পঁচিশটি উপখ্যান নিয়ে রচিত বেতাল পঞ্চবিংশতি। বহুকাল আগে উজ্জয়িনী নগরে বাস করতো এক রাজা। যার নাম ছিল বিক্রমাদিতা। হঠাৎ রাজা সংসার বিবাগী হয়ে বনবাসে চলে গেলে দেবরাজ ইন্দ্র নগর রক্ষার্থে যক্ষকে নিয়োগ দেন প্রহরার কাজে। বহুকাল পর ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলে যক্ষ তাঁকে সাবধান করলো এক যোগীর ব্যাপারে। যে কিনা কৌশলে ফন্দিফিকিড় করছে রাজা বিক্রমাদিত্যকে বলি দিবে। কালক্রমে একদিন দেখা হয়ে যায় দুজনার। ইতোপূর্বে যোগী হত্যা করে চন্দ্রসুর নামে এক রাজাকে। তারপর তার শবদেহ ঝুলিয়ে রাখে শ্মশানের এক গাছে।
রাজা বিক্রমাদিত্যকে যোগী নির্দেশ দেয় সেই শবদেহ তার কাছে নিয়ে আসার জন্য। রাজা যোগীর কথামতো শ্মশানে গিয়ে সেই শবদেহ কাঁধে করে বয়ে নিয়ে আসতে গেলে সেই শবদেহে যেন প্রাণ ফিরে আসে। সেই শবদেহ আর কেউ নয়, আমাদের গল্পের বেতাল। শুনাতে শুরু করে সে একের পর এক অখ্যান। সেই আখ্যান শোনার শর্ত একটাই। রাজা বিক্রমাদিত্য কে গল্প শেষে বেতাল জিজ্ঞেস করবে একটি প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিলে সে চলে যাবে পূর্বের স্থানে। এভাবে বেতাল রাজাকে শুনিয়ে ফেলে ২৫টি আখ্যান। শেষ উপাখ্যানের উত্তর দেওয়ার পর বেতাল রাজাকে নিষ্টুর যোগীর হাত থেকে মুক্তি লাভের উপায় বলে দেয়। তো পাঠক বেতাল পঞ্চবিংশতির ভুবনে ডুব দিতে আপনি প্রস্তুত তো?
বত্রিশ সিংহাসন
বত্রিশ সিংহাসন একটি রূপকধর্মী আখ্যান। যেখানে বত্রিশটি পুতুল শুনিয়েছে রাজা বিক্রমাদিত্যের গল্প। সেই ১১শ শতকের কথা। সে সময় রাজত্ব করতো ভোজ রাজা। একদিন সে আবিষ্কার করলো কিংবদন্তি সুলভ রাজা বিক্রমাদিত্যের সিংহাসন। সেই সিংহাসনে আছে ৩২টি পুতুল, যারা আসলে ছিল স্বর্গের অপ্সরা। কোন অভিশাপের কারনে আজ তারা এই সিংহাসনের পাথরের খচিত ৩২ পুতুলে পরিণত হয়েছে। যখনই ভোজ রাজা বসতে যায় বিক্রমাদিত্যের সিংহাসনে তখনই একটি করে পুতুল শুনিয়ে যায় এক প্রাচীন আখ্যান। যাতে উঠে আসে বিক্রমাদিত্যের শৌর্যবীর্যের গল্প। প্রতিটি গল্পই মানবিকতার গুণে সমৃদ্ধ। তাতে যেমন নিটোল গল্প আছে সেই সঙ্গে আছে চিরায়ত সত্য এবং আদর্শের কথা।
যেখানে শেষ হয়ে গেছে বেতাল পঞ্চবিংশতি সেখানেই শুরু হয়েছে বত্রিশ সিংহাসন। রাজা ভোজ কি বিক্রমাদিত্যের সিংহাসনে বসতে পারবে? নাকি রণে ভঙ্গ দিবে। জানতে হলে পড়তে হবে বত্রিশ সিংহাসন।