
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
বই: সুচেতনা... কত দূরে তুমি? লেখক: ফাহমিদা বারী প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী জনরা: গল্পগ্রন্থ প্রকাশনী: চলন্তিকা মূল্য: ৪৫০ টাকা সুচেতনা... কত দূরে তুমি? বইটি আমার উইশলিস্টে রাখার অন্যতম কারণ ছিল বইটার প্রচ্ছদ ।প্রথম দেখাতেই আমার নজর কেড়েছিল প্রচ্ছদ টা। “আজ পড়ি, কাল পড়ি” করতে করতেই হঠাৎ ভাবলাম - একটা গল্প পড়েই দেখি না, কেমন লাগে ! কিন্তু একটা গল্প পড়তে গিয়েই যেন বইটা আমার পাঠক হৃদয়কে বন্দী করে ফেলল। সম্পুর্ণ বই শেষ না করে আর উঠতে পারিনি। বইয়ের নয়টি গল্পে আমাদের সমাজের নানা অসংগতি, লোভ, লালসা, হিংসা ও বিদ্বেষ অত্যন্ত বাস্তবভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও অযথা অতিরঞ্জন নেই; বরং গল্পগুলো পড়তে পড়তে মনে হয়েছে - এ তো আমাদের চারপাশের চেনা বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। ফাহমিদা বারীর লেখনী নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। বরাবরই তাঁর লেখায় থাকে সাবলীলতা ও বাস্তবতার ছোঁয়া। এই বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়। প্রতিটি গল্পই আমাকে ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতির স্বাদ দিয়েছে। গল্পগুলোর শুরু যেমন আকর্ষণীয় ছিল, তেমনি সমাপ্তিগুলোও ছিল পরিপূর্ণ। তবে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে “বিকেলের শিউলি” গল্পটি। সমাজের হাজারো কটুকথা আর প্রতিকূলতার মাঝেও কীভাবে আত্মমর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়, শিউলি চরিত্রটি যেন সেটাই শিখিয়ে দিয়েছে। আরো কিছু কথা— বইটা পড়ার আগেই আমার গোপন ইচ্ছে ছিল, লেখায় খামতি পেলে বা গল্পগুলো আমার কাছে ভালো না লাগলে সমালোচনা করতে ছাড়ব না। কিন্তু বইটা শেষ করে একটু হতাশই হলাম। কারণ লেখক এত যত্ন আর মনের মাধুরী মিশিয়ে গল্পগুলো লিখেছেন যে, আমার চোখে কোথাও তেমন কোনো খামতি ধরা পড়েনি। বইয়ের প্রিন্টিং , বাঁধাইও বেশ ভালো ছিল। বানান ভুল খুব একটা চোখে পড়েনি। যেহেতু বইটা গল্পগ্ৰন্থ তাই প্রতি পৃষ্ঠার ফুটারে বইয়ের নাম না দিয়ে শুধু গল্পগুলোর নাম দিলে ভালো হতো।
Was this review helpful to you?
or
#সুচেতনা_কত_দূরে_তুমি? বই: সুচেতনা কত দূরে তুমি? লেখক: ফাহমিদা বারী জনরা: গল্পগ্রন্থ প্রকাশনী: চলন্তিকা লেখক ফাহমিদা বারীর লেখা সাবলীল ও মনোমুগ্ধকর। যার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে তার নতুন গল্পগ্রন্থ 'সুচেতনা কত দূরে তুমি?' বইতে। মোট ৯টি ভিন্ন স্বাদের গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে এই বইটি। প্রতিটি গল্পই আমাদের চেনা সমাজের একেকটি অন্ধকার দিককে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। মানুষের অদম্য লোভ, লালসা, সামাজিক অসংগতি এবং বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে এই বইয়ের পাতায় পাতায়। বইটিতে লেখক খুব সহজ কিন্তু আবেগঘন ভাষায় মানুষের মনের সুক্ষ্ম অনুভূতি তুলে ধরেছেন। বইটিতে থাকা প্রতিটি গল্পই পাঠককে ভাবনার খোরাক যোগাবে। যেমন- ★বিকেলের শিউলি: জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক নারীর সংগ্রামের গল্প। পঙ্গু স্বামীর চিকিৎসার জন্য শিউলি যেভাবে নিজের হোটেল দাঁড় করালো, তা যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি গল্পের শেষটা সমাজের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। ★নিখুঁত অভিনয়: রুপালি জগতের চাকচিক্যের আড়ালে যে অন্ধকার গলি রয়েছে, বিশেষ করে অভিনেত্রীদের টিকে থাকার লড়াই ও আত্মত্যাগের করুণ চিত্র এখানে ফুটে উঠেছে। ★প্রথম পাতার খবর: একজন সাংবাদিকের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সত্য বলতে গিয়ে যে চরম মূল্য চুকাতে হয় সেই রূঢ় বাস্তবতাকে লেখিকা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেছেন। ★নিপাতনে সিদ্ধ: সৎ মানুষের ওপর মিথ্যে অপবাদ এবং ষড়যন্ত্রের এক নিপুণ আখ্যান। এছাড়া 'শ্বাপদসংকুল', 'গহিনে গরল' এবং 'যেদিন আমি সন্ধ্যা হব' গল্পগুলোতে পারিবারিক সম্পর্ক, উত্তরাধিকার এবং সামাজিক নিষ্ঠুরতার নানা দিক উঠে এসেছে। পাঠ অনুভূতি: লেখক ফাহমিদা বারীর লেখা বরাবরই চমৎকার। এই বইয়ের গল্পগুলো পড়তে পড়তে সচেতন পাঠক হিসেবে মনে প্রশ্ন জাগে—মানুষ হিসেবে আমরা কেন এত প্রতিহিংসাপরায়ণ আর লোভী হয়ে উঠছি? কেন তুচ্ছ কারণে আমরা অন্যের জীবন কেড়ে নিতেও দ্বিধা করি না? গল্পগুলো কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে নতুন করে চেনার জন্য। সারসংক্ষেপ: সমকালীন সমাজ, মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে যারা শক্তিশালী গল্প পড়তে পছন্দ করেন, তাদের জন্য ফাহমিদা বারীর এই বইটি একটি দারুণ সংগ্রহ হতে পারে।
Was this review helpful to you?
or
ছোটগল্পের বই পড়া হলো অনেকদিন পর।যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি বড় পরিসরের লেখা পড়তেই পছন্দ করি।তবে আপুর বই পড়তে ভালোই লাগে, হোক সেটা ছোট গল্প কি বড় গল্প।বরাবরের মতোই গল্পগুলো আমাদের সমাজে আশেপাশের ঘটে চলা ঘটনার মতোই বাস্তবধর্মী।প্রতিটি গল্পই অসাধারণ জীবনবোধের কথা বলে।অন্য লেখাগুলোর মতোই দারুণ লেগেছে।
Was this review helpful to you?
or
প্রফেশনাল/যান্ত্রিক জীবনে প্রবেশ করার পর বই পড়া অভ্যেস টা হারিয়েই গিয়েছিল কিন্তু কোন একদিন আমাদের বন্ধুদের একটা গ্রুপে ফাহমিদা বারি বিপুর লিখা বইয়ের একটু প্রশংসা শুনেছিলাম সেই থেকে তার লিখা বই পড়ার আগ্রহ এবং পরবর্তীতে নেশায় পরিণত হওয়া। তার লিখার ধরন, ভাষার প্রয়োগ সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম সেটা " সচেতনতা কতদূরে তুমি " তে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। লেখিকার লেখায় একটা চুম্বকের মতো আকর্ষণ কাজ করে, পড়া শুরু করলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত পড়া ছেড়ে উঠতে মন চায়না। যায় হোক এক কথায় এক্সিলেন্ট। পরবর্তী বই এর অপেক্ষায় ( মো: আবু জাফর সিদ্দিক, মিল্টন) রইলাম।
Was this review helpful to you?
or
সুচেতনা কত দূরে তুমি.. পড়া শেষ করলাম। অনেক দিন পর খুব ভালো একটা বই পড়লাম। বোধ ছাড়া মানুষের মত কি বাঁচা যায়! বোধই কেবল চেতনা জাগায়। প্রতিটি গল্পের মধ্যেই জীবনবোধের কোন না দিক ভীষণ ভাবে নাড়া দিয়েছে! পড়েছি আর ভেবেছি একজন লেখক কতটা সংবেদনশীল আর দায়িত্বশীল হলে সুচেতনাকে খুঁজে ফেরার বোধটা পাঠকের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে!
Was this review helpful to you?
or
#সূচেতনা_কত_দূরে_তুমি? "সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে—এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে।" এই পঙক্তিগুলো জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'সুচেতনা' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এখানে কবি জীবনানন্দ দাশ ভবিষ্যতের এক সুন্দর পৃথিবীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তেমন লেখক ফাহমিদা বারীও তার লেখা নতুন গল্পগ্রন্থ 'সূচেতনা...কত দূরে তুমি?' বইটিতে সমাজের ভিন্ন ভিন্ন কিছু রূপ তুলে ধরে নতুন কিছুর আশা ব্যক্ত করেছেন। সংকলনের নয়টি গল্পে লেখক সমাজের গ্ল্যামার, রহস্য, নৈতিকতা এবং মানবিক লড়াইয়ের এক নিপুণ কোলাজ এঁকেছেন। ১. নিখুঁত অভিনয় : পর্দার অন্তরালে হারিয়ে যাওয়া সুপারস্টার শিলা নুরের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন এবং প্রতিভার জোরে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। গল্পটি গ্ল্যামার জগতের নিষ্ঠুরতা আর একজন শিল্পীর অদম্য স্পৃহার এক সার্থক চিত্রায়ণ। শেষটা ভীষণ মন কেমন কড়া বাস্তবতা। ২. কাকতালীয় : পুরনো বন্ধু নীলার আগমনে সুপ্তির বিষণ্ন জীবনে প্রাণ ফিরলেও, এক রহস্যময় হত্যাকাণ্ড সব ওলটপালট করে দেয়। বন্ধুত্ব আর রোমাঞ্চকর রহস্যের মিশেলে গল্পটি পাঠককে শেষ পর্যন্ত বুঁদ করে রাখবে। শেষটায় সাব্বির সাহেবকে আরেকটু আশা করেছিলাম, তবে ছোটোগল্প হিসাবে এটাও পার্ফেক্ট। ৩. খেসারত : ভেজাল কারখানার শ্রমিক গফুরের নিজের তৈরি বিষাক্ত চকলেটের বলি হয় তারই আপন সন্তান। কিন্তু কীভাবে? "পাপ কখনো বাপকেও ছাড়ে না"_ এই চরম সত্যটি এখানে অত্যন্ত নির্মম ও আবেগঘনভাবে ফুটে উঠেছে। ৪. নিপাতনে সিদ্ধ : পরোপকারী শিক্ষক রশিদ সাহেব যখন ষড়যন্ত্রের শিকার, তখন তার অতীতের এক সৎ কাজই অলৌকিকভাবে তাকে রক্ষা করে। সততা যে মানুষের শ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ, গল্পটি সেই হারানো বিশ্বাসকে পুনরায় জাগিয়ে তোলে। এই গল্পটি ভীষণ ভালো লেগেছে। শুরু থেকে শেষ একদম মনমতো ছিলো। ৫. প্রথম পাতার খবর : মফস্বল সাংবাদিক মিজান দুর্নীতির খবর ছাপাতে গিয়ে নিজেই 'নিহত সাংবাদিক' হিসেবে পত্রিকার প্রথম পাতার খবর হয়ে যায়। ক্ষমতার দাপটে সত্যের অপমৃত্যু এবং পেশাদারিত্বের এক করুণ ট্র্যাজেডি এই গল্পটি। শেষটায় ভীষণ মন খারাপ হয়েছে। তবে এটাই আমাদের সমাজের নিকৃষ্ট বাস্তবতা। ৬. বিকেলের শিউলি : জীবনযুদ্ধে হার না মানা নারী শিউলির পিঠা বিক্রি করে মাথা উঁচু করে বাঁচার সংগ্রাম। সেই সাথে দাম্পত্য জীবনের বাস্তব আয়না ফুটে উঠেছে। প্রতিকূল সমাজব্যবস্থায় একজন নারীর অদম্য মনোবল ও আত্মপ্রত্যয়ের এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। এই গল্পটা প্রতিটি নারীর জন্য শিক্ষণীয়। ৭. শ্বাপদসংকুল : বাকপ্রতিবন্ধী মিনুর ওপর হওয়া পাশবিকতার বিচারহীনতা এবং সমাজের 'দ্বিপদ পশু'দের ভয়ংকর রূপ তুলে ধরেছেন লেখক। বনের পশুর চেয়ে সমাজের মুখোশধারী মানুষ যে কতটা হিংস্র হতে পারে, তা এখানে সাহসিকতার সাথে চিত্রিত হয়েছে। শেষটা ছিলো আরও ভয়ংকর। ৮. গহিনে গরল : শিক্ষিত জহিরের রহস্যময় মৃত্যু এবং রক্তের সম্পর্কের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিশ্বাসঘাতকতার মড়োক উন্মোচন করেছেন লেখক এই গল্পে। "সবচেয়ে কাছের মানুষটিই কি সবচেয়ে অচেনা?" এই প্রশ্নটিই গল্পের মূল রোমাঞ্চ। ৯. যেদিন আমি সন্ধ্যা হব : 'সন্ধ্যামালতি' থেকে নিষিদ্ধ পল্লীর 'জরি' হয়ে ওঠার এক তরুণীর যন্ত্রণাকাতর জীবনকাহিনি তুলে ধরা হয়েছে এই গল্পে। সমাজের নিষ্ঠুরতা আর মানুষের দ্বৈত রূপের এক বিষণ্ণ ও দীর্ঘশ্বাস মূলত এই গল্পটি। কিন্তু এই গল্পের শেষটা আমার কাছে ততটা ভালো লাগেনি। সন্ধ্যার বাবার একটা উপযুক্ত শিক্ষার প্রয়োজন ছিলো। হয়ত লেখক বাস্তবতাই তুলে ধরেছেন, তবুও গল্পে একটু ভালোকিছুর আশা করাই যায়। বইটিতে একটা বাক্য, একটা শব্দও ভুল পাইনি। সুতরাং বুঝতে হবে লেখক সম্পাদনার কাজটি ভীষণ যত্নসহকারে করেছেন। প্রতিটি গল্পের শুরুতে থিম ভিক্তিক ইলাস্ট্রেশন গল্পগুলোকে আরও প্রাণ ঢেলে দিয়েছে। জীবনের রূঢ় বাস্তবতা, অন্ধকার গলি আর আলোর তৃষ্ণার এক অনবদ্য সংকলন 'সূচেতনা... কত দূরে তুমি?'। প্রতিটি গল্পই আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে জীবনের সুখ,শান্তি আর মুক্তি আসলে কত দূরে। সবমিলিয়ে একটা পার্ফেক্ট বই পড়তে পেয়ে ভীষণ ভালো লাগলো।
Was this review helpful to you?
or
লেখকের লিখার সাথে পরিচয় এক বৎসর যাবত।তাঁর কল্পনা শক্তি প্রবল। গল্প বলায় সাবলীল। “ সুচেতনা … কতদূরে তুমি?” গল্পগ্রন্থের গহিনে গরল এ দৃষ্টি পড়েছে। সচ্ছল গ্রামীণ পরিবারের নিখুঁত বর্ণনা। স্নেহ প্রেম লোভ হিংসা এসবের অবতারণা করেছেন ইঙ্গিতে। সব মিলিয়ে ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ লেখককে।
Was this review helpful to you?
or
লেখিকার লেখার ভক্ত সেই 2018 সাল থেকে।ওনার লেখনী মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত।অন্যদের থেকে একেবারে আলাদা।আমি ভিন্নতা খুঁজে পাই।একবার পড়া শুরু করলে,শেষ না করে উঠা যায় না। "সুচেতনা..... কতদূরে তুমি?বইটি পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার মত একটি বই।প্রতিটি গল্পেই সমাজের অসঙ্গতিগুলো নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।গল্পগুলো পড়তে গিয়ে মনে দাগ কাটবে।মনে হবে ইশশ কোনোভাবে যদি এই নোংরা মনের মানুষগুলোর মন থেকে কুটিলতা ধুয়ে সাফ করে দেয়া যেতো!!মানুষের মনে ''সুচেতনার"আবির্ভাব ঘটানো যেতো!!সমাজটা সুন্দর হয়ে যেতো..... অবশ্যই সবাইকে পরামর্শ দেবো বইটা একবার হলেও পড়ে দেখার জন্য।মুগ্ধতা আপনাকে নিঃশব্দে ঘিরে ধরবে।
Was this review helpful to you?
or
গল্পগ্রন্থ : 'সুচেতনা.....কতো দূরে তুমি' লেখক: ফাহমিদা বারী প্রকাশক: চলন্তিকা 'সুচেতনা.....কতো দূরে তুমি' - এক অনবদ্য গল্পগ্রন্থ। অত্যন্ত যত্নে রচিত প্রতিটা গল্প। লোভ, হিংসা, দুর্নীতি, অন্যায়, অবিচারের ফলে যে সামাজিক অবক্ষয় তৈরি হয় গল্পগুলোতে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। যেন জীবন থেকেই নেয়া কাহিনী। তবে প্রতিটা গল্পের শেষে যে ট্যুইস্ট আছে, তা গল্প শেষ হওয়ার পরেও বেশ কিছুক্ষণ পাঠককে আবিষ্ট রাখে। প্রথম গল্প ' নিখুঁত অভিনয়'- অভিনয়ে পারদর্শিতা না থাকলেও জীবনের সবচাইতে দামী সম্পদের বিনিময়ে সুপারহিট হয়ে ওঠা নায়িকা ক্যারিয়ারের পড়ন্ত লগ্নে নিখুঁত অভিনেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পায়, কারণ যে প্রেক্ষাপটে সে তার সর্বস্ব হারিয়েছিলো সেই দৃশ্যে অভিনয়টা তার অভিনয় ছিল না, ছিল চরম বাস্তবতার বহিঃপ্রকাশ। 'কাকতালীয়' - নিছক পরকীয়ার গল্প বললে ভুল হবে, এটা প্রতারিত নারীর এক অভিনব প্রতিশোধের কাহিনী। 'খেসারত' গল্পে আমরা দেখতে পাই বাবার অপরাধের খেসারত কিভাবে মেয়েকে দিতে হয়। 'নিপাতনে সিদ্ধ'- এটা আমার এই গল্পগ্রন্থের প্রিয় একটা গল্প, কারণ সহজ সরল কাজে নিবেদিত প্রাণ শিক্ষককে দুষ্ট লোকের দ্বারা বলির পাঁঠা বানানোর অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয় নি। জয় হয়েছে সততার। 'প্রথম পাতার খবর' খুব কষ্টের একটা গল্প। লেখক তার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রফেশনের অনেক টার্ম ইউজ করেছেন সাবলীল ভাবে। এটা খুব সমসাময়িক একটা বিষয় নিয়ে লেখা যে বিষয়ে প্রকৌশল বিভাগের অনেকেই ভুক্তভোগী। যদিও লাইম লাইটে আছেন একজন সাংবাদিক, যিনি প্রথম পাতার খবর খুঁজতে গিয়ে নিজেই হয়ে যান প্রথম পাতার খবর। 'বিকেলের শিউলি' একজন শিউলির যুদ্ধ জয়ের গল্প। হিংসা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর গল্প। 'শ্বাপদসংকুল' পঁচে যাওয়া সমাজের মারাত্মক এক ব্যাধি নিয়ে রচিত গল্প যেখানে প্রতিবন্ধী অসহায় শিশুও বাদ যায়না শ্বাপদের হিংস্র থাবা থেকে। 'গহিনে গরল' গল্পে দেখা যায় সম্পত্তির লোভের কাছে সম্পর্কের মারাত্মক পরাজয়, এক নিদারুণ কাহিনী। 'যেদিন আমি সন্ধ্যা হব'- এটা বিশ্বাস করে চরমভাবে ঠকে যাওয়া এক নারীর প্রতিশোধ নেয়ার গল্প। ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে রচিত নয়টা গল্পে উঠে এসেছে সমাজের অন্ধকার নোংরা দিকগুলো, যেগুলো বাস্তবের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। লেখকের সুনিপুণ লেখনীতে চেনা গল্পগুলো ঘিরে গড়ে ওঠে হৃদয় নিংড়ানো অনুভূতি। মনে হয় সুচেতনা আসলেই অনেক দূরে, ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মন ছুঁয়ে যাওয়া গল্পগুলো পড়তে হলে বইটি সংগ্রহ করার কোনো বিকল্প নাই।




