আফরোজা অদিতি। সাহিত্যাঙ্গনে কথাসাহিত্যিক হিসেবে অতি পরিচিত একটি নাম। সাহিত্যের সবকটি ক্ষেত্রেই তাঁর বিচরণ। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধসহ নানা মাত্রিক বোধের আঙ্গিকে তাঁর রচনার স্ফূরণ আমরা দেখতে পাই। সমাজের অপসংস্কৃতি, নানান অনিয়ম, কুসংস্কার, মধ্যবিত্ত পরিবারে অন্তঃকলহের সুনিপুণ চিত্র এবং অবিচার বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে তাঁর লেখায় এক ধরনের ঝাঁজ আমাদের প্রাণিত করে, আশার আলো দেখায়।
‘জ জীবন’ তাঁর ভিন্ন ধরনের একটি উপন্যাস। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালে আমাদের এই অভাগা ভূখণ্ডে যে উত্তাল ঘটনাবলী খুব দ্রুত ঘটে যায়। তারই নির্যাস ঐতিহাসিক পটভূমিকাকে উপজীব্য করে গড়ে উঠেছে— ‘জ জীবন’। উপন্যাসের নায়িকা সুমি— সে সরাসরি কোনো আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে না। এমন কি মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করে না। কিন্তু তার সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর এক নিবিড় যোগসূত্র— তাকে ঘিরে আবর্তিত হতে থাকে। তার ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রিত করে এক বেদনার সুতোর টানে।
সুমির স্বামী অনীশ গল্পের নায়ক— তাকে সুমি শুধুই ভালোবাসার মায়াডোরে বেঁধে রাখতে চায়। সুমি জানে অনীশ দেশের মঙ্গলের জন্য, জাতির কল্যাণের জন্য তার বিপ্লবের পথে হাঁটা| অনীশের সাথে তার সম্পর্কের দোলাচল ও আকুলতায় হৃদয়ের প্রবল ভাবাবেগের চিত্রায়ণ এই ‘জ জীবন’। কিন্তু সেখানে প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়ায় স্বদেশপ্রেম।
স্বদেশের উন্মাতাল সেই সময়ের ক্যানভাসে আঁকা এক মহৎ উপন্যাস— সেখানে যুদ্ধের শুরু ও শেষ আছে কিন্তু একজন নারীর স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ ও নিরন্তর এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প ও সংগ্রামের শেষ নেই।
ব্যতিক্রমধর্মী একটি উপন্যাস| নিশ্চয় পাঠককে আপ্লুত করবে| স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ে এবং তৎপরবর্তী সময়ে পোড়খাওয়া বামধারার একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরের কিছুটা আঁচ পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।
Afroza Aditi - পাবনার ঈশ্বরদীতে জন্মগ্রহণ করেন। পূবালী ব্যাংক লিমিটেড থেকে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে অবসর নিয়েছেন। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৪২। তিনি বাংলা একাডেমির সদস্য। যুক্ত আছেন সাহিত্য সংগঠন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে। তিনি কমরেড আলাউদ্দিন স্মৃতি পুরস্কার প্রবর্তন করেছেন। আফরোজা অদিতি তটিনী (সাহিত্যপত্র) নামে একটি পত্রিকার প্রকাশক এবং সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার।