বাঙালি জাতির জীবনে মুক্তিযুদ্ধ একবারই এসেছে। সে যুদ্ধে ফেনী ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। সমর বিশ্লেষক ও যুদ্ধজয়ী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এ জনপদ নিয়ন্ত্রণে রাখা পাকিস্তানি হানাদার ও মুক্তিবাহিনী উভয়ের কাছে কৌশলগত বিষয় ছিল। ফেনীকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তানি হানাদাররা ৭১-এ এখানে অবর্ণনীয় হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন চালিয়েছে। এ অঞ্চলের বিলোনিয়া যুদ্ধ ইতিহাসখ্যাত হয়ে আছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিলোনিয়া যুদ্ধকৌশল "ব্যাটল অব বিলোনিয়া" নামে পাঠ্য। যা এ রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে গর্বের ব্যাপার।
মুক্তিযুদ্ধে ফেনীর সন্তানরা দেশপ্রেমের অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন। ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বীরত্বের সাথে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। কেউ দেশমাতৃকার জন্য শহীদ হয়েছেন আবার যুদ্ধজয়ে কেউ ফিরেছেন গাজী হয়ে। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকার জন্য মোট ৬৭৭ জন বীর যোদ্ধাকে খেতাব প্রদান করা হয়েছে। তন্মধ্যে ৩১জন ফেনীর সন্তান। মাত্র ৯২৮ বর্গ কিলোমিটারের ছোট্ট এ জেলায় ৩১ জন খেতাবপ্রাপ্ত বীরের জন্ম। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগের অনন্য বহু নজির স্থাপন করেছেন এখানকার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ফেনীর ৩১ জন বীরের ভূমিকা আলোকপাত করা
হয়েছে। আগামী প্রজন্মকে ফেনীর ৩১ জন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বের কথা জানাতে এ প্রচেষ্টা। কাজটি বিভিন্ন কারণে সহজসাধ্য ছিল না।
মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে খেতাবপ্রাপ্ত শহীদ পরিবারগুলোর খুব কাছে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। অভিজ্ঞতা মোটেও ভালো হয়নি। অস্বচ্ছলতা, অসঙ্গতিসহ বেশকিছু চিত্র উঠে আসে। অযত্নে পড়ে থাকতে দেখা গেছে বীর প্রতীক শহীদ মো. ইসহাকের কবর, বীর প্রতীক মো. ইদ্রিসের কবর। পুকুরের পাড় ভেঙে হারিয়ে গেছে শহীদ রবিউল হক, বীর প্রতীকের কবর। শহীদ নূরুল ইসলাম, বীর বিক্রম; আলী নেওয়াজ, বীর প্রতীকের কবর সরকারি প্রকল্পে পাকাকরণের কাজ অজানা কারণে বন্ধ হয়ে আছে। শহীদ ইয়ার আহাম্মদ, বীর প্রতীকের ঘরটি যেন খসে পড়ছে, ঘরে ঢোকার মতো রাস্তা নেই, অনেকগুলো পরিবার রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দাওয়াত পাচ্ছে না। চিহ্নিত হয়নি শহীদ ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন, বীর উত্তম; শহীদ আবুল বাসার, বীর প্রতীকের কবর। সঙ্গত কারণে বিশদ বর্ণনায় উপরোক্ত কথাগুলো সংযুক্ত করা হয়নি। অপারগতাগুলো আলোচনায় না আসাই উত্তম। প্রজন্ম কেবল বীরত্বের কথা জানুক, মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণে রাখুক, দেশকে ভালোবাসুক আন্তরিকভাবে-এটাই প্রত্যাশা।