
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
মিথলজিক্যাল ফ্যান্টাসি "মিরিয়া" মৌলিক ফ্যান্টাসিতে নতুন সংযোজন। উপস্থাপনা এবং বর্ণনাশৈলী চমৎকার। দীর্ঘ নয় বরং মাঝারি বাক্যে গড়ে ওঠেছে উপন্যাসের শরীর। যোদ্ধাকুমারীকে খুঁজতে খুঁজতে কখন শেষ লাইনে এসে পড়বেন টের পাবেন না। তারপর চোখ বুঝে একটু ভাববেন। ফিরে যেতে চাইবেন প্রথম লাইনে কিন্তু সম্ভব নয়। কারণ পেছনে তাকাবার অবকাশ যে নেই। অনন্ত নয় তবে লম্বা এ সফর করে ক্লান্ত হৃদয়। এখন অনুভবে, স্মৃতিকাতরতায় তৃপ্তি খুঁজে নেয়। তাতেই ভালো লাগা। একটা উপন্যাসে আর কিসের প্রাপ্তি!
Was this review helpful to you?
or
জাদুরাজ্যে জন্ম নেবে এক মায়াবী রাজকুমার, রূপ-গুণ সব পাবে যে সোনালীচুলো এক দেবতার, নীল সাগরের তীব্র নীল যখন তার সেই চোখেতে কষ্ট আঁকে, সামর্থ্যের তরবারি তখন আসবে তার আঙুলের ফাঁকে। হবে যুদ্ধ, সংঘর্ষ, রক্তাক্ত হবেন রক্ষাকর্তা, হারাবে শাসনকারী পাথর, ডুবে যাবে সবকিছু এক ঘোর আঁধারে। ◑ কাহিনী সংক্ষেপ: জিউস রাজ্য, এলফ রাজ্য, পরী রাজ্য, অতিপ্রাকৃত রাজ্যের মতো মোট সাতটি রাজ্য নিয়ে গঠিত যোদ্ধা সাম্রাজ্যের সম্রাট আলভার এবং সম্রাজ্ঞী লিলিয়ানার দূরদর্শী শাসনামলে শান্তিতেই দিন কাটছিল সপ্তরাজ্যের অধিবাসীদের। তবে সপ্তরাজ্যের আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল ভয়ঙ্কর কালো মেঘ। ইস্কাইরোস এপ্টাডাস প্রধান পাইথিয়া থালিয়া দৈববাণী করলেন তার ভাই জাদুকর রাজ্যের রাজা ইকারাস এবং রাণী ইউডোরার সন্তান হিসেবে জন্ম নিবে সোনালীচুলো দেবতা স্বরুপ সর্বাকালের সর্বশেষ্ঠ জাদুকর এপোলিয়ান। যে হবে যোদ্ধা জাতির ধ্বংসের কারণ। যার আগমনে পতন ঘটে যোদ্ধা সাম্রাজ্যের। ক্ষমতার রদবদল হয়, সর্বত্র শুরু হয় কাটারমেনোসের রাজত্ব যাদের অভিশপ্ত হিসেবে কপালে মোহরাঙ্কিত করেছিল অলিম্পাসবাসী দেবতাগণ। সাতটি রাজ্যের জগৎ সপ্তরাজ্য ধুঁকছে। প্রার্থনায় সাড়া দিচ্ছেন না দেবতারাও। এসময় এসেছিল আরো একটি দৈববাণী। যেখানে বলা হয়েছিল সম্রাট আলভার ও সম্রাজ্ঞী লিলিয়ানার অনাগত কন্যাই হবে সপ্তরাজ্যের রক্ষাকর্তা। যুবরাজ্ঞী আলভিয়ানা হবে যোদ্ধা দেবী আর্টেমিসের অবতার। যে প্রতিশোধ নিবে যোদ্ধাদের হয়ে; যার আহ্বানে একত্রিত হবে সপ্তরাজ্যবাসী প্রাচীন রক্ত শপথের ক্ষমতায়। কিন্তু সেই দৈববাণী ছড়িয়ে পড়ার আগেই হারিয়ে যায় ডাইনীগুহাসহ ইস্কাইরোস এপ্টাডাস সংঘের প্রধান পাইথিয়া থালিয়া এবং সংঘের বাকি সদস্যসহ সেই দৈববাণীও। ফলে ছড়াতে পারেনি এই দৈববাণী, অথচ দৈববাণী সম্পর্কে অনেক মানুষ না জানলে বা বিশ্বাস না করলে সেই দৈববাণী ফলার সম্ভাবনা কমে যায়। অনেকেই আলভিয়ানাকে এখন এক কিংবদন্তী বলে, বিশ্বাস করতে পারে না তার অস্তিত্বে। সপ্তরাজ্যকে অভিশপ্ত কাটারমেনোসদের রাজত্ব থেকে মুক্ত করতে পথে নামলো তিনজন মানবকন্যা, একজন এলফ ডাইনী, একজন রক্তদানব এবং দুইজন পরী ভাই এর বিচিত্র দল। যাদের উদ্দেশ্য হারিয়ে যাওয়া ডাইনী গুহা ও হারানো দৈববাণী খুঁজে বের করে ছড়িয়ে দেওয়া। যোদ্ধা রাজকুমারী আলভিয়ানাকে খুঁজে বের করা। এই গল্প যোদ্ধাকুমারীর, যাকে খুঁজছে সবাই। এই গল্প প্রতিশোধের আগুনে পোড়া এলফ ডাইনী এলেনার। ভালোবাসায় উন্মাদ হতে চলা ডেলিয়া, রক্তদানব আলেক, দায়িত্ব আর কর্তব্যের মাঝে দ্বিধাগ্ৰস্ত লেনোরা, ছেলেমানুষি করা ডাফনি, অল্প বয়সেই একটা দলের নেতৃত্ব পাওয়া আরিয়া, রাজপ্রাসাদের সুখ ছেড়ে বেরিয়ে আসা বেন ও এডোনিস - এই গল্প তাদের। স্বল্পভাষী ক্যালিডা, মস্তিষ্ক আর হৃদয়ের সাথে যুদ্ধরত রাজকুমার আরশান, দুঃস্বপ্ন দেখা অভিশপ্ত রাজা, আত্মোৎসর্গ করা আন্দ্রিয়াও আছে গল্পে। ◑ পাঠ প্রতিক্রিয়া: মিরিয়া - যোদ্ধাকুমারির খোঁজে সিরিজের প্রথম বই। সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড যোদ্ধা সাম্রাজ্য বা সপ্তরাজ্যকে ঘিরেই পুরো বই রচিত। বইয়ের আগ্রহ জাগানিয়া অবতরণিকার পর ঘটনা প্রবাহ বেশ স্লো হয়ে যায়। সাথে চরিত্রগুলোর সাথে রিলেট করতেও কিছুক্ষেত্রে সমস্যা হয়। এর কারণ এটা সিরিজ প্রথম বলেই হয়তো। যেহেতু মিরিয়া একটি সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ড বেজড ফ্যান্টাসি বই তাই লেখিকার মস্তিষ্কে তৈরী হওয়া কল্পিত এই জগৎ কে একটি যথাযথ এবং বাস্তবিক আকৃতি দিতে একটু বেশি শব্দই ব্যবহার করতে হয়েছে। বর্ণনার মাধ্যমে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলো তুলে ধরতে হয়েছে যেন পাঠকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সম্পূর্ণ সপ্তরাজ্য। আবার ফ্যান্টাসি বই হওয়ায় প্রতিটা চরিত্রেরই একটা পেছনের গল্প ছিল। এসব কারণে প্রায় প্রথম দেড়শো পেইজ কিছুটা স্লো ছিল। স্লো থাকলেও কোনো অতিরঞ্জিত বা অপ্রয়োজনীয় ঘটনা ছিল না। ওয়ার্ল্ড বিল্ড আপ এবং চরিত্রায়নের কারণে এই সময়টা ছিল প্রয়োজনীয়। এরপরেই বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাজলের বিভিন্ন অংশের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চরিত্রগুলো যায়গামতো আসতে থাকে। পুরো উপন্যাসজুড়ে অলিম্পাসবাসী দেব-দেবীর উপস্তিতির কারণে খুব সহজেই লেখিকার গ্রিক মিথলজির প্রতি দুর্বলতার বিষয়টা বোঝা যায়। গল্পে উঠে আসে দেবরাজ জিউস, যোদ্ধা দেবী আর্টেমিস, জ্ঞানের দেবী এথেনা, দৈববাণীর দেবতা এপোলো, দেবতা ক্রোনাসের কথা। লেখিকা সুনিপুণ ভাবে ফ্যান্টাসি গল্প এবং গ্রিক মিথলজির সমন্বয় ঘটিয়েছেন যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। বইয়ে শাসনকারী পাথর, ছদ্মবেশী জাদুমন্ত্র, অস্তিত্ব লুকানোর জাদুমন্ত্র সহ এলফ, ডাইনী, পরীর মতো বিভিন্ন ম্যাজিক্যাল ক্রিয়েচার এবং ম্যাজিক সিস্টেমের ইঙ্গিত দিয়েছেন লেখিকা। কিন্তু ম্যাজিক সিস্টেমের কোনো জোরালো এক্সিকিউশন চোখে পড়েনি৷ তবে বোঝা যাচ্ছে সিরিজের পরবর্তী বইয়ে বেশ বড় একটা অংশজুড়ে ম্যাজিক বা জাদুর ভূমিকা থাকবে এবং ম্যাজিক সিস্টেমটাও সুচারু ভাবে ফুটে উঠবে। তবে বিভিন্ন অধ্যায়ে হুটহাট ন্যারেটর বা স্টোরিটেলার চেঞ্জ হওয়ার কারণে মাঝে মাঝেই খেই হারিয়ে ফেলছিলাম। কখনো কখনো বুঝতে সমস্যা হচ্ছিলো আসলে কোন চরিত্রটা এই অধ্যায়ে ন্যারেটর এর ভূমিকা পালন করছে, নাকি এখানে স্বয়ং লেখিকাই বর্ণনা করছেন সবকিছু। এটা এখন অনেকেই করছে তবে এই বিষয়টা আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না। আবার ডাফনির বর্ণনা দেওয়ার ক্ষেত্রে লেখিকার বার বার "তিড়িং বিড়িং লাফানো" শব্দগুচ্ছ কিংবা ডাফনির এই সবসময় লাফিয়ে বেড়ানো আচরণট চোখে লেগেছে। সবমিলিয়ে মিরিয়ার সাথে একটা চমৎকার সময় কেটেছে। সুজানা আবেদীন সোনালী রচিত "মিরিয়া - যোদ্ধাকুমারির খোঁজে" বাংলা ফ্যান্টাসি সাহিত্যের এক দারুণ সংযোজন। সবশেষে আপনি যদি ফ্যান্টাসি প্রেমী হয়ে থাকেন, থাকে গ্রিক মিথলজির প্রতি আগ্রহ, হারিয়ে যেতে চান হিংসা, প্রতিশোধ, যুদ্ধ এবং ভালোবাসার মতো শুদ্ধতম অনুভূতিতে তবে বইটি আপনার জন্য। ◑ চরিত্রায়ন: উপরের কাহিনী সংক্ষেপ পড়লে খুব সহজেই অনুমান করা যায় বইয়ে লেখিকা অসংখ্য চরিত্রের অবতারণা করেছেন। এবং পাঠ প্রতিক্রিয়া অংশে বলেছি লেখিকা প্রত্যেকটা চরিত্রকে নিজস্বতায় বিকশিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দিয়েছেন। ব্যাকস্টোরির মাধ্যমে প্রতিটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের অতীত তুলে ধরেছেন। আবার গল্পে খুব কম সময় থেকেও সম্রাজ্ঞী লিলিয়ানা, রাণী বেলাডোনা, পাইথিয়া থালিয়ার জোরালো ভূমিকা লক্ষণীয়। বলা যায় ডাফনির কথা যে পুরো বই জুড়ে ছিল তার দলের প্রাণশক্তি হিসেবে। সাথে নিজের শিশুতোষ কাজের জন্য হয়েছে দলের সদস্যদের বিরক্তিতে ভ্রুকুটির কারণ। এই চরিত্রটা বেশ ভালো লেগেছে, অনেকের কাছে ডাফনির যেকোনো পরিস্থিতিতে শিশুতোষ আচরণ বিরক্তিকর লাগতে পারে তবে এটা আমি উপভোগ করেছি। সিরিজের প্রথম বই হওয়ায় বেশ কিছু চরিত্র নিয়ে ধোঁয়াশা থেকে গিয়েছে। যেমন কাটারমেনোস রাজ ব্রেইডেন, অনেকটাই গ্রে ক্যারেক্টার। এছাড়া লেনোরা, ক্যালিডা এরা প্রত্যেকেই যেনো একেকটা রহস্য। এরপর বলা যায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জাদুকর রাজা এপোলিয়ানের কথা। এই চরিত্রটার কর্মকাণ্ডই অনেকটা ঘোলাটে। রহস্যমানব হিসেবে রেখে দিয়েছেন লেখিকা। সবশেষে বলা যায় যাকে নিয়ে এই পুরো উপখ্যান, আলভিয়ানা মিরিয়া, এই চরিত্রটাকে ঠিক খোলাসা করেননি লেখিকা। যেটা পাঠ বইটা পড়লেই বুঝতে পারবে। ◑ লেখনশৈলী: মিরিয়া - যোদ্ধাকুমারির খোঁজে তরুন লেখিকা সুজানা আবেদীন সোনালীর প্রকাশিত দ্বিতীয় বই। তবে বইটি পড়ার সময় পাঠক বুঝতে পারবে না যে এটা লেখিকার দ্বিতীয় বই। শব্দচয়ন, বাক্য গঠন থেকে শুরু করে সবকিছুই লেখিকা বেশ যত্নের সাথে করেছেন। যথাযথ শব্দচয়নের মাধ্যমে বজায় রেখেছেন দৈববাণীর গাম্ভীর্যতা। যা দৈববাণীর ওজন বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। এবং আলভিয়ানার কাছে মা সম্রাজ্ঞী লিলিয়ানার লেখা চিঠি এই বইয়ের সবথেকে সুন্দর অংশগুলোর একটি। মেয়ের কাছে মায়ের চিঠি। চিঠির মাধ্যমে লেখিকা প্রতিটা আবেগ, অনুভূতিকে স্পর্শ করেছেন। মায়ের মমতার পাশাপাশি দেখিয়েছেন একজন প্রজাপ্রিয় সম্রাজ্ঞীর দায়বদ্ধতা। ◑ বানান, সম্পাদনা, প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন ও অন্যান্য: বইয়ে বানান ভুল চোখে পড়েনি তেমন। পাশাপাশি আশরাফুল সুমন কর্তৃক বইয়ের সম্পাদনার কারণে বইটা এতো পরিপক্কতার সাথে পাঠকদের কাছে এসেছে। বইয়ের এই চমৎকার প্রচ্ছদটি করেছেন লর্ড জুলিয়ান। দৃষ্টিনন্দন নামলিপি ও প্রচ্ছদের কৃতিত্ব তারই। আর বইয়ের প্রোডাকশনও মোটামুটি ভালোই ছিল। ◑ পছন্দের অংশ: ✰ যার কাছে মনের সব কথা তা যেমন সমস্যাই হোক খুলে বলা যায়, এবং তার বলা কথায় সেই সমস্যাগুলোকে তুচ্ছ মনে হয়... সেই তো বন্ধু! আর মায়ের চাইতে নিঃস্বার্থ কোনো প্রার্থী হতে পারে সেই পদের জন্য? ✰ পরিবার হচ্ছে একটি বৃত্তের মতো। সবাই মুখোমুখি থাকে। কেউ কাউকে পিঠ দেখায় না। বুক পেতে একে অন্যের আঘাত নেয়। ✰ আমাদের প্রত্যেকের ভেতর নিজস্ব ও ভয়ংকর দানব আছে, একাধিক। সেই দানবগুলোর সাথে আমাদের নিজেদেরই লড়তে হয়। প্রতিনয়ত। কারণ তাদের সমাপ্তি নেই। শুরু আছে। আছে স্থায়িত্ব। আর হিংস্রতা। তাই শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তাদের। কখনও আমরা হিমশিম খেয়ে যাই। ✰ যখন কারও মনে হবে তার প্রতিটা আবেগ অনুভূতি ধরে ফেলার মতো এবং সেগুলোর যত্ন নেয়ার মতো কেউ একজন আছে, তখন তার বিরক্তি কিংবা রাগ কোনটাই কাজ করবে না। কাজ করবে গর্ব, মায়া। এবং কিছুক্ষেত্রে ভালোবাসা। ✰ প্রিয়জনকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করার মাঝেও ভীষণ শান্তি আছে। তাই তো মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও শুধুমাত্র প্রিয়জনদের রক্ষার্থে খোলা অস্ত্রের সামনে বুক পেতে দেয় মানুষ। নিজের মৃত্যুতে কিনে নেয় অন্যের জীবন। ◑ ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.২/৫ ◑ বই পরিচিতি: ▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬ ➠ বইয়ের নাম: মিরিয়া - যোদ্ধাকুমারির খোঁজে ➠ লেখক: সুজানা আবেদীন সোনালী ➠ জনরা: হাই ফ্যান্টাসি, মিথলজিক্যাল ফ্যান্টাসি ➠ প্রকাশনী: সতীর্থ প্রকাশনা ➠ প্রকাশকাল: ২০২২ ➠ প্রচ্ছদশিল্পী: লর্ড জুলিয়ান ➠ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২০ ➠ মুদ্রিত মূল্য: ৩৫০ টাকা
Was this review helpful to you?
or
৪/৪.৫ ও দেয়া যায় ⭐ পুরো বইটা পড়ার সময় কেমন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। ফ্যান্টাসি তেমন পড়া হয় না তাই আমার মনে হয় এগুলো বুঝতে হলে একটু গুরুত্ত্ব আর মনোযোগ দিয়ে পড়া লাগে। যাই হউক প্রথম দিকে একটু ধীরে এগোলেও মাঝের দিক থেকে ইন্টারেস্টিং হতে শুরু করে। বই শেষ কিন্তু রহস্য এখনও অশেষ অবস্থায় ঝুলে আছে। খুব ভালো লেগেছে আমার। অজানাকে জানতে পরবর্তী পার্টের অপেক্ষায় রইলাম 😍
Was this review helpful to you?
or
#মিরিয়া_যোদ্ধাকুমারির_খোঁজে #বুক_রিভিউ বই: মিরিয়া: যোদ্ধাকুমারির খোঁজে লেখক: সুজানা আবেদীন সোনালী প্রচ্ছদ: লর্ড জুলিয়ান জনরা: হাই ফ্যান্টাসি ও অ্যাডভেঞ্চার নির্ধারিত মলাট মূল্য/ফিক্সড প্রাইজ: ৩৫০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২০ ব্লার্ব: ইস্কাইরোস এপ্টাডাস প্রধান দৈববাণী করেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জাদুকরের আগমণের। যার জন্মে নির্ধারিত হয়েছিল পুরো একটা জাতির ধ্বংস। এখন সর্বত্র অভিশপ্ত দল কাটারমেনোসের রাজত্ব। সাতটি রাজ্যের জগৎ সপ্তরাজ্য ধুঁকছে। প্রার্থনায় সাড়া দিচ্ছেন না দেবতারাও। মুক্তি খুঁজতে পথে নামলো ছোট্ট একটা দল। উদ্দেশ্য সম্রাটের শেষ বংশধরকে খুঁজে পাওয়া। উদ্ধার করা সেই দৈববাণী, যা ছড়িয়ে দেয়ার আগেই হারিয়ে গিয়েছিলো ডাইনী গুহা। তারপর? এই গল্প যোদ্ধা কুমারীর। যাকে খুঁজছে সবাই। এই গল্প প্রতিশোধের আগুনে পোড়া এলফ ডাইনী এলেনার। ভালোবাসায় উন্মাদ হতে চলা ডেলিয়া, রক্তদানব আলেক, দায়িত্ব আর কর্তব্যের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত লেনোরা, ছেলেমানুষি করা ডাফনি, অল্প বয়সেই একটা দলের নেতৃত্ব পাওয়া আরিয়া, রাজপ্রাসাদের সুখ ছেড়ে বেরিয়ে আসা বেন ও এডোনিস- এই গল্প তাদের। স্বল্পভাষী ক্যালিডা, মস্তিষ্ক আর হৃদয়ের সাথে যুদ্ধরত রাজকুমার আরশান, দুঃস্বপ্ন দেখা অভিশপ্ত রাজা, আত্মোৎসর্গ করা আন্দ্রিয়া, ওরাও আছে গল্পে। পাঠ-প্রতিক্রিয়া: এই লেখিকার লেখা আগে পড়া হয়নি। সত্যি বলতে প্রথম দিকে মনে হয়েছিল লেখা মনে ধরবে তো? সংকোচবোধ ছিল। আমি তো ফ্যান্টাসি লাভার পাঠক। মনে না ধরলে কী পড়ব না? আমি পাঠক এমন না যে, না পড়ে সিদ্ধান্ত নেবো বইটা ভালো না খারাপ। লেখা ভালো না মন্দ। হ্যাঁ, বইটার প্রতি অন্য রকম একটা টান ছিল। দেশীয় ফ্যান্টাসি বলে কথা। তার উপর লেখিকার প্রথম ফ্যান্টাসি। যখন বইটা খুললাম সকল আগ্রহের তৃষ্ণা মিটিয়ে তখন চোখ জ্বলজ্বল করছিল। প্রথম কয়েক পাতা পড়ে হিরের মতো চকচক করছিল। কী পড়ছি আমি? এটাও সম্ভব? প্রথমে পড়ে মনে হচ্ছিল বিদেশি কোনো টপ ক্লাস ফ্যান্টাসি পড়ছি। একবারের জন্য মনে হয়নি এটা দেশীয়। কিন্তু এটা দেশীয় আর নতুন কোনো লেখিকার লেখা। গল্পের ভিতরে ডুব পাড়িয়ে ছেড়েছে লেখিকা তার লেখা দিয়ে। শব্দের ব্যবহার লেখায় অমায়িক। মন ছু্ঁয়ে দিয়েছে। একটা পাতাও নেই বোরিং লাগবে। লেখাগুলো আমাকে টেনে নিয়ে গেছে অপর পাতায়। শব্দের বুনন বলা যায় এক কথায় দারুণ। একেকটা চরিত্র ভেসে উঠছিল চোখের সামনে। ডাফনি, ক্যালিডা, লেনোরা, আরশান, আরিয়া, এলেনা ইত্যাদি যাবতীয় চরিত্রে কারো কোনো কমতি নেই। সবাই সবার জায়গায় পার্ফেক্ট। মনে হচ্ছিল তারাই বাস্তব আর আমি কোনো গল্প। এতোটা পার্ফেক্ট করে সাজানো। মুভি দেখলেও চোখের সামনে এতো ডিটেইলিং ভাবে ভাসে না সব। গল্পে কিন্তু পরিবেশের দিক থেকে ডিটেইলিং গুলো বেশ ভালো ছিল। বিশেষ করে ফাইটসিন গুলো লেখিকা যেভাবে তুলে ধরেছেন মনে হচ্ছিল কোনো ফ্যান্টাসি মুভি বা সিরিজ দেখছি চোখের সামনে। পড়া ও দেখা দুটোই ভালো ভাবে হয়ে গেছে। গল্পের মধ্যে আমার পছন্দের চরিত্র লেনোরা, ক্যালিডা আর ডাফনি। গল্পের ভিতরে এর বেশি কিছু বলতে চাই না। বলতে গেলে কিছুই বলতে চাই না। যদি বলে দেই পড়ে মজা পাবেন না, পড়ার আগ্রহ কমে যাবে। আমি চাই আপনি পড়ুন। আমি বলব, ফ্যান্টাসি পাঠকদের জন্য মাস্টরিড এই "মিরিয়া: যোদ্ধাকুমারির খোঁজে।" এটা লিখতেও কম সময় যায়নি লেখিকার। এত সময়কে কাজে লাগিয়ে দারুণ কিছু তৈরি করেছে পাঠকদের জন্য। সামনের এর দ্বিতীয় পার্ট আসবে। আমি তো অধির আগ্রহে বসে আছি পরেরটার জন্য। সমালোচনা: খারাপ লাগার মতো কোনো দিক খুঁজে পাইনি। সমালোচনার জন্য কোনো দিক পেলাম না। এডাল্ট কিছু নেই। সর্ব বয়সের পাঠকের জন্য বই এটা। বানান ভুল নেই ততটাও। থাকলেও চোখে ধরার মতো না। বইয়ের সম্পাদক আশরাফুল সুমন বেশ ভালো কাজ করেছেন। বলতে গেলে বইয়ের পরিপূর্ণতার কয়েকধাপ তার হাতেই হয়েছে। প্রচ্ছদ: বইয়ের প্রচ্ছদটা দারুণ। মনে ধরার মতো। মনোমুগ্ধকর। জুলিয়ান ভাইয়ের কাজ কখনো খারাপ৷ হয় না। সুতরাং তার কাজ নিয়ে কখনো সন্দিহান নই আর না হব কখনো। প্রডাকশন: বইয়ের প্রডাকশন বেশ ভালো হয়েছে। আরেকটু ভালো হতেও পারত। তবুও, বলবো বেশ ভালো। মাঝারি বইয়ের জন্য প্রডাকশন প্রকাশী ভালোই দিয়েছে। রেটিং: ৫/৫




