যেই সমাজে সততাকে অচল মনে করে গুণী মানুষগুলোকে ছুড়ে ফেলা হয় সেই সমাজ সচল হয় কি করে। সারাজীবন মানুষ নিয়ে ভাবা, মানুষের জন্য কাজ করা মানুষের বড় অভাব। একদিন হয়তো আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না। পার্থিব সম্পদের পাহাড় গড়া আর মুখোশ পড়া মানুষগুলোর ভীড়ে এই অচল মানুষগুলোকে খুবই বেমানান মনে হয়। সেদিন বেশি দূরে নেই যখন সত্য বলা কিংবা মানুষের বিপদে এগিয়ে যাওয়া মানবিক মানুষগুলো দেখতে কিংবা তাদের জীবন সম্পর্কে জানতে জাদুঘরে যেতে হবে। একটা অচল পয়সা যেমন আজকাল টিকিট সংগ্রহ করে দেখতে জাদুঘরে যেতে হয়, একদিন হয়তো সৎ ও সহজ সরল এই মানুষগুলোকেও এভাবে মানুষ খুঁজে বেড়াবে। আমার এই অচল উপন্যাসে আমি এমন কিছু অচল মানুষের চরিত্র চিত্রায়ণ করার চেষ্টা করেছি যারা আজকের সমাজে টিকে আছে পদ্মপাতার জল হয়ে। পুরোপুরি হারিয়ে যাবার আগেই এমন অচল মানুষগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হবে আমাদেরই প্রয়োজনে। একজন যুবক শুধুমাত্র অসৎ হতে না পারার কারণে, একজন বৃদ্ধ দেশকে ভালোবাসতে গিয়ে জীবন যুদ্ধে হেরে যায় ঠিকই। কিন্তু তাদেরকে হারিয়ে আমরা কী জিতে যাব?
সততাকে আঁকড়ে ধরে একজন যুবক বর্তমান সমাজে কীভাবে অচল হয়, তার জ্বলন্ত প্রতিনিধি আমার এই উপন্যাসের মূল চরিত্র শিশির। অথচ খুব অল্পে সুখী হওয়া মানুষগুলোকে আমরা বড্ড অবহেলা করি। সমাজের প্রতিটি স্তরেই আঘাতে আঘাতে জর্জরিত এই অচল মানুষ শিশিরের জীবনে যে ভালোবাসা আসে তা প্রেম পর্যন্ত গড়াতে কত না বাধার প্রাচীর। তবুও তার এই অচল জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকে রূপশ্রী আর মম নামের দুটি মেয়ে। কিন্তু শেষ অবধি কী শিশিরের অচল জীবন সচল হবে নাকি নিঃশেষ হয়ে পড়ে রইবে অচল পয়সার মতো।
ধীরে ধীরে সাহিত্যের প্রতিটি স্তরে বিচরণ করছেন সব্যসাচী লেখক মোস্তাফিজুর রহমান রেমন্ড। তাঁর জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার বন্দরনগরী ভৈরব বাজারের চন্ডীবের দক্ষিণ পাড়ার (সরকার বাড়ি) এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। পিতা মরহুম বাদল সরকার ও মাতা তৌহিদা আক্তারের তিন সন্তানের মধ্যে তিনিই বড়। তিনি শৈশব, কৈশোর কাটান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় (চাউরা সাহেব বাড়ি) মামার বাড়িতে। লেখক বাবার কাছে অনুপ্রানিত হয়ে ছড়া কবিতা দিয়ে লেখালেখির শুরুটা স্কুলে পড়াশোনা করার সময়েই। বিভিন্ন সাময়িকীতে তার লেখা ছাপা হলেও বই আকারে প্রথম তার লেখা ছাপা হয় ২০১৮ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নামের যৌথ কাব্যগ্রন্থে। তারপর একে একে প্রকাশিত হয় কাব্যগ্রন্থ অতৃপ্ত আর্তনাদ, আমার প্রেম তোমার জন্য কবিতা, কণ্ঠস্বরের গল্প কবিতা। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত যৌথ গল্পগ্রন্থ সাদাকালো মেঘের জীবন গল্পগ্রন্থে স্থান পায় তার নিজের লেখা বেশ কয়েকটি ছোটগল্প। শিশুদের জন্য লেখা তার একক ছড়াগ্রন্থ ছড়ার দেশে বেড়াই ভেসে প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলায় যেটি দারুণ পাঠকপ্রিয়তা পায়। তার পরের বছরই প্রকাশ করেন তার প্রথম থ্রিলার ধর্মী উপন্যাস অচল। এটিও পাঠকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে। জীবন দর্শন, মানবিকতা, দেশপ্রেম আর বিদ্রোহ তার লেখার মূল উপজীব্য। পেশায় কলেজ শিক্ষক হলেও বাংলা সাহিত্য চর্চা আর বইপড়ার আন্দোলনে নিজেকে যুক্ত রাখেন সবসময়। এছাড়াও আবৃত্তির দারুণ নেশা রয়েছে তার।