রকমারি ঈদ উৎসবে বই ও পণ্যে ৬৮% পর্যন্ত ছাড়, 𝐁𝐔𝐘𝟏 𝐆𝐄𝐓𝟏, 𝐐𝐮𝐢𝐜𝐤 𝐃𝐄𝐀𝐋 ! ২০ই মে পর্যন্ত*
রকমারি ঈদ উৎসবে বই ও পণ্যে ৬৮% পর্যন্ত ছাড়, 𝐁𝐔𝐘𝟏 𝐆𝐄𝐓𝟏, 𝐐𝐮𝐢𝐜𝐤 𝐃𝐄𝐀𝐋 ! ২০ই মে পর্যন্ত*
প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 02 Jun 2026 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
রাতের আকাশ খালি চোখে অনেক সময় অন্ধকার ও শূন্য মনে হয়। দূরে ছড়িয়ে থাকা কয়েকটি নক্ষত্রের ক্ষীণ আলো ছাড়া যেন আর কিছুই দেখা যায় না। কিন্তু এই নিঃশব্দ অন্ধকারের আড়ালেই লুকিয়ে আছে অসংখ্য বিস্ময়, অগণিত রহস্য এবং এক অসীম মহাজাগতিক ইতিহাস। আমাদের দৃষ্টি যত দূর পর্যন্ত পৌঁছায়, তার বহু গুণ বেশি গভীরে বিস্তৃত রয়েছে নক্ষত্রপুঞ্জ, গ্যালাক্সি, বিস্ফোরিত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ, এবং এমন সব অদৃশ্য শক্তি ও বস্তু, যাদের উপস্থিতি আমরা সরাসরি দেখতে না পারলেও তাদের প্রভাব সর্বত্র অনুভব করা যায়।
এই বই সেই অদৃশ্য মহাবিশ্বের দরজা খুলে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। এখানে আলোচনা করা হয়েছে নক্ষত্রের জন্ম, তাদের দীর্ঘ উজ্জ্বল জীবন, এবং শেষ পর্যায়ে সুপারনোভা বিস্ফোরণের মতো নাটকীয় পরিণতি—যে বিস্ফোরণ নতুন উপাদান সৃষ্টি করে এবং মহাকাশে ছড়িয়ে দেয় ভবিষ্যতের গ্রহ ও জীবনের উপকরণ। আবার কোনো কোনো নক্ষত্রের পতন ঘটে এমন এক রহস্যময় সত্তায়, যার মহাকর্ষ এত শক্তিশালী যে আলোও সেখান থেকে বের হতে পারে না—সেই বিস্ময়কর জগতই ব্ল্যাকহোল।
এই মহাজাগতিক ঘটনাগুলো শুধু দূরের কোনো গল্প নয়; এগুলোর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে আমাদের নিজের অস্তিত্ব। কারণ একটি গভীর বৈজ্ঞানিক সত্য হলো—আমাদের শরীরের প্রতিটি পরমাণু একেকটি মহাজাগতিক ইতিহাস বহন করে। বহু আগে কোনো নক্ষত্রের অন্তরে গঠিত সেই পরমাণুগুলোই সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে, আর দীর্ঘ সময় পরে সেগুলোই গড়ে তোলে পৃথিবী, প্রকৃতি এবং শেষ পর্যন্ত মানুষকে।
সহজ ও আকর্ষণীয় ভাষায় এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে রাতের আকাশের দৃশ্যমান রূপ, নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির জগত, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের মতো পরিচিত মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, এবং মহাবিশ্বের সেই গভীর সত্য—যে শূন্য মনে হওয়া আকাশ আসলে অগণিত রহস্যে পরিপূর্ণ। তাই এই বই কেবল মহাকাশের পরিচিতি নয়; এটি অন্ধকার আকাশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মহাবিশ্বের বিস্ময়কে নতুন চোখে দেখার এক রোমাঞ্চকর যাত্রা।
শাকিল আহমেদ সাজ্জাদ, জন্ম ও বেড়ে ওঠা জামালপুর জেলার জামালপুর সদরে। তিনি শিক্ষাজীবন শুরু করেন ঢাকার সানরাইজ কিন্ডারগার্ডেন স্কুল থেকে, এরপর এস.এস.সি পাশ করেন জামালপুর জিলা স্কুল থেকে এবং এইচ.এস.সি শেষ করেন সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে। পরবর্তীতে তিনি ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বি.এস.সি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছেন এবং শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত।
যদিও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, ছোটবেলা থেকেই তার আগ্রহ মহাকাশের প্রতি ছিল গভীর। আকাশের দিকে তাকানো, নক্ষত্র ও গ্রহের রহস্য জানতে চাওয়া, মহাবিশ্ব নিয়ে প্রশ্ন করা—এই অনুসন্ধিৎসু মন তার প্রতিদিনের অংশ ছিল। লিখালিখির হাতেখড়ি তিনি পেয়েছেন এই আগ্রহের মধ্য দিয়েই এবং স্কুল জীবনে বিভিন্ন লিখালিখির জন্য পুরস্কারও অর্জন করেছেন। তিনি বিভিন্ন মহাকাশ বিষয়ক সেমিনার এবং কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং অধ্যবসায়ের কারণে তিনি মহাকাশ বিষয়ক অসংখ্য বই পড়েছেন, যার বেশির ভাগই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও অ্যাস্ট্রোনোমারদের লেখা। বই পড়া, বোঝা, প্রশ্ন করা এবং উত্তর খোঁজার এই অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তিনি তার এই প্রথম প্রকাশিত বইটি রচনা করেছেন। শুধু এটিই নয়, পাশাপাশি তিনি আরও কিছু মহাকাশ বিষয়ক বই লিখেছেন, যেখানে মহাবিশ্বের জটিল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
মহাকাশই তার প্রধান আগ্রহ, তবে তার সৃজনশীলতা সীমাবদ্ধ নয়। স্কেচ করা, পপ গান ও মিউজিক, নৃত্য এবং ক্রিকেট—এসবও তার প্রিয়। এই বহুমুখী আগ্রহ তাকে একজন তথ্যনিষ্ঠ, অনুসন্ধিৎসু এবং সৃজনশীল ব্যক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।