
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
প্রচ্ছদ এবং সাইজ দেখে কিউট টাইপ বই দেখে কিনি! পরে পড়ার পর বই টা বেশ ভালো লাগে। খুবি ভালো!
Was this review helpful to you?
or
সবকিছু মিলিয়ে অসম্ভব সুন্দর বইটা
Was this review helpful to you?
or
#Book_Insights 33 ভিন্ন ধাঁচের মোট ১০ টি গল্প নিয়ে নবলেখক 'সমিয়াতুল সামি' র লেখা গল্পগ্রন্থ এই বইটি। একে একে সবগুলো গল্প নিয়ে আলোচনা করা যাক। ১. চক্রাবর্ত: এক ক্ষুদে লেখককে লেখা জমা দিতে হবে, কিন্তু কোনো প্লট মাথায় আসছেনা তার। একলা ঘরে অন্ধকার রাতে প্লট আইডিয়া পেতে প্রিয় মানুষকে কল করে সে, কিন্তু তার গল্পটাও পুরোটা শোনা হয়ে উঠে না। • নাম থেকেই মনে হয়েছিলো, একটা গল্পের চক্র হবে। তবে মূল অংশে সম্ভাবনা দেখিয়েও আলাদা করে বলার মত গল্প নেই, বরং সমাপ্তি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার একটা চেষ্টা। (২/৫) ২. কবরফলক: বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎই এলাকার কারো মৃত্যুসংবাদ শুনতে পায় সিয়াম। পথিমধ্যে হঠাৎ রফিক চাচাকে দেখতে পেয়ে চমকে যায় সে। আরও এক বছর আগেই রফিক চাচার মৃত্যু হয়েছে। • প্রেডিক্টবল গল্প। তবে লেখনী আগেরটার তুলনায় কিছুটা ভালো লেগেছে। (৩/৫) ৩. ওই সন্ধ্যা আসে, যেন কি শঙ্কা সন্দেহে: বৃষ্টিমুখর এক সন্ধ্যায় নীরবের বাসায় ছাতা চাইতে আসে আবির। ছাতা না নিয়েই চলে যায় সে। পরদিন সকালে নীরব জানতে পারে, দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আবিরের। • চরিত্রায়ন ও সংলাপ অতি নাটকীয়। যদিও শুরুতে মূল প্লট একটু ভিন্ন লাগছিলো, আর কৌতূহলও জাগছিলো। কিন্তু শেষটায় তার কিছুই নেই, হতাশাজনক। (৩/৫) ৪. আর না ফেরার রাত: মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা গল্প, কালরাতে এক গ্রামে ঘটে যাওয়া গল্প। • ২৫ শে মার্চ কালরাতের একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনার মতোই মনে হবে। পাকিস্তানি হানাদারদের বিপরীতে শিমুলের মতো যুবকের প্রতিবাদের ইচ্ছা আর দিয়ার মতো মেয়ের অসহায়ত্ব। লেখনীর খুব বেশি খুঁত নেই এই গল্পে। (৩.৫/৫) ৫. কল্পনায় আঁকা ম্যাচ: ১৩ এপ্রিল, ১৯৯৭ সাল। কুয়ালালামপুর স্টেডিয়ামে ক্রিকেট ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও কেনিয়া। খেলার প্রতি আগ্রহে উত্তাল সারা দেশ, রেডিওতে কান সবার। • খেলা বুঝা, না বুঝা পরের বিষয়। এ দেশের মানুষের কাছে খেলা উপভোগ করাটা আগে। সেটা যদি হয় ক্রিকেট, তবে তো কথাই নেই। কিছু বছর আগেও এমন একটা পরিবেশ ছিলো, বাংলাদেশের খেলা হলে সবাই মুখিয়ে থাকতো যার যার কর্মস্থলে। এ গল্পটা তেমন একটা নস্টালজিক মুহূর্তকে স্মরণ করিয়েছে। লেখনীও উন্নত লেগেছে আগের গুলোর চেয়ে। (৪/৫) ৬. অ্যাডিডাস থ্রি স্ট্রাইপস: আউট নাকি নট আউট তার জের ধরে ঝগড়া বেঁধে গেলো খেলা দেখতে আসা এক দম্পত্তির। বিপরীত দলের প্রতিও তীব্র ক্ষোভ পুরুষ চরিত্রের। • ক্রিকেট নিয়ে পরপর দুটি গল্প দেয়া সঠিক মনে হয়নি। সত্য ঘটনার ভিত্তিতে লেখা গল্প হলেও, এতে আমোদ নেই। একটা ক্রিকেটারকে হুমকি দেয়ার মতো ঘটনা উল্লেখ থাকলেও, সেটার তদন্ত এখানে মুখ্য বিষয় না; তাই কোনো কৌতূহলও নেই। (২/৫) ৭. আধার রাতের স্বপ্ন: গল্পটা বিপলু নামে এক ক্রিকেট প্রেমী বালকের। • লেখক আরো একবার ক্রিকেট প্রেম প্রকাশের চেষ্টা করলেন এই গল্পে। আমার কাছে যা কারো কৈশোরের একটা দিনের একাংশ মনে হলো কেবল। (২.৫/৫) ৮. জন্মদিনের রাত: বন্ধুর জন্মদিনে সারপ্রাইজ দিতে মাঝরাতে কেক কিনতে বের হয়েছে তিন কিশোর। এত রাতে কেকের দোকান কোথায় খোলা পাবে। এক জায়গায় সন্ধান পেলেও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে তাদের সাথে। • ভিন্নধর্মী প্লট। অন্তত বইয়ের বাকি গল্পের চেয়ে ভিন্ন এবং একইসাথে বাস্তবপন্থী। যদিও গল্পটা আরেকটু লম্বা হবে আশা ছিলো। যাইহোক, লেখনী এতক্ষণে যথাযথ মনে হয়েছে। (৪/৫) ৯. রক্তবদন প্রভাত: উর্দু বলতে হবে বলে, চাকরি ছেড়ে দিলো বাবুল। অভাবের তাড়না দেখা দিলো তার নতুন সংসারে। • ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা গল্প। বাস্তব চরিত্রের উল্লেখ আছে, তবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। লেখনীও ঠিকঠাক। (৪/৫) ১০. পুষ্পাঞ্জলিতে লেগে গেছে রক্তের ছোপ: দেশের নামকরা এক বিশ্ববিদ্যালয় হলে একের পর এক খুন হয়ে যাচ্ছে। গুম হয়ে গেছে আরো একজন। তদন্ত করতে নেমেছে দেশের গোয়েন্দা বিভাগ। • বইয়ের সবচেয়ে বড় আকারের গল্প। সমাপ্তি গল্প হিসেবে যথেষ্ট ভালো। লেখনশৈলীর বিচারে বইটার এই গল্প উপরে থাকবে। মূল টুইস্ট কী সেটা ধরতে পেরেছিলাম; শুধু সেটা কাকে নিয়ে এবং কেনো, তা বলতে পারিনি। খুনি কে বললেও, সমাপ্তিতে খুনের কারণ আরো বলা হয়নি। কে জানে লেখক কি পরবর্তী বইয়ের জন্য রেখে দিলেন কিনা! (৪/৫) • সামগ্রিক অভিমত: লেখার মাধুর্যতা বজায় রাখতে হলে নিয়মিত লেখার পাশাপাশি, লেখা বেশ কয়দিন ফেলে রাখা উচিত। লেখক কোন গল্পটা কবে লিখেছেন কিংবা কোনটা কতোদিন ব্যবধানে বইয়ের জন্য নির্বাচন করেছেন, তা আমার জানা নেই। তবে এটা সত্য, গল্পগুলোর লেখার সময়কালে বিশাল ব্যবধান স্পষ্ট। লেখার দক্ষতার তারতম্য থেকেই বুঝা যায়। আমার মতে, লেখাগুলো আরো সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে, গল্পের শাখা প্রশাখা আরো বেশি বিস্তর করা যেতো। কিছু গল্পে এমনও মনে হয়েছে যেনো গল্পটা বিস্তর করার ক্ষেত্রে লেখক নিজেকে আটকে রাখছেন। তবে অস্বীকার করবো না, নতুন লেখক হিসেবে, চেষ্টা যথেষ্টই আছে। শুধু লেখক নিজের লেখক সত্তাকে মুক্তভাবে লিখার সুযোগ দিলেই হবে। লেখককে আগামীর সাহিত্যে পদচারণার জন্য শুভকামনা। • সামগ্রিকভাবে ব্যাক্তিগত রেটিং: ৩.২৫/৫ (বাইন্ডিং এর মান চলনসই। কাগজের মান ঠিকঠাক আছে। বানান ভুল অবশ্য চোখে পড়েনি।) এক নজরে, • বই: ওই সন্ধ্যা আসে, যেন কি শঙ্কা সন্দেহে • লেখক: সামিয়াতুল সামি • ধরণ: গল্পগুচ্ছ • প্রকাশনী: সতীর্থ প্রকাশনা • প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২৪ • প্রচ্ছদ: পরাগ ওয়াহিদ • পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬ • মুদ্রিত মূল্য: ২২০ টাকা ~ ইয়াসির আল সাইফ




