টুনটুনিদের ইশকুল
আখতারুল ইসলাম
টুনটুনি প্রতিদিন স্কুলে যায়। টুনটুনিদের স্কুল বনের একেবারে শেষে। বনের শেষে একটা নদী,
গাছের ছায়া পড়ে নদীর ওপর। সে গাছের ডালেই টুনটুনিদের স্কুল। স্কুলে পড়ে টুনটুনি, মৌটুসি,
ফিঙে, শালিক, টিয়ে, কাক, বক, চড়ুই, বাঁশপাতি, দোয়েল সহ আরো অনেক পাখি। স্কুলে পড়ায়
বাজ, চিল, মাছরাঙা, বুলবুলি। কত কী যে টুনটুনিদের পড়তে হয়। পরিবেশ, বেঁচে থাকা, শত্রুর
আক্রমণ থেকে রক্ষা, খাদ্য ও জীবন ধারণের নানা বিষয়। টুনটুনির একদিন স্কুলে না এলে খুব খারাপ
লাগে। কতকিছু মিস করতে হয় । বন্ধুদের সাথে দেখা হয় না, কথা হয় না। খুব একটা অসুখ বিসুখ
না হলে টুনটুনি স্কুল মিস করে না। পড়াশোনা নাকি জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান বানায় সেদিন বলেছিল তাদের
টিচার চিল।
তাই টুনটুনির স্কুল খুব প্রিয়।
প্রতিদিন স্কুলের সময় নদীর এপাড়ে কলকাকলিতে ভরে ওঠে। পাখিদের এই কলকাকলি কিচিরমিচির
নদীতে থাকা মাছদের খুব ভালো লাগে। কোনো পাখি একা এলে মাছদের যত ভয়, কখন ছুঁ মেরে
গাপুসগুপুস করে পেটে ভরে দেয়। মাছেরা কয়দিন থেকে লক্ষ করছে পাখিরা প্রতিদিন বিকেলের
একটা নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনায় মেতে ওঠে। উৎসুখ মাছের মধ্যে রুই, কাতলা, টেংরা, পুটি, কই,
শিং, মাগুর, শোল সহ অনেকে পাখিদের স্কুলে কী পড়ানো হয় তা দেখতে জড়ো হয়। দেখতে
দেখতে তাদের মাথায় আসে স্কুল খোলার আইডিয়া। রুই বলল, ভাই কাতলা আমাদের ও পাখিদের
মতো একটা স্কুল খুললে কেমন হয়। আমরাও শিক্ষিত হবো , জ্ঞানী গুণী হবো। কাতলা বলল, ঠিক
আছে তাই হবে। অন্য মাছদের খবর দেওয়া হল। সবাই রাজি হলো।
হঠাৎ টুনটুনি পাখি নদীর ধারের শিরীষ গাছটাতে উড়ে এসে বসল। টুনটুনিকে অনেক মাছ ভয় পায়
না, কারণ দেখতে ছোট বলে মাছ শিকার করার মতো অবস্থা টুনটুনির নেই। মাছদের সাথে নানা
কথা বার্তায় টুনটুনির বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
টুনটুনি জিজ্ঞেস করল, তোমরা কিসের আলাপ করছিলে?
কাতলা বলল, আমরা একটা স্কুল খুলব ভাবছি।
টুনটুনি বলল, বেশ ভালো কথা।
টেংরা বলল, পড়াশোনার অভাবে দিনদিন আমরা বোকা হয়ে যাচ্ছি।
শোল বলল, যে হারে পানি দূষণ হচ্ছে তাতে বেঁেচ থাকা কষ্টকর।
টুনটুনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে উড়ে এসে টুনটুনির পাশে বসল
শালিক। শালিককে দেখে মাছেরা সব ভয়ে টুপ করে পানির নিচে ডুব দেয়।
টুনটুনি বলল, দিলে তো সব শেষ করে?
শালিক বলল, কী শেষ করে দিলাম।
টুনটুনি বলল, আরে আমি মাছদের সাথে কথা বলছিলাম। তোমাকে দেখে ওরা ভয়ে পালিয়ে গেলো।