মানুষ পৃথিবীতে আসে এক বিস্ময়কর রহস্যের ঘেরাটোপে। তার জন্ম হয় অজানা এক অন্ধকার জগতে, বেড়ে ওঠে আলো-ছায়ার খেলায়, এবং একদিন চলে যায় এমন এক গন্তব্যে, যার পর্দা চিরকাল ঢাকা। এই আসা-যাওয়ার মাঝখানে মানুষ নির্মাণ করে স্বপ্ন, সংগ্রাম করে সুখের জন্য, লড়ে প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ একটি মৌলিক প্রশ্ন ভুলে যায়এই জীবন কেন? এই জীবনের শেষ কোথায়?আমরা জানি, আমাদের জীবন ক্ষণস্থায়ী। একদিন আমাদের পৃথিবীর এই আয়তন ত্যাগ করতে হবে। কিন্তু সেই পরবর্তী জীবন সম্পর্কে আমরা কতটা সচেতন? আমরা কি জানি, আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য নির্ধারিত এবং সেই গন্তব্যেই পৌঁছতে হবে?
কিন্তু আজকের মানুষ কি এ সত্যকে উপলব্ধি করে? প্রযুক্তি আর ভোগের নেশায় মানুষ ভুলে যাচ্ছে যে তার হৃদয় অনন্তের জন্য সৃষ্টি, চিরস্থায়ী জীবনের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই গড়া। অথচ সে নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছে ক্ষণস্থায়ী আর সাময়িক অর্জনে। সে ভাবছে, সম্পদই শান্তি; খ্যাতিই সাফল্য। মূলত, সে জানে না, বা জানলেও মেনে নিতে চায় না নস্বও এই জীবনের পরে রয়েছে এমন এক বিচারমঞ্চ, যেখানে কোন ক্ষমা নেই যদি না সে রবের কাছে ফিরে আসে এই জীবনেই।
ইসলাম আমাদের এই অজানা পথকে আলোকিত করেছে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে স্পষ্ট বলেছেন, তিনি জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছেন যে, তারা তার ইবাদত করবে। (সূরা যারিয়াত, ৫১: ৫৬)
এই আয়াত আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যকে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরে। দুনিয়া কেবল উপভোগের ক্ষেত্র নয়, বরং এটি এক মহৎ পরীক্ষা। প্রতিটি মানুষ এই জীবনের ময়দানে দাঁড়িয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য—আল্লাহর নির্দেশনা মেনে জীবন যাপন করবে, নাকি অবাধ্যতা ও কুফরীর পথে হাঁটবে।
আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেছিলেন। তাদের জান্নাত থেকে নামিয়ে আনার পেছনে ছিল আল্লাহর একটি মহান পরিকল্পনা পৃথিবী হবে মানুষদের পরীক্ষার মঞ্চ। আল্লাহ নিজে বলেন,
আমি বললাম, এখন তোমরা সকলেই এখান থেকে অবতরণ করো। তারপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হিদায়াত পৌঁছে, অর্থাৎ আলোকিত পথ-নির্দেশনা দেওয়া হয়, তাহলে যারা সেই হিদায়াতের অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় বা দুঃখ থাকবে না। কিন্তু যারা অবিশ্বাসের পথ বেছে নেবে এবং আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করবে, তারা হবে জাহান্নামের বাসিন্দা, সেখানে চিরকাল থাকবে। (সূরা আল-বাকারা, ২: ৩৮-৩৯)