গাজা ফিলিস্তিনের একটি এলাকা। ইসরাইলী বাহিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস বাহিনির সফল আক্রমণ অভিযানের পর প্রতিশোধ হিসেবে গাজাকে একেবারে দ্বংসস্তূপে পরিণত করে। সেই ধ্বংসস্তূপের এক কিশোর জুহাইর। সে বিজ্ঞান মনস্ক। ইসরাইলী হানায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধবংস। সন্ধার পর আলো থাকে না গাজার একটি শহর দিয়ার আল বালাহতে। সেখানকার ছেলে জুহাইর চিন্তা করে কিভাবে আলো জ্বালানো যায়। সে ছোট ডায়নামো দিয়ে একটি ছোট বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করে। নিজ বাড়ি ও আসপাশের কয়েকটি বাড়িতে আলো জ্বলার ব্যবস্থা করে। তার নাম হয়ে যায় দিয়ার আল বালাহর নিউটন। উপনাসে আছে অনেক মৃত্যু ও ধ্বংসের বিবরণ।
গাজা প্রায় ২৩ লাখ লোকের এলাকা। কিছু খৃস্টান থাকলেও বাকি সবাই মুসলিম। ফিলিস্তিনে মুসলমানদের ঘরবাড়ি সব দখল করে নিয়ে বসতি গেড়েছে ইহুদিরা। ৭০ বছরেও বিশ্ব শক্তি এর সমাধান দিতে পারে নি। অসলো চুক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও নেই তাদের সার্বভৌমত্ব। পশ্চিমতীর ইয়াসির আরাফাতের দলের হাতে শাসিত। আর গাজা শাসন করে হামাস। নির্বাচনে জয়ী হয়েই তারা সেখানকার শাসক। কিন্তু আমেরিকা ও ইসরাইল তা মানতে নারাজ। তারা প্রতিদিনই হামলা করে গাজায়। মার খেতে খেতে ক্লান্ত হামাস এক সময় ঘুরে দাঁড়ায়। বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কাড়তে তারা আচমকা এক দিন ইসরাইলে বিশাল আক্রমণ চালায়। ১২ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে যায়। ১২০০ ইসরাইলি নিহত হয় এই অভিযানে। তারা জিম্মি হিসেবে আটক করে আনে ২৫১ জন ইসরাইলী ও বিভিন্ন দেশের লোককে। তার পরেই ঘটে হাসপাতাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র আর বাড়িঘরে হামলা। এই উপন্যাসে ইসরাইলী বাহিনির তান্ডবের বিবরণ আছে, আছে হামাস যোদ্ধাদের সাহসী প্রতিরোধের কথা। সেই সাথে আছে জুহাইরের মতো কিশোরদের উদ্ভাবনী শক্তির বিবরণ। আছে ফিলিস্তিনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসও।
আহমদ মতিউর রহমান কবি-ছড়াকার-প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত। ছোট গল্প, ভ্রমণ উপন্যাস, গবেষণা গ্রন্থ স্মরণীয় বরণীয় ব্যক্তিদের জীবনীও লিখেছেন। ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁক এবং চলচ্চিত্র সংগীতসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়েও তার লেখনি অসামান্য।
জন্ম ৩১ জানুয়ারি ১৯৫৯, মতলব, চাঁদপুর। বেড়ে উঠেছেন মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে। উনসত্তরের উত্তাল গণ-অভ্যুত্থানের সময় মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় রাজপথ কাঁপিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন সক্রিয়ভাবে। কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে বাংলা অনার্সসহ মাস্টার্স করেছেন। ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের এমফিল গবেষক।
পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে। ছিলেন ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটির নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা। শিশু-কিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ির সহকারী সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘদিন। পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতা। সংবাদপত্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনের বার্তা বিভাগে কাজ করেছেন দুই যুগেরও বেশি সময়। যুক্ত রয়েছেন সাংবাদিক ইউনিয়নের সঙ্গেও। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এর সিনিয়র সহকারী মহাসচিব ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসিচব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যাÑ ৩৫। লেখালেখির সুবাদে কয়েকটি পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি । এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জে স্কাউটস এর শিশু সাহিত্য সম্মাননা, শিশু সাহিত্যেÑ চত্ত্বর শিশু সাহিত্য পুরস্কার , চলচ্চিত্র বিষয়ক গ্রন্থের জন্য চাঁদপুরের সেরাজ উদ্দীন সরকার সাহিত্য পুরস্কার এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গের টেক টাচ টক সংস্থার দুই বাংলার দেশাত্ববোধক বিষয়ক কবিতায় ‘মেহফিল-এ- শায়র’ সম্মাননা। এ ছাড়াও মোগল সাম্রাজ্যের ইতিহাস : হেরেমের অন্তরালের কথা গ্রন্থের জন্য তিনি ঢাকা সাব-এডিটর্স কাউন্সিল সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন।