
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
“সবাই কবি নয়—কেউ কেউ কবি”— রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের এই অমর উক্তি। তাঁর উপমা-প্রয়োগ নিয়ে একসময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম খানিকটা হেঁয়ালির সুরে বলেছিলেন, “তোমাদের এখন মা’তে হয় না, উপমা দরকার।” যদিও কথাটি জীবনানন্দ দাশকে তাচ্ছিল্যবশত বলা হয়েছিল, তবু বাস্তবতা হলো—আমরা আজ উপমার আশ্রয়েই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি; তা অস্বীকারের উপায় নেই। আমাদের অঙ্গনে অহরহ বই প্রকাশিত হচ্ছে—তার অধিকাংশই অনুবাদ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সবাই কি অনুবাদক? সেই আগের উক্তির আলোকে বলতেই হয়—সবাই অনুবাদক নয়, কেউ কেউ অনুবাদক। এখানেই আসে নজরুলের সেই তাচ্ছিল্যপূর্ণ উক্তির প্রাসঙ্গিকতা এবং আমরা—পরবর্তী প্রজন্ম। গদ্য-পদ্যে যুৎসই উপমা প্রয়োগ পাঠকের কাছে নিঃসন্দেহে সুখকর; কিন্তু দোভাষী যখন এসব উপমা যথাযথভাবে মিলিয়ে প্রয়োগ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন, তখন বহু সময়ে তা সুখাদ্য থেকে অখাদ্যে পরিণত হয়। এত কথা বলার পর খাওয়ারিজম সাম্রাজ্যের ইতিহাস নিয়ে মত দেওয়ার মতো অসামান্য যোগ্যতা আমার অর্জিত হয়েছে—এ দাবি করি না। তবু অনুবাদ প্রসঙ্গে অল্প পরিসরে নিজের সীমিত অধ্যয়নের আলোকে বলার প্রয়াস রাখছি। আমার বিবেচনায়, এ ধারার অনুবাদগুলোর মধ্যে এটি যাবৎকালের শ্রেষ্ঠ অনুবাদ বলেই অনুমেয়—উপরিউক্ত তাচ্ছিল্যপূর্ণ উক্তির যথাযথ প্রয়োগ এখানেই সার্থক হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এতে কোনো অতিরঞ্জন নেই—এটাই বাস্তবতা।
Was this review helpful to you?
or
ইসমাইল রেহান মানেই ইতিহাসের বয়ানে ভিন্নস্বর। চমৎকার।
Was this review helpful to you?
or
ড. রাগিব সারজানির ‘তাতারিদের ইতিহাস’ এবং ড. আলি সাল্লাবির ‘মোঙ্গল ও তাতার সাম্রাজ্যের ইতিহাস’ পড়ে আমি মোটামুটি জানতে পারি—সুলতান জালালুদ্দিন মুহাম্মদ খাওয়ারিজম শাহ তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কিছু ছিলেন না। তিনি বরং খাওয়ারিজম সাম্রাজ্যের শেষদিকের অখ্যাত এক সুলতান এবং মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে কিছু লড়াই করেছেন বটে, সেসব উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। তিনি কেবল পাহাড়ে পাহাড়ে দীর্ঘ দশ বছর লড়াই করে গেছেন মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে—এই তার অর্জন। এই ধারণা আমার আপাতত মজবুত। ফরিদাবাদের প্রথম সময়টায় হাদিয়ার মাধ্যমে ‘হারিয়ে যাওয়া পদরেখা’ বইটি আমার হাতে আসে, পড়ি আর অভিভূত হই; অনেকটা অবিশ্বাসও করি। কেননা দু দুটো বইয়ে আমি সুলতান সম্পর্কে নেতিবাচক লেখা পড়েছি, হুট করে—যখন মাওলানা ইসমাইল রেহান তার বইয়ে প্রশংসা করেছেন—আমি মানতে পারছিলাম না। কোনটা বিশ্বাস করবো আর কোনটা অবিশ্বাস, ঠিক করা মুশকিল হয়ে যায় আমার জন্য। এরপর কোনোভাবে, আল্লাহর রহমত হিসেবে ‘খাওয়ারিজম সাম্রাজ্যের ইতিহাস’ পড়ার সুযোগ পাই। সেখানে দেখি,সুলতান সম্পর্কে আমার পূর্বপাঠ এবং ধারণা সম্পূর্ণ ভুল, বলা চলে ‘আরবীয় প্রচারণা’ ছিলো সেগুলো। এখানে আমি দেখতে পাই, তাতাররা অজেয়—এমন ধারণা যখন জনমনে প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেছে, কোথাও তারা আক্রমণ করলে মানুষ অনেকটা হাত গুটিয়ে বসে থাকতো তাদের সাথে লড়াই করে জেতা যাবে না বলে;—ঠিক তখন, তাতারবাহিনিকে, পাহাড়ে নয়, গেরিলা আক্রমণ করে আবার লুকিয়ে নয়, একদম খোলামাঠে হারের তিক্ত স্বাদ আস্বাদন করান মহাবীর সুলতান জালালুদ্দিন মুহাম্মদ খাওয়ারিজম শাহ। শুধু কি একবার? না না, পর্যায়ক্রমে চারবার তাদের হারের স্বাদ চাখিয়েছেন তিনি। আমান মালিক আর বদরুদ্দিন আমিদের মাত্র একটা ঘোড়া নিয়ে বাকবিতন্ডা এবং পরবর্তীতে বদরুদ্দিনের নিজের এবং তার সহযোগী হয়ে চল্লিশ হাজার সেনা যদি সুলতানিবাহিনি থেকে আলাদা না হতো; ইতিহাসের পাঠ থেকে এতটুকু উদ্ধার করা যায়, চেঙ্গিস কখনও হয়ত বিশ্ববিজেতা হতে পারতো না। সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা তো এটিই, স্বয়ং চেঙ্গিসের নেতৃত্বাধীন বাহিনিকে পরাজিত করে তিনি চেঙ্গিসবধের একদম নিকটে পৌঁছেছিলেন, শালা চেঙ্গিস যদি না পালাতো তবে সেদিনকার ইতিহাস লেখা হতো ভিন্ন কলমে, ইন শা আল্লাহ। না না, তিনি শুধু তাতারবধেই ক্ষান্তি দেননি। ভয়ংকর বাতিনিদের উৎপাত বন্ধে তার ভূমিকাও অপরিসীম। হালাকু আর বাইবার্স বাতিনিবধের যে কাজ আনজাম দিয়েছেন, এর শুভ এবং বীরত্বপূর্ণ সূচনা করেছিলেন মহাবীর এই সুলতানই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এ সংক্রান্ত ইতিহাস আমি যতটুকু পড়েছি তাতে দেখি হালাকু আর বাইবার্স যতটা হাইলাইটেড বাতিনিদের বধ করে, উম্মাহদরদী এই সুলতানা ততটা উপেক্ষিত। জর্জিয়ার বধ্যভূমিতে মল্লযুদ্ধের এক বীর যখন জর্জিয়ার খ্রিষ্টানবাহিনির একে একে চারজন বীরকে পরাভূত করেন, এবং পরে সামগ্রিক লড়াইয়ে বিজয়ও লভিত হয়; প্রশ্ন জাগে না, কে ছিলেন সেই মল্লযোদ্ধা মহাবীর? পড়ুন ‘হারিয়ে যাওয়া পদরেখা’ এবং ‘খাওশারিজম সাম্রাজ্যের ইতিহাস’ বইদুটি, পাঠকপ্রিয় লেখক, আমার অত্যন্ত পছন্দের একজন অনুবাদক, আলমগীর মুরতাজা ভাইয়ের অনুবাদে, নাশাত পাবলিকেশনের প্রকাশনায়। মুহাম্মদ উমর ফারুক পাঠক। লেখক। তালিবুল ইলম
Was this review helpful to you?
or
Valo
Was this review helpful to you?
or
সুলতান জালাল উদ্দিন এর নাম প্রথম শুনি নসীম হিজাযীর বই থেকে সেই বই পড়ে জানলাম সুলতান আলাউদ্দিন চেঙ্গিস খানের বিরুদ্ধে জালাল উদ্দিনের কোন পরামর্শ গ্রহণ করেননি । চেঙ্গিস খানের হাতে খাওয়ারিজম সাম্রাজ্য ধ্বংস হওয়ার পর সুলতান আলাউদ্দিন তাকে সুলতান মনোনয়ন করে যান এবং সেই সময় প্রথম প্রশ্ন মনে আসলো জালাল উদ্দিন কিভাবে সুলতান হলেন কারণ আমার ধারণা হয়েছিল খাওয়ারিজম সাম্রাজ্যঃ শেষ, এরপর মনে প্রশ্ন জাগলো সিন্ধু নদের পড়ার পর কিভাবে সে ইলতুৎমিশের কাছে গেল এবং পরবর্তী দিনগুলো সে কিভাবে কাটালো কিন্তু সেগুলো জানার কোন উপায় ছিল না শুধু এটা জানলাম যে ইলতুৎমিস তাকে সাহায্য করেননি এবং উদ্বাস্তু অবস্থায় সে সে নিহত হয়েছিল এই সম্পর্কে আর কিছুই জানতাম না । তারপর পেলাম রাগেব সারজানীর "তাতারীদের ইতিহাস" সেই বই পড়ে আবার অবাক হলাম জানলাম যে জালাল উদ্দিন তার ভাই গিয়াস উদ্দিন এবং সেই রাষ্ট্রের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং খিলাফত ও আশেপাশের মুসলিম দেশগুলোর অনেক নিরীহ জনগণ হত্যা করেছেন । সেই বই পড়ে আরো কনফিউজ হলাম এতদিন যাকে হিরো হিসেবে জানতাম তাকে এখানে দেখানো হলো কিছুটা খারাপ চরিত্র হিসেবে এটা যখন জানলাম খুব হতাশ হলাম । যাই হোক হঠাৎ করে একদিন ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেখলাম খাওয়ারিজম এর ইতিহাস নামক বইয়ের অগ্রিম প্রচারণা, বই বের হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে বইটি কিনে ফেললাম এবং আমার যত প্রশ্ন ছিল আজ পর্যন্ত তার সমস্ত কিছুর উত্তর পেলাম এবং অনেক ভুল ধারণাও ভাঙলো । যেমন নসীম হিজাযীর বই পড়ার সময় ভেবেছিলাম খাওয়ারিজম সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে গিয়েছে কিন্তু পরবর্তীতে জানলাম চেঙ্গিস খানের পরেও আরো বহু বছর লেগেছিল খাওয়ারিজম সাম্রাজ্য ধ্বংস হতে, জানলাম আলাউদ্দিন যে দ্বীপে মারা গিয়েছেন সেই দ্বীপেই জালাল উদ্দিন ও ছিলেন তারপর আরও জানলাম সিন্ধু নদী ঝাপিয়ে পড়ার পর সেখানে সে একটি ছোট কল্যাণকর মুসলিম রাষ্ট্র তৈরি করেছিলেন তারপর সেখান থেকে পুনরায় খাওয়ারিজমে ফেরত এলেন এবং সুলতান হিসেবে তার পিতার সাম্রাজ্য উদ্ধার করতে এবং মুসলিমদের তাতারদের হাত থেকে উদ্ধার করতে, জানলাম তার পরিবারের জীবিত অন্যান্ন সদস্যের কথা ও তার বিবাহিত জীবনের কথা। আরো জানলাম জালালউদ্দীন দুষ্ট খিলাফত, ক্রসেডারদের বিপক্ষে এবং ভুল বুঝানোর কারণে সেলজুকদের বিপক্ষেও লড়তে হয়েছে। খাওয়ারিজম এর ইতিহাস বইটির রিভিউ লিখতে চেয়েছিলাম অনেক আগেই আসলে রিভিউ লিখতে আমার ভালো লাগে আবার অলস লাগে কিন্তু বইটা প্রথমবার খুব ছটফট করে পড়লাম তারপর একজনকে গিফট করে দিলাম এখন আবার সেকেন্ড টাইম বই টা কিনবো সেদিন অন্য একজনের ভিডিওতে আমি লিখেছিলাম আই লাভ দ্যা বুক এবং তখন লেখক সেখানে জাযাকাল্লাহ খায়ের বলেছিলেন তখন আমার মনে পড়ল যে এত সুন্দর ভালো একটা বইয়ের রিভিউ এখনও লিখিনি এটা ঠিক নয় শেষ পর্যন্ত রিভিউ লিখলাম এবং রকমারিতে রিভিউ পোস্ট করে দেব ।




