজেকে জানুন। বই পড়ে ভালো থাকুন। ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

      By Fahad Hossain Fahim

      12 Oct 2021 12:15 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      #chondrovuk_rokomari_book_review_2021 বইয়ের নামঃ কাছের মানুষ দূরের মানুষ লেখকঃ পিওনা আফরোজ প্রকাশকালঃ ডিসেম্বর, ২০২০ মূল্যঃ ২৮৫ টাকা পৃষ্ঠাঃ ১৩৮ প্রকাশনীঃ চন্দ্রভুক প্রকাশনী বইয়ের ধরণঃ উপন্যাস প্রচ্ছদঃ সেলিম আহমেদ √ কাছের মানুষ দূরের মানুষ ~ জীবনকে উপলব্ধি করার অপ্রতিম অনুষঙ্গ। বই রিভিউঃ " এই যে শুনছেন, এদিকে আসেন। কী সুন্দর বিকাল, দেইখা যান। মনে হয় একটু পরেই বৃষ্টি নামব " মিনু ও মাহমুদের প্রণয়াকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে এভাবেই কাহিনির শুরু। বইটি শুরু করতেই মনে হচ্ছিল এ যেন মায়ের হাতে পিঠা খাচ্ছি। কি সুন্দর শব্দ বিন্যাস, সুললিত ভাষার সৌন্দর্য, হৃদয়কে চিরে দেখানোর উপযোগী শব্দচিত্র, ধ্বনির ইন্দ্রজাল সৃষ্টিতে নিপুণতা, প্রচন্ড সংক্রমণ শক্তিসম্পন্ন প্রকাশভঙ্গি! যতই এগিয়ে চললাম বইয়ের পাতায়, মুখের হাসিটা ক্রমশ সঙ্কুচিত হতে লাগলো, ধীরে ধীরে অনুভব করতে লাগলাম এ যেন বিষাদের মাইসেলিয়াম জালক। মাহমুদ ও মিনারার গল্পটা বোধহয় সুখের নয়। তবে কি অপ্রাপ্তির? সহজভাবে বলতে গেলে গ্রামীণ পটভূমিতে রচিত এই উপন্যাস অসামান্য জীবনবোধের, শিল্প সত্ত্বার জাগরণের, প্রেম ও বিরহের এবং নিজেকে নতুন করে খুঁজে নেওয়ার। মায়া মামুনের প্রণয় কাহিনি ও জীবনের দ্বন্দ্বের বৈচিত্র্যময়তা, সবশেষে বৃদ্ধ মাহমুদ হোসেনের একাকিত্ব ও জীবনবোধ অনুপম রায়ের কণ্ঠে আবারও আমাদেরকে শুনিয়ে যায়, " আজ শেষমেশ নেই, তোর কেউ নেই, তোর কেউ নেই।" সময় বড়োই হিংসুটে। সে সবসময় একরকম থাকতে চায় না। সময়ের আয়নায় জীবনের সব রকম প্রতিচ্ছবি সমান হয় না। একটা সময়ে এসে মাহমুদ হোসেনকে জীবনের কঠিনতম সময় পার করতে হয়; নিঃসঙ্গ জীবনের আঁধার। সময়ের এই বহুমুখী আয়নায় একসময় প্রতিফলিত হয় কে আমাদের কাছের মানুষ আর কে-ই বা আমাদের দূরের! দুইজোড়া নারী পুরুষকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ। তাদের সম্পর্ক, পারস্পরিক নির্ভরশীলতায় একসময় ভীড় করতে থাকে টানাপোড়েন। বিশ্বাস অবিশ্বাসের কুহকে একসময় মুচড়ে পড়ে ভালোবাসার পুরুত্ব। বৃদ্ধ বয়সে মানুষের একান্ত নির্ভরতার জায়গাটি সরে যায়, একাকিত্ব যখন এক বিশাল পাথরখণ্ড হয়ে মনের ওপর দুর্নমিতভাবে চেপে বসে, তখন আশেপাশে ঘিরে থাকা কাছের মানুষগুলোকে দূরের বলে প্রতিভাত হতে থাকে। চেনা মানুষগুলোও দূর আঁধারে নির্বাপিত হতে শুরু করে ক্রমশ। আর শুরু থেকে শেষ অবধি জীবনের এসকল চরম বাস্তবতাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে সমর্থ হয়েছেন লেখিকা পিওনা আফরোজ। বলা যায় সমস্ত বই জুড়েই লেখিকার সংবেদনশীল মন ও পর্যবেক্ষণ শক্তির গভীরতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নিত্যদিনকার ছোট বড় ঘটনাগুলোকে লেখিকা সহজবোধ্য ও সুনিপুণভাবে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করেছেন। উপন্যাসটির আয়োজন তাই আপনাকেও ভাবতে বাধ্য করবে দিনশেষে আপনার কাছের বা দূরের মানুষটি কে? বাঙালি গৃহবধূ 'মিনারা' থেকে শুরু করে সবগুলো চরিত্রই ভালো লাগার মতো। আর উপন্যাসের শেষটাতে এসে হতবাক হতে হয়, এই ভেবে, জীবন নদীতে যে অপেক্ষার সূচনা হয়েছে, বাস্তবেও এই অপেক্ষার অবসান কি আদৌও ঘটে? লেখিকার কণ্ঠে শুনি, " দরোজাটা খোলা রেখে গভীর এক আচ্ছন্নতার আড়ালে একা বসে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে মাহমুদ হোসেন, তার কাছের মানুষগুলোর আাসার প্রতীক্ষায়..." সুবিখ্যাত ঔপন্যাসিক Harper Lee তার 'To Kill a Mockingbird' গ্রন্থে লিখেছিলেন, " You never really understand a person until you consider things from his point of view." লেখিকার মননশীলতার আয়নায় উপন্যাসের চরিত্রগুলোর যথাযথ স্ফূরণ আমাকে বিস্মিত করেছে। বইটি ভালোবাসা-দ্বন্দ, বিশ্বাস-অবিশ্বাস, নির্ভরশীলতা-স্বার্থপরতা, সম্পর্কের টানাপোড়ন কাছের মানুষ দূরের যাওয়ার বিষয়গুলোকে পাঠকের কাছে স্পষ্ট করে দেয়। কিন্তু উপন্যাসের শেষমেশ এসে আমার উচাটন মন বলতে বাধ্য হয় - সম্পর্কের অতি পরিচিত কিন্তু অচেনা দিকগুলো যখন ব্যাপিত হওয়ার পরিবর্তে শীতল হয়ে জমতে শুরু করে তখন এর রঙ হালকা না হয়ে গাঢ় হয়ে যায়; বরফ সাদা না হয়ে কালো বরফ হয়ে নির্বাপিত হয়ে যায় গল্পের মতো করে। এভাবেই উপন্যাসের প্রতিটি শব্দ আমাকে স্পর্শ দিয়েছে জীবনানুভূতির। বইটি মন্থনকালে তাই কত কথাই যে মনে আসে! কাছের মানুষ দূরের মানুষ উপন্যাস তাই অনুভূতির একটি জীবন্ত দীর্ঘশ্বাস; বাংলা সাহিত্যের অনবদ্য এক শিল্প, যা একবার নয় বহুবার পড়া যায়, এবং প্রতিবারেই খুঁজে পাওয়া যায় নিত্যনতুন আনন্দ উপভোগ করার অনুষঙ্গ। লেখিকার প্রিয় মা'কে উৎসর্গ করা ২০২০ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যে তার অনন্যতা, নিজস্বতার জন্য পাঠক নন্দিত হবে চিরকাল। প্রিয় উক্তিঃ * জীবনের বেশিরভাগ খারাপ পরিস্থিতির জন্যই আমরা প্রস্তুত থাকি না। জীবনে খারাপ সময় কোনো পূর্বাভাস দিয়ে আসে না৷ * সব রঙ জীবনকে রাঙাতে পারে না। কিছু কিছু রঙ ক্ষণিকের তরে রঙ ছড়িয়ে আবার অন্ধকারে মিলায়। * কত রুপ ঐ চাঁদের, জোছনার আলোচ্ছটায় পৃথিবীর রুপ কত অসাধারণ! মনে প্রশ্ন জাগে তবুও চাঁদ কেন একা.? সবাই কেন দিনের আলোই খুঁজে বেড়ায়.? রাত্রি সে তো নিশাচর দুঃখ বিলাসী মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত যাপিত জীবনে অংশ। * জীবন মানুষকে যা শেখায়, তা কোনো বইয়ের পাতায় লেখা থাকে না। ~ সমাপ্ত ~ রিভিউ ~ ফাহাদ হোসেন ফাহিম ১২ অক্টোবর, ২০২১

      By Kaosar Ahammad Ashik

      20 Jun 2021 09:35 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      অসাধারণ প্লট, দারুন শব্দ চয়ন, গল্প বলার ঢং ছিলো তৃপ্তিদায়ক।

      By mehrul

      03 Feb 2021 05:43 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      বইটা শেষ করলাম মাত্র, বহুদিন পর নবীন লেখকদের সুন্দর একটা বই পড়লাম। মাহমুদ সাহেবের জন্য অনেক খারাপ লাগতেছে। এখনো ঘোরের মধ্যেই আছি।

      By Anwar

      12 Jan 2021 04:33 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      Uponnash ti pore besh bhalo legeche. Lekhok er jonno shubhokamona roilo. likhar style tau besh chomotkar.

      By ashrafun akhter brishty

      12 Jan 2021 04:23 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      দিন শেষে আমরা সবাই একা, এই চরম সত্যি কথাটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কাছের মানুষ দূরের মানুষ পড়ে আবার কেমন জানি শিহরিত হলাম। মাহমুদ ও মিনারার ভালোবাসা, বিশ্বাস,মানসিক বোঝাপোড়া ছিল দাম্পত্য জীবনের জীবনগাঁথা। শব্দচয়ন, বিষয় বস্তুু ভীষণ ভালো লেগেছে। ,দিন শেষে আমরা সবাই একা, এই চরম সত্যি কথাটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কাছের মানুষ দূরের মানুষ পড়ে আবার কেমন জানি শিহরিত হলাম। মাহমুদ ও মিনারার ভালোবাসা, বিশ্বাস,মানসিক বোঝাপোড়া ছিল দাম্পত্য জীবনের জীবনগাঁথা। শব্দচয়ন, বিষয় বস্তুু ভীষণ ভালো লেগেছে।

      By maisha maliha

      28 Dec 2020 01:32 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      উপন্যাসের শেষটুকু মন ছুঁয়ে গেল। অসাধারন একটি উপনযাস।

      By Mujahid Hasan

      24 Oct 2021 02:57 PM

      Was this review helpful to you?

      or

      #chondrovuk_rokomari_book_club_review_2021 বইয়ের নাম: কাছের মানুষ দূরের মানুষ লেখিকার নাম: Peona Afrose প্রকাশনী: চন্দ্রভুক প্রকাশন পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৮ প্রচ্ছদ মূল্য: ২৮৫ ৳ প্রকাশকাল: ১ম প্রকাশ, ২০২০ ক্যাটাগরি: বুক রিভিউ রিভিউকারী: Mujahid Hasan পোস্ট নং- ০৮ প্রচ্ছদ পর্যালোচনা:- এক পুরুষের ছায়াসহ চিত্র দেখতে পাওয়া যায় প্রচ্ছদে। আর সাথে কপালে টিপ দেওয়া আবছা এক নারীর চিত্র আরো সৌন্দর্য করে তুলেছে বইয়ের প্রচ্ছদকে। সেলিম আহ্ মেদ স্যার সত্যি প্রশংসার দাবীদার। 'কাছের মানুষ দূরের মানুষ' উপন্যাস উৎসর্গ:- "কাছের মানুষ দূরের মানুষ" উপন্যাসটি পিওনা আফরোজ ম্যাম তাঁর মাকে উৎসর্গ করেছেন। লেখিকার ভাষায়, "আমার মা ইয়াসমিন আক্তার। যিনি আমার সকল কাজের অনুপ্রেরণা।" সূচনা:- 'কাছের মানুষ দূরের মানুষ' উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে মূলত দু’জোড়া নারী-পুরুষকে ঘিরে। তাঁদের প্রেমময় সম্পর্ক, পরস্পর নির্ভরশীলতার কথা দিয়েই কাহিনী শুরু। যদিও পরবর্তী সময়ে আরও নানা চরিত্র এসে উপন্যাসে ভিড় করে। উপন্যাসের চরিত্রসমূহ:- উপন্যাসের মূল চরিত্রে দেখা যায় মাহমুদ হোসেন এবং মিনারা নামের এক দম্পতি কে। এছাড়া রয়েছে মামুন-মায়া নামের আরেক দম্পতি। নীলা, রিপন, রত্না, নান্টু, ফিরোজ, আবিদসহ আরো কিছু চরিত্রের আর্বিভাব ঘটে উপন্যাসে। বইটি যাদের জন্য:- যাদের উপন্যাসের প্রতি অনিহা তারা এটি পড়লে অন্য উপন্যাসের প্রতি ভালোলাগা তৈরি হবে। এছাড়া উপন্যাসের ভাষা সহজ সাবলীলভাবে এগিয়ে চলে বলে একজন কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ বয়স্কসহ সকলের পড়ার উপযোগী উপন্যাসের বই "কাছের মানুষ দূরের মানুষ" বইটি। বই পর্যালোচনা:- মাহমুদ-মিনা নিঃসন্তান দম্পতি। মাহমুদ তার ভাতিজা মামুনকে তাদের কাছে নিয়ে আসেন। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে পোষাক পর্যন্ত ব্যবস্থা করে দেন। মামুনের পছন্দ মায়াকেও পুত্রবধূ করে ঘরে তোলে। এসব পড়ে মনে হতে পারে তারের পরিবার কতই না সুখী! কিন্তু অঘটন ঘটে তখন যখন মামুন এক বিধবার প্রেমে পড়ে। এদিকে মাহমুদের সাথে মিনারও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। মাহমুদের কাছ থেকে মিনাও চলে যায় না ফেরার দেশে! বাস্তবতা অনেক কঠিন হতে থাকে। মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়ে, এমতাবস্থায় হসপিটালে ভর্তি হতে হয়। কাছের মানুষ মামুন বিশ্বাঘাতকতা করে মাহমুদ হোসেনের সাথে। মাহমুদ হোসেন প্রতিদিন অপেক্ষা করতে থাকেন পরিবারের কেউ এলো বুঝি! কাছের মানুষগুলোর প্রতিক্ষার মাধ্যমেই উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে। পাঠকদের কাছে কিছু প্রশ্ন:- মাহমুদ-মিনা কেন সন্তানের মুখ দেখতে পায়নি? মাহমুদের সাথে মিনার ভুল বোঝাবুঝি কি নিয়ে হয়েছিল? মায়া-মামুনের কি হয়েছিল? মামুন নিজের চাচার সাথে কি নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে? এরকম শত শত প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পড়ুন "কাছের মানুষ দূরের মানুষ" বইটি। বই সম্পর্কে আমার নিজস্ব অনূভুতি:- অনুভূতি বলে শেষ করা যাবে না। এককথায় অসাধারণ "কাছের মানুষ দূরের মানুষ" বইটি। আমার পড়া সেরা উপন্যাস গুলোর মধ্যে একটা এটি। কাছের মানুষ গুলো কিভাবে দূরে চলে যায় সেটার বাস্তব প্রতিফলন পেয়েছি বইটি পড়তে পড়তে। পরিশিষ্ট:- হসপিটালে ভর্তি হবার পর একা একা থাকতে শুরু করে মাহমুদ সাহেব। কেবিনের দরজাটা খোলা রেখে গভীর এক আচ্ছন্নতার আড়ালে একা বসে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে মাহমুদ হোসেন, তার কাছের মানুষগুলোর আসার প্রতিক্ষায়...। বইটির ভালো দিক:- ভালো দিক বলে শেষ করা যাবে না। বইটিতে রয়েছে গভীর জীবনবোধ। এই বইয়ের সবচেয়ে ভালো দিক সহজভাবে সংলাপ এগিয়ে চলা। প্রতিটি চরিত্রের সাথে সমাজের ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। এরকম বই খুব কমই আছে যেগুলো এক বসায় পড়ে শেষ করা যায়। কোনো ক্লান্তি আসে না। বই থেকে শিক্ষা:- জীবনের সাথে অনেক মানবিক সম্পর্ক জড়িত। এই সম্পর্ক প্রেমময় বা পরস্পর নির্ভরশীলতার সম্পর্ক হয়ে থাকে। মানবিক এই সম্পর্কগুলোর মাঝে রয়েছে নানা প্রচ্ছন্ন ও প্রকাশ্য টানাপোড়েন, বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব। এসব থেকে বের হয়ে আসতে হবে আমাদের। তবেই কাছের মানুষ গুলোকে নিজের করে রাখা যাবে। 'কাছের মানুষ দূরের মানুষ' কেন পড়বেন:- বইটি সাধারণ একটি বিষয় নিয়ে রচিত, কিন্তু সাধারণের মধ্যে অসাধারণ রয়েছে। পড়তে শুরু করলে ডুবে যাবেন বইয়ের রাজ্যে। শেষ না হওয়া পর্যন্ত উঠতে মন চাইবে না। পাঠকরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়বেন। হাসি-খুশি, মমতা, ভালোবাসা, কান্না, সুখ-দুঃখ সব পাওয়া যাবে প্রতিটি পৃষ্ঠার মাধ্যমে। সুতরাং, দেরি না করে বই টি পড়ে ফেলুন। এতটুকুই বললাম, কথা আর বাড়াচ্ছি না। বই রহস্য:- বলা যায় পুরো উপন্যাস জুড়েই লেখিকার সংবেদনশীল মন ও গভীর পর্যবেক্ষণশক্তির পরিচয় বিধৃত হয়েছে। যা রহস্যের চেয়ে কম নয়। সুনিপুণ বর্ণনা ও ভাষার যাদু আপনাকে শেষ পৃষ্ঠা অবধি টেনে নিয়ে যাবে। সেরা কথোপকথন:- একটা সময় হয়তো সবকিছু ফুরায়া যায়। হয়তো তার সাথে যোগাযোগ করার প্রয়োজনটুকুও ফুরায়া যায়, তার উপর সকল অধিকারও ফুরায়া যায়। সবকিছু ফুরালেও মানুষটির জন্য মায়া, কেন জানি কখনোই ফুরায় না। বাস্তবতা বনাম উপন্যাস:- উপন্যাসে মফস্সল জীবনের এক দম্পতি মাহমুদ-মিনারার কাহিনি দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া তাদের কাছের মানুষদেরও দেখতে পাওয়া যায়। উপন্যাসে দেখা যায় মাহমুদ একা, অসুস্থ হলে কাছের মানুষ গুলো দূরে চলে যায়। বাস্তবতাও একই। যাদের ভালো দিন যায় তখন তাঁর পাশে সবাই থাকে। সেই মানুষই যদি বিপদে পরে তখন তাঁর পাশে কাউকে পাওয়া যায় না। কাছের মানুষ দূরের মানুষ হয়ে যায়। শেষ কথা:- বৃদ্ধ বয়সে মানুষের একান্ত নির্ভরতার জায়গাটি যখন সরে যায়, একাকিত্ব যখন এক বিশাল পাথরখন্ড হয়ে মনের ওপর চেপে বসে, এতকালের কাছের মানুষ গুলোকে দূরের বলে মনে হতে থাকে, চেনা মুখগুলোও কেমন যেন অস্পষ্ট ও রহস্যময় হয়ে ওঠে, জীবনের সেই অসহায় পর্বটিকেও লেখিকা অত্যন্ত দরদ দিয়ে "কাছের মানুষ দূরের মানুষ" উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। লেখিকা পিওনা আফরোজ: লেখিকা পিওনা আফরোজের জন্ম ১৩ ফেব্রুয়ারী। বেড়ে উঠা ঢাকা ও নোয়াখালীতে। ইডেন মহিলা কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। লেখালেখির শুরুটা আবৃত্তি ও কবিতা প্রেমের সূত্র ধরে। তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম "কাছের মানুষ দূরের মানুষ"। তাঁর দ্বিতীয় প্রকাশিত বই "নিহত জ্যোৎস্না"। ব্যক্তিগত জীবনে লেখিকা বিবাহিতা এবং এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জননী। এক নজরে "কাছের মানুষ দূরের মানুষ": লেখকের নাম: পিওনা আফরোজ প্রকাশনী: চন্দ্রভুক প্রকাশন পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৮ প্রচ্ছদ মূল্য: ২৮৫ ৳ প্রকাশকাল: ১ম প্রকাশ, ২০২০ প্রচ্ছদ: সেলিম আহমেদ ধরণ: হার্ডকভার পোস্ট নং:- ০৮ রেটিং: ০৯/১০

      By Reaz Fahme

      27 Dec 2020 10:07 AM

      Was this review helpful to you?

      or

      গ্রামীণ পটভূমিতে লেখা একটি সমকালীন উপন্যাস। মামুন আর মায়া নামের দুজন তরুণ তরুণীর প্রেমকাহিনী আর গ্রামীণ জীবনের জটিলতা দিয়ে উপন্যাসের শুরু। তবে ধীরে ধীরে মূখ্য হয়ে উঠে মাহমুদ হোসেন নামের এক বৃদ্ধ মানুষের একাকীত্ব আর জীবনবোধ। একটা বয়সে এসে তাঁকে মুখোমুখি হতে হয় জীবনের কঠিনতম বাস্তবতার। এই বাস্তবতা আমাদের সবার। সময় আমাদের বলে দেয়, এই জীবনে কে কাছের মানুষ ছিল? আর কে দূরের?

    •  

    Recently Viewed


    Great offers, Direct to your inbox and stay one step ahead.
    • You can pay using


    JOIN US

    icon Download App

    Rokomari.com is now one of the leading e-commerce organizations in Bangladesh. It is indeed the biggest online bookshop or bookstore in Bangladesh that helps you save time and money. You can buy books online with a few clicks or a convenient phone call. With breathtaking discounts and offers you can buy anything from Bangla Upannash or English story books to academic, research or competitive exam books. Superfast cash on delivery service brings the products at your doorstep. Our customer support, return and replacement policies will surely add extra confidence in your online shopping experience. Happy Shopping with Rokomari.com!