
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
কবি মোরশেদুল ইসলাম গতানুগতিক কাব্যধারার অতি আবেগ, রোমান্টিকতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে রচনা করেন এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো, যা আমাদের যান্ত্রিক জীবনের ভেতর প্রাণের পুনর্জাগরণকে ইঙ্গিত করে। 'অ্যানিমেটেড জীবনে বসন্ত' — এ রয়েছে জীবন জার্নি, অ্যানিমেটেড জীবন, অনন্ত কৃষ্ণপক্ষ, মরীচিকা, ইত্যাদির মত নিঃসঙ্গতাকে পুঁজি করে চলমান আধুনিক ভাষায় লেখা কবিতাগুলো আমাদের যাপিত জীবনের একফালি অংশ। এই কবিতাগুলোতে প্রাত্যহিক জীবনের ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যে প্রভাব তা উঠে এসেছে। তেমনই ফ্যাসিজম, ভূতাপেক্ষ হিরো, আগুনের আয়না, বিমুর্ত মিনিং, মিছিলে জেন-জি, চুদলিংপং, তরুণরা যখন লঙ্কায় এলো, ইনকিলাব জিন্দাবাদ, শনিবারের তেত্রিশ তারিখ, এখানে কবিতা ভাড়া দেওয়া হয়, জলপাই রঙের বৃষ্টি, প্রভৃতি কবিতায় উঠে এসেছে ২৪ এর রক্তক্ষয়ী আন্দোলন, গণজোয়ার আর জেন-জির তারুণ্যের জয়গান, মৃত্যুর মিছিল, এই কবিতাগুলোতে কবি তৎকালীন শোষকের গোলামীর জিঞ্জির ভেদ করে স্ফুলিঙ্গ যেভাবে দাবানলে পরিণত হয়ে ফ্যাসিজমের মূল উৎপাটন করেছে তার বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও এই কাব্যগ্রন্থে কবি আমাদের সমসাময়িক জীবনের যাপিত দিনগুলির চিত্র অত্যন্ত সুনিপুণ হাতে অংকনের মাধ্যমে এই ক্ষয়িষ্ণু সমাজের তিক্ত দিকগুলো তুলে ধরেছেন। মূলত কবি এ কাব্যগ্রন্থে, যেমন বিচ্ছেদ পরবর্তী আমাদের প্রেমিক মনে নিঃসঙ্গতার চিত্র তুলে ধরেছেন ঠিক তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলোকে একটু খোঁচা মেরে আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন যা বর্তমান সাহিত্যকর্মে বিরল। হয়তো এক পর্যায়ে মনে হবে হয়তো পাঠককে ধমক দিচ্ছেন। পাঠকের গায়ে বিধবে,একটু গা ঘিন ঘিন করবে, পরক্ষ্ণেই মনে হবে এইতো আমাদের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি।এই তো আমাদেরই কথা। সর্বসাকুল্যে, কাব্যগ্রন্থে নানান রঙ বেরঙের পসরা সাজিয়েছেন কবি। আমাদের বিরহ, প্রতিবাদ, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, অবচেতন মনের ভাবনা,আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজ সবই মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে এই কাব্যগ্রন্থে। ছন্দ ও ভাষাশৈলী নির্মাণ : মোরশেদুল ইসলামের রচনায় আমরা পোস্টমর্ডানিজমের প্রভাব দেখতে পাই, যার ফলে, তার বেশিরভাগ গদ্য ছন্দের রচিত। এবং ভাষাশৈলী নির্মাণে, তুর্কি, ইংরেজি, স্প্যানিশ, শব্দের আধিক্য চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও, এই কাব্যগ্রন্থের কিছু কবিতায় অশালীন, অশ্রাব্য গালির ব্যবহার তিনি এমনভাবে করেছেন যা পাঠককে চমকে দিতে বাধ্য। এছাড়াও তিনি বর্তমান প্রজন্মের ট্রেন্ডিং কিছু শব্দ ব্যবহার করে তাঁর যুগকে তুলে ধরেছেন। আল্ট্রামর্ডান যুগের তার উদাহরণ তিনি লেখার ভাঁজে ভাঁজে নিপুণ কৌশলে গুঁজে দিয়েছেন। সাহিত্য ধারায়, প্রাচীন যুগের অবসান ঘটিয়ে মধ্যযুগ উঁকি দিয়েছিল, এরপর মধ্যযুগকে পেছনে ফেলে আধুনিক যুগ এসেছিলো একটি একটি করে ভিন্ন ধর্মী স্বাদ নিয়ে যা প্রথম অবস্থায় তৎকালীন সমালোচকদের গায়ে অস্বস্তির কারণ হয়েছিলো। এছাড়াও কালিদাসের 'মেঘদূত' পড়ে কিছু সমালোচক একে অশ্লীল সাহিত্যকর্ম হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলো। ঠিক তেমনি এই বইটিতে ব্যবহৃত আল্ট্রামর্ডান যুগের ভাষা সমালোচকদের দৃষ্টিকটু মনে হলেও আদতে তা এই প্রজন্মের নিত্যকার জীবনের ভাষা।যেহেতু সাহিত্য যুগের সাক্ষী,তাই এই বইটি জেন-জির প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষা,তাদের প্রাত্যাহিক জীবনের প্রতিচ্ছবি।




