
User login
Sing In with your email
Send
Our Price:
Regular Price:
Shipping:Tk. 50
প্রিয় ,
সেদিন আপনার কার্টে কিছু বই রেখে কোথায় যেন চলে গিয়েছিলেন।
মিলিয়ে দেখুন তো বইগুলো ঠিক আছে কিনা?
Share your query and ideas with us!
Was this review helpful to you?
or
valo lage
Was this review helpful to you?
or
প্রথম খন্ড পড়ে শেষ করলাম। মাথার ভিতর এখনো চরিত্র গুলা ঘুরতেছে। খুবই রোমাঞ্চকর একটা Journey ছিল বইটির সাথে। গল্পের শুরু থেকে শেষ, এক কথায় অসাধারণ। বইটি থেকে Game of Throne, Vikings সিরিজের একটা ভাইব পাবেন। প্রথম খন্ড খুবই ভাল লেগেছে, ২য় খন্ডে সেই রোমাঞ্চ টা ধরে রাখতে পারলেই হয়।
Was this review helpful to you?
or
good book. love it
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ বই
Was this review helpful to you?
or
Very nice book....famous in my college...!!...I would like to suggest all the book lovers to read this book
Was this review helpful to you?
or
আমি এতো page আগে একসাথে কখনো পড়িনি। ৪০ page এর বেশি পড়ে ফেলেছি এবং আরো পড়তে মন চাচ্ছে কিন্তু সময় স্বল্পতা। বইটা নিয়ে পড়ে দেখতে পারেন সময় এবং টাকা দুইটাই অপচয় হবে না আশা করি
Was this review helpful to you?
or
best
Was this review helpful to you?
or
অনেক ভালো লাগলো পড়ে ধন্যবাদ লেখককে 🥰
Was this review helpful to you?
or
গল্পটার মাঝে মাঝে ভাজে ভাজে রহস্য লুকিয়ে আছে।
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ বই।
Was this review helpful to you?
or
খুব সম্প্রতি এক বন্ধুর থেকে বইটি পেয়েছি। বলতে দ্বিধা নেই যে আমাদের পশ্চিমবঙ্গলাতেও এই গল্পটি খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।। গল্প প্রসঙ্গে আসি, প্রথমেই অনেক অনেক ধন্যবাদ সাদাত ভাইকে এতো সুন্দর একটি গল্প উপহার দেওয়ার জন্য।। আজিই, এই মুহূর্তে পড়া শেষ করে কমেন্ট করতে এলাম কারণ অনেকদিন পর এমনি দুর্দান্ত একটি গল্প পড়লাম।। ব্যক্তিগত ভাবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা গল্প আগাগোড়াই প্রিয়।। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায ,আলেজান্ডার ডুমা , আরও অনেকেরই লেখা বেশ কিছু ঐতিহাসিক গল্প পড়েছি।। আজ এই গল্পটি শেষ করে বিশেষ ভাবে তৃপ্তি পেলাম।। গল্পের প্রতি ভাঁজে চমক।। পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য খুব ব্যাকুল ভাবে অপেক্ষায় রয়েছে ভাই।। প্রতিবেশীর ভালোবাসা নিও।।
Was this review helpful to you?
or
বইটি যে খুবই ভালো একটা থ্রিলার তা বেশ বুঝতে পারছি, যারা সাদাত ভাইয়ের সমালোচনা করেন তাদের একবার এই বইটি পড়া উচিত, সাদাত হোসাইন ভাইয়ের কল্পনাশক্তি যে কতটা গভীর তা টের পাওয়া যায় এ থ্রিলার উপন্যাস থেকে। তবে বইটির বৃহৎ উপন্যাস হওয়ায় আর দাম বেশী হওয়ায় কিনতে পারিনি তাই প্রথম কয়েক পেইজ পড়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে!
Was this review helpful to you?
or
This is a good book for read.
Was this review helpful to you?
or
আশা করছি ভালো কিছু পাবো।
Was this review helpful to you?
or
ফালতু উপন্যাস লেখার ও একটা লিমিট থাকে। তবে এই বইটা যেন সে লিমিট অতিক্রম করেছে।
Was this review helpful to you?
or
#রকমারি_সাদাত_হোসাইন_বুক_রিভিউ_প্রতিযোগিতা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, "হঠাৎ কখনো দেখতে পাই সহস্র চোখ মেলে তাকিয়ে আছে সুন্দর!" কথাটি মনে পড়লো কারণ বইটি পড়তে গিয়ে আমি আবিস্কার করলাম প্রায় পৃষ্ঠায়, প্রতি অধ্যায়ে অজস্র চোখ মেলে তাকিয়ে আছে সুন্দর! তবে সেই সুন্দর শিশির ভেজা শিউলির মতো স্নিগ্ধ নয়, চাঁদের আলোর মতো মায়াময় নয়, শঙ্খচূড়ের মতো। শঙ্খচূড় যেমন পৃথিবীর সবচে সুন্দর সাপ কিন্তু তুমুল বিষধর, ঠিক তেমন ভয়ংকর সুন্দর! যে সুন্দর পুরো বই জুড়েই বলে গেছে চন্দ্রগড়, রায়পুর কিংবা জলন্ধরপুরের ইতিহাস ও তার কুশীলবদের কথা। কিন্তু শঙ্খচূড় ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়, বরং ইতিহাসের ছায়া অবলম্বনে লেখা উপন্যাস একথা লেখক নিজেই বলেছেন। এখানে ইতিহাস যেমন এসেছে এর কুশীলবদের হাত ধরে ঠিক তেমনি স্বমহিমায় জ্বলজ্বল করা এর কুশীলবরাও এসেছেন ইতিহাসের ভেলায় ভেসে... কাহিনী নির্যাস ও চরিত্রচিত্রণঃ আমরা যে টাইমলাইনে বাস করছি, সেখানে যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই, প্রীতি নেই, করুণার আলোড়ন নেই, পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া! এবং খুবই আশ্চর্যজনক ভাবে অসহায় হয়ে আমরা লক্ষ করি যে, সেই মানুষগুলোকে ঘৃণা করা যায়, অশ্রদ্ধা করা যায়, কিন্তু অগ্রাহ্য করা যায় না। ঠিক তেমনি যেনো আমাদের টাইমলাইনে বাস করা এক ঐতিহাসিক চরিত্র রাজমাতা অন্নপূর্ণা দেবী। তাকে আপনি ভালবাসতে পারেন কিংবা ঘৃণা করতে পারেন, কিন্তু অগ্রাহ্য করতে পারবেন না। এই গল্পটা রাজমাতা অন্নপূর্ণা দেবীর। গল্পটা সৃজিতার। যে সৃজিতা জানে না কী এমন অভিমানে থই থই বুকের পুকুর সেচে ব্যথার কাটা কুড়িয়ে আনতে হয় এবং কে জানে, হয়তো বাকিটা জীবনও জানবে না। কিংবা যত দিনে জানবে, ততদিনে সৃজিতার আর কোনো কিছু নিয়ে অভিমান হবে না। সে অভ্যস্ত হয়ে যাবে এই সব গভীর অনুভবহীন অসংবেদনশীল এক নিরেট জীবনে। কারণ, যে জীবন অনিবার্য, সেই জীবনকে অস্বীকার করা বরং নিজেকে আরো বেশী বঞ্চিত করারই নামান্তর। গল্পটা শৈলগিরির। সেই রাতের ওই মৃদু ম্লান আলোয় যার অমন অদ্ভুদ মায়াময় মুখখানা দেখে অরুণাদিত্যের বুকের ভেতর এক অবচেতন অনুভবের চোরাস্রোত যেন বয়ে গিয়েছিলো! সেখানে বিস্ময়, ভয়, কৌতুহল যেমন ছিল, তেমনি তীব্র এক মায়াও ছিল। সেই মায়া তার এই নিষ্ঠুর পরিনতি নিয়ে। এই জীবনে আর কখনোই কথা বলতে পারবেনা সে। এমন টলমলে চোখের আড়ালে কী অব্যক্ত যন্ত্রণা কিংবা কথা সে বয়ে বেড়াচ্ছে, তা কেউ কখনো জানতে পারবে না! আচ্ছা, কথা বলতে না পারা একজন মানুষের পৃথিবী কেমন হয়? কিংবা এই গল্পটা যুবরাজ অরুণাদিত্যের। যে ছিলো একটি প্রজাপতি। প্রজাপতির মতোই সকল পরিকল্পনা আর উদ্দেশ্য নিয়ে এথা-ওথা উড়ে বেড়াচ্ছিলো সে। প্রজাপতি হিসেবে তার যে সুখটুকু দরকার শুধুমাত্র তা নিয়েই সে চিন্তিত ছিলো। কিন্তু বিধাতা তো তাকে দিয়েছেন এক মানবজনম... তাই শীগ্রই তার সেই স্বপ্নময় সময় শেষ হয়ে গেল। হঠাৎ এক দমকা ঝড়ে সে মানব হয়ে গেল। অরুণের আর এর পর থেকে প্রাসাদের বাইরে যাওয়া হয় না। বরং রোজ দুপুরে সবাই যখন ভাত ঘুম দেয়, যখন একটা ঝিম ধরা অলস দুপুর এলিয়ে পড়তে থাকে চন্দগড় রাজবাড়ির থাম আর দেয়ালের ফাকে, ঠিক তখনই তার ভেতর ছটফট করতে থাকে আশ্চর্য ডানাওয়ালা এক পাখি। সেই পাখিটা যেন বারবার বলতে থাকে, কখন ওই ছাদের ঘরটাতে যাবে সে। কখন কারো একটুকু স্পর্শে চারপাশে প্রজাপতি উড়তে থাকবে। আর এক অদ্ভুত মায়াময় এক সুবাসে বুকের ভেতর ফুটতে থাকবে অজস্র রঙিন ফুল! কিংবা গল্পটা মানবজনমের। যে মানবজনমের নাম অপেক্ষা আর বিভ্রম! যেমন আমরা সারাটা জীবনজুড়েই অপেক্ষাই করে যাই কারো জন্য। কেউ প্রেমিকার জন্য, কেউ প্রেমিকের জন্য, ভালবাসার মানুষের জন্য, কেউ স্বপ্নের জন্য, কেউ প্রাপ্তির জন্য, কেউ আগামীকালকের জন্য... সবাই আমরা অপেক্ষায় থাকি। অপেক্ষা করতে করতেই আসলে মানবজনমটা কেটে যায়। যেমন করে এক অদেখা অরুণাদিত্যের এক পলক দেখার জন্যে, তার একটি চিঠির প্রত্যুত্তরের অপেক্ষায় কিংবা অরুণাদিত্যের সাথে একটি সুখের সংসারের বিভ্রমে কেটে যাচ্ছে পুষ্পলতার এক মানবজনম! এই গল্পটা কি তবে পুষ্পলতার? খুব সচেতন ভাবেই এড়িয়ে গেলাম এই বইয়ের অন্যতম শক্তিশালী চরিত্র অক্ষয়াদিত্য, কৃষ্ণেন্দু মিত্র, চিত্রলেখা দেবীর কথা। তারা প্রত্যকেই ছিলেন শঙ্খচূড়ের মস্তকের একেকটা মনি। তবে বিশেষ করে বলতে হয় রত্নেশ্বর ঠাকুরের কথা! যার কন্ঠে উচ্চকিত হয়েছে, "যা তোমার নয়, তা তুমি পেয়ে গেলেও তোমার নয়। আর যা তোমার, তা তুমি না পেলেও চিরকালই তোমার। সুতরাং কারও ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে পেতে চেয়ো না। বরং ছেড়ে দাও। মুক্ত করে দাও। মনে রেখো, কখনো কখনো মুক্তিই বন্দিত্ব। আবার কখনো বন্দিত্বই মুক্তি।" পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ আমার এই বইয়ের সবচে ভাল লাগার দিক হচ্ছে, প্রতিটি চরিত্র ইতিহাস থেকে উঠে আসলেও তারা চিন্তায়, মননে আধুনিক। তাদের প্রতিটি কথা আপনাকে যেমন ভাবাবে, তেমনি মনে হবে তাদের ভাবনাগুলো আপনারই কথা। প্রবল ঘোর যখন অরুণাদিত্যকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, অদ্ভুত এক নেশার মতো বারবার টেনে নিয়ে যাচ্ছিল তাকে না চাওয়া দিকে, সেই ঘোর থেকে সে কিছুতেই নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারছিলো না, অথচ নিজের সাধ্যমতো চেষ্টাটা সে করেছিল, তখন মনে হচ্ছিলো, আমিই অরুণাদিত্য। যেনো আমি জানি তার ওই অব্যক্ত অনিমেষ যন্ত্রণা কিংবা যুদ্ধের কথা, যা সে নিজে ছাড়া আর কেউই জানে না! তার সাথে সুর মিলিয়ে আমারো খুব বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো; আচ্ছা, মানুষ নিজের অজান্তেই কাউকে এমন ভালবেসে ফেলে? আমারো মনে হচ্ছিলো, এই মানবজনম যদি মহার্ঘ কোনো প্রাপ্তি হয়, তবে তা তেমন মহার্ঘ কোনো কারণে ব্যয় করছি না। বরং ছুটে চলেছি তুচ্ছ এক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে। অথচ জীবনজুড়ে কত অসাধারণ সব কারণ আছে বেচে থাকবার। তার মতোই আমাদেরো কিছু ইচ্ছে, কিছু চাওয়া হয়ে যায় অন্য ভুবনের। কিছু ইচ্ছে পূরণের সাধ থাকে কিন্তু আমরা জানি এই জীবনে সেই সুযোগ আর কখনোই মিলবে না। কাউকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে কিন্তু আমরা জানি তার সঙে দেখা হবে না আর কোনদিন। কিছু কথা খুব জানতে ইচ্ছে করে কিন্তু আমরা জানি কোনদিন জানা হবে না সেই গভীর গোপন কথাগুলো। আচ্ছা সব মানুষের জীবনই কি এমন? এমন কত না বলা কথা, না জানা অনুভব আর অপ্রকাশিত বেদনা নিয়েই কি হঠাৎ ফুরিয়ে যায় সব? পুরো বইয়ে যদি আমার খারাপ লাগার কথা বলতে চাই, তবে প্রথমেই বলতে হবে বইয়ে এন্ডিংটা। যে বইটা পুরো সময় ধরে অসাধারণ গল্প বলেছে তার শেষটা এমন অতিনাটকীয়, অসামঞ্জস্য ও দূর্বল হবে, এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। তাছাড়া পুরো বইটি শেষ করেও আপনি কোন তৃপ্তি অনুভব করবেন না, অসংখ্য প্রশ্নের এক সীমাহীন আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনাকে বসে থাকতে হবে। কিন্তু ৩০৮ পৃষ্ঠা শেষ করে আপনি নিশ্চই শুধু প্রশ্ন হাতে নিয়ে বসে থাকতে চাইবেন না, কিছু প্রাপ্তি নিশ্চই আপনি পাওনা হিসেবে দাবি করতে পারেন, যা আপনি পাবেন না 🙁 পরিশেষে লেখকের কন্ঠ থেকে চুরি করে বলতে চাই, শঙ্খচূর অসংখ্য বিশ্বাস-অবিশ্বাস, ষড়যন্ত্র, সততার গল্প। এখানে প্রেম যেমন আছে তেমনি দ্রোহ আছে। এখানে যুদ্ধ যেমন আছে তেমনি মমতার গল্প আছে। এখানে রাজনীতি আছে, আছে আস্থা ও চরম অনাস্থার ব্যাপারো। আশা করছি শঙ্খচূড় আপনাদের নিয়ে যাবে এক শ্বাসরুদ্ধকর গল্পের জীবনে। যেটি আপনাদের ভাবনার জীবন কিংবা জীবনের ভাবনাকে ছুয়ে দেবে।
Was this review helpful to you?
or
পাঠপ্রতিক্রিয়া: কাজী ফারিয়া রোজা। শঙ্খচূড় - যেন এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির নাম.... প্রথমেই বই সম্পর্কে একটা টিপস্ঃ এই ৩০৭ পৃষ্ঠার বিশাল উপন্যাসটি এক বসায় পড়ে নিতে পারলেই ভালো। নয়তো কোনো কাজেই মন বসবে না। বইটির মলাট, প্রতিটি পৃষ্ঠা এত সুন্দর ও ইন্টারন্যাশনাল মানের হয়েছে। যার জন্য বইটিকে হাতে নিলেই অন্যরকম একটা money worthy feel আসে। পাঠক বই ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে পড়ে থাকে। কখনো কাজের প্রয়োজনে। কখনো নির্দিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান লাভের জন্য। কখনো বা জীবনের বোরিং লাইন থেকে একটু বেরিয়ে আসার জন্য। আমি যখন-ই জীবন নিয়ে বিরক্ত হয়ে যাই তখন নির্দিষ্ট কিছু লেখকের বই পড়তে বসি।যেমন- সমরেশ মজুমদার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ুন আহমেদ.... বর্তমানে বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছি সাদাত হোসাইনের বই এর প্রতি। সাদাত হোসাইনের বই মানেই- আপনাকে বইয়ের প্রেক্ষাপটে এমন ভাবে নিয়ে যাবে যে আপনি আলাদা করতে পারবেন না, আপনি আসলেই পাঠক নাকি বইয়ের মধ্যে থাকা কোনো চরিত্র। শঙ্খচূড় এমন একটা প্লটের উপর লেখা উপন্যাস যা আমি কিংবা আমার বাবা এমনকি আমার বাবার বাবা ও এই যুগ দেখেন নাই। রাজ্য কাহিনী আমরা সাধারণত গল্প হিসেবে শুনে থাকি। সব সময় মনে হয় এটা আলাদা কিছু। কিন্তু এই উপন্যাস, শঙ্খচূড় পড়তে পড়তে আমি কখন যে এই রাজ্যের প্রতিটি ইট,প্রতিটি দেয়াল,দরজা, মানুষ....সমস্ত কিছু নিজের সামনে আবিষ্কার করতে শুরু করলাম! শঙ্খচূড়-এর প্রতিটি মানুষ আমার চেনা মানুষ হয়ে উঠলো।প্রতিটি ঘটনার যেন আমি চাক্ষুষু সাক্ষী। পুরো উপন্যাস জুরে একের পর এক অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হয়েছে৷ কোনো এক ঘটনা যদি স্বস্তি দেয় কিছু পরই খেতে হয় আরেকটা চোট। রাজ্যের সব কূটনীতিক ষড়যন্ত্র আর নিজের রক্ত রক্ষার এক বিচ্ছিরি খেলায় মেতে উঠা লোমহর্ষক একেকটি ঘটনা। এটা আসলেই একটা গল্প নাকি নিজেরই জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা, আলাদা করতে একটু সময় লেগে যায়। অন্যরকম এক মায়া ও মোহতে মাখানো এই উপন্যাস। মূহুর্তের মধ্যেই কোনো চরিত্রকে ভালোবাসতে শুরু করলে পর মূহুর্তেই আবার ঘৃণা করতে বাধ্য হতে হয়। সম্পূর্ণ উপন্যাস পড়ার পর একটা জিনিস ভালো ভাবেই উপলব্ধি করেছি, বিশ্বাসের মত অবিশ্বাসযোগ্য বিষয়ের উপর বিশ্বাস রাখাটা সত্যিই বোকামি। রহস্যময় প্রতিটি চরিত্র গুলোকে রহস্যের আড়ালে রেখেই কেবল বলতে চাই। প্রতিটি চরিত্রের মাঝে আছে ভালোবাসা-ঘৃণা, মমতা- হিংস্রতা, সততা- বিশ্বাসঘাতকতা এমনি ভিন্ন ভিন্ন আবেগের মিশ্রণ। কোথাউ খুব ভালোবাসার মাঝেও লোভ লুকানো থাকে আবার কোথাউ ঘৃণার মাঝেও থাকে মমতা। অবাক হয়ে কেবল সততার বিসর্জন দেখেছি, বিশ্বাসের এমন ভয়ংকর মৃত্যু দেখেছি যা এলোমেলো করে দিবে যে কাউকে। অনেক কিছু লিখতে চেয়েও লিখতে পারছি না সময়ের অভাবে। আমার মত মহা ব্যস্ত মায়েদের জন্য উপন্যাসটা পড়া কষ্টকর। আমি যেন আমার নিত্যদিনের কাজের মধ্যে থেকেও শঙ্খচূড়ের মোহে আটকে ছিলাম। সময় নিয়ে পড়তে না পারার তেষ্টার কাতরাতে হয়েছে আমাকে। সর্বক্ষণ ভাবতে হয়েছে এখন কেমন আছে অরুণাদিত্য, অন্নপূর্ণা দেবীর শেষটা কেমন হবে, রাজ্য জয়ের খেলায় কে হবে জয়ী, পুষ্পলতা কি দেখা পাবে অরুনাদিত্যের?..........
Was this review helpful to you?
or
❝বিশ্বাসের মতো এত অবিশ্বাস্য একটা বিষয়কে যত কম বিশ্বাস করা যায় ততই ভালো।❞ পুরো বইটাতে এই একটা কথার উপর ভিত্তি করেই চলছিলো। সাদাত হোসাইন এর এক অনবদ্য উপন্যাস শঙ্খচূড় এর প্রতিটা চরিত্রই এমন যে কাউকেই বিশ্বাস করা মুশকিল। একের পর এক লড়াই। একের পর এক ষড়যন্ত্র। একের পর এক রহস্যে। বইয়ের প্রতিটা পৃষ্ঠাতেই যেন রহস্যে ভরপুর। বিশ্বাস এমনই একটা জিনিস যে কারোর উপর চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস রাখা যায় না। ★প্রচ্ছদঃ 'শঙ্খচূড়' বইটির প্রচ্ছদ এক কথায় অতুলনীয়। আমরা সাধারণত পাঠকেরা খুব আগ্রহ নিয়ে বসে থাকি যে পছন্দের বইটির প্রচ্ছদ কেমন হবে! খুব সম্ভবত বইয়ের প্রচ্ছদটা দেখতে আকর্ষণীয় হলে আমরা সেই বই কিনতে দ্বিধাবোধও করি না। তবে শঙ্খচূড় এর প্রচ্ছদটা গল্পের সাথে মিল রেখে একদম খাপ খাওয়া হয়েছে। দেখতে যেমন আকর্ষণীয় এবং চোখ ধাধানো তেমনি হার্ড কভারও। একটি রাজ্যের কাহিনি দিয়ে এই বইটি যেভাবে সাজানো হয়েছে তেমনি প্রচ্ছদেও তার অর্ধেকটা ফুটিয়ে তুলেছেন মো. সাদিতউজজামান। ★ লেখক পরিচিতিঃ সাদাত হোসাইন নিজেকে বলেন গল্পের মানুষ। তার কাছে চারপাশের জীবন ও জগৎ, মন ও মানুষ সবই গল্প। গল্প বলার সেই আগ্রহ থেকেই একের পর এক লিখেছেন তুমুল জনপ্রিয় উপন্যাস। নির্মাণ করেছেন স্বল্প ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র, টিভি ফিকশন। নিজের অভ্যস্ত পরিসরের পাশাপাশি শুরু করেছেন মৌলিক থ্রিলার রেজা সিরিজ, কিশোর উপন্যাস, শিশুদের জন্য বই ইত্যাদি। জিতেছেন জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল আ্যাওয়ার্ড, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকার পুরস্কার, এসবিএসপি-আরপি ফাউন্ডেশন সাহিত্য পুরষ্কার, শুভজন সাহিত্য সম্মাননা। ২০১৯ এ জিতেছেন এক্সিম ব্যাংক অন্যদিন হুমায়ুন আহমেদ সাহিত্য পুরষ্কার। ২০২০ এ পেয়েছেন অন্যদিন সম্ভাবনার বাংলাদেশ (কথাসাহিত্য) সম্মাননা ও Marvel of Tomorrow Influencers Award. জিতেছেন আইএফআইসি ব্যাংক-কালি ও কলম সাহিত্য পুরষ্কার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সাদাত হোসাইনের জন্ম ১৯৮৪ সালের ২১ মে, মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার কয়ারিয়া গ্রামে। ★ কাহিনি সংক্ষেপেঃ চন্দ্রগড় রাজ্যের রানির জ্যেষ্ঠ পুত্র বর্তমান রাজা বিজয়াদিত্য এক কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত। এই নিয়ে রাজ্যের সকলে বিভ্রান্ত এবং রাজার এই দুরবস্থা চোখে দেখা দুঃসহ। বুদ্ধিমতী, মহীয়সী, প্রবল পরাক্রমশালী রাজমাতা অর্নপুর্ণা দেবী সত্তোরোর্ধ বয়সে এসে তার পুত্রের এমন দুরবস্থা সহ্য করতে না পেরে এক রাজবৈদ্যের কাছে নিয়ে যান এবং তিনি বলেন রাজার 'কুষ্ঠ' রোগ হয়েছে। এই রোগ স্বয়ং ভগবানের দেওয়া অভিশাপ, রাজার রোগ ভালো করা এই পৃথিবীতে কারোর সাধ্য নেই। তিনি এমন কোনো পাপ করেছেন যার জন্য তাকে স্বয়ং ভগবান এই শাস্তি দিয়েছেন। তবে সাধু এটাও বললেন যে, রাজা যদি প্রার্থনা ও প্রায়শ্চিত্ত করেন তাহলে তার এই রোগ সারতে পারে অর্থাৎ ত্যাগ ও তপস্যা করতে হবে। তাই রাজমাতা তার পুত্রকে নৌকায় ভাসিয়ে দেন বহুদূরে। রাজ্যের উত্তরাধিকার হলেন রাজার পুত্র যুবরাজ অরুণাদিত্য, কিন্তু রাজার আসন বা রাজাকার্য নিয়ে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। রাজ্যকে ঠিক রাখার জন্য রাজার পুত্র অরুণাদিত্যের সঙ্গে রায়পুরের রাজা মহেন্দ্র রায়ের একমাত্র কন্যা সৃজিতার বিবাহ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন রাজমাতা। যেখানে অরুণের বয়স সবে চৌদ্দ সেখানে রাজকুমারী সৃজিতা তার থেকে বয়সে পাঁচ বছরের বড়। বয়সে বড় মেয়েকে বিয়ে করতে চায় না অরুণাদিত্য তাই বিবাহের আগের দিন তিনি পালিয়ে যান। রাজ্যের সম্মান বাঁচানোর জন্য রাজ মাতা তার কনিষ্ঠ পুত্র বিনয়াদিত্যের সঙ্গে রাজকুমারীর বিবাহ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং বিবাহ সম্পন্ন করলেন। এর এক মাস পর যুবরাজ অরুণাদিত্য চন্দ্রগড়ে ফিরেও আসেন। হঠাৎ একদিন রাজ মাতা অন্নপূর্ণা দেবীর কাছে খবর আসে যে তাদের চন্দ্রগড়ের একটি বিশেষ অংশ গজেন্দ্রগড় দুর্গে কোনো এক দস্যুদল আক্রমণ করেছে। তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার অবস্থা চন্দ্রগড় এর না থাকায় যুবরাজ অরুণাদিত্য জলন্ধরপুরের এক জমিদার এর কাছে সাহায্যের বিনিময়ে সাহায্য চাইতে গিয়েছেন কিন্তু জমিদার এর শর্ত ছিলো তার একমাত্র কন্যা পুষ্পলতার সঙ্গে অরুণাদিত্যের বিবাহ দিতে হবে। কোনো উপায় না পেয়ে যুবরাজ অরুণাদিত্য পুষ্পলতাকে বিবাহ করে গজেন্দ্রগড় দুর্গকে আপাতত বাছিয়েছে। কিন্তু সে পুষ্পলতার মুখখানা দেখেনি। এরপর গজেন্দ্রগড় দুর্গে থাকা অবস্থায় যুবরাজ অরুণাদিত্যকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। কেউ তাকে আটক করে নিয়েছে। এমব অবস্থায় চন্দ্রগড় এর বুদ্ধিমতী, মহীয়সী, প্রবল পরাক্রমশালী রাজমাতা অন্নপূর্ণা দেবীকে অক্ষয়াদিত্য বন্ধী করে অত্যাচারিত এবং অপমানিত করেন। যেই অন্নপূর্ণা দেবী ছিলেন তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা রাজ্যের রাজামতা তাকেই শেষমেশ বন্ধী হতে হলো তার বড় ঝা চিত্রলেখা দেবীর কাছে। কিন্তু অরুণাদিত্যের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না দেখে পুষ্পলতা নিজে গজেন্দ্রগড় দুর্গে যায় এবং সেখান তার বিপদ বুঝে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে অপহরিত হতে হয় কোনো এক ডাকাতের দলের হাতে। অন্যদিকে অরুণাদিত্য পালিয়ে গিয়ে উঠেছে সেই ডাকাতদের দলের কাছেই। সেখানেই পুষ্পলতার সাথে তার প্রথম দেখা কিন্তু কেউ কাউকে দেখেও চিনতে পারেনি কারণ বিবাহের সময় কেউ কারোর মুখ দেখেনি। ডাকাতের হাত থেকে বাঁচবার জন্য পুষ্পলতা একটা ছুরি নিজের বুকে বিঁধে দিলো সে। কিছুক্ষণ পর যুবরাজ অরুণাদিত্যকে কুয়োর ধারে কেউ আচমকা চেপে ধরে একটা ধারালো খঞ্জর দিয়ে বিদ্ধ করে দিলো। হিমশীতল যন্ত্রণায় শোনা গেলো দুইটি মৃত্যুচিৎকার......... ★ তাৎপর্যঃ কিন্তু প্রশ্ন হলো রাজা বিজয়াদিত্য কি এমন পাপ করেছিলেন যার জন্য স্বয়ং ভগবানে তাকে এমন অভিশাপ দিয়েছেন? নাকি তার কোনো কুষ্ঠ রোগ হয়নি বরং সবই ষড়যন্ত্র? যুবরাজ অরুণাদিত্যের সৃজিতার সঙ্গে মনের মিল হওয়া শর্তেও কেন সে বিবাহ না করে পালিয়ে গিয়েছিলো? এর পেছনেও রয়েছে এক রহস্য! গজেন্দ্রগড় দুর্গে আক্রমণ করা দাস্যুদল চন্দ্রগড়েরই কারো ষড়যন্ত্র নয়তো? যুবরাজ অরুণাদিত্যকে কারা অপহরণ করেছিলো? কেনই বা করেছিলো? পুষ্পলতাকে অরুণাদিত্য কেনই বা বিবাহ করেছিলো? কি কারণে ডাকাতের হাতে পড়তে হলো পুষ্পলতাকে? কেনই বা দু'জনের অন্তর্ধান হলো? এই সব প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে বইটি পড়লেই......... ★ পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ চন্দ্রগড় রাজ্যের রাজা বিজয়াদিত্যের এমন অবস্থা কল্পনা করে আমার খুবই খারাপ লেগেছিলো। কিন্তু অরুণাদিত্যের সঙ্গে রাজকুমারী সৃজিতার অনেকটা মনের মিল হয়ে যাওয়ার পর সৃজিতার বিবাহ অরুণের কাকার সাথে হওয়াটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারিনি। তবে পড়তে পড়তে এমন সব রহস্য বেরিয়ে আসলো যে এই বিবাহটা মানতে আমার আর সংকোচ হলো না। প্রতিটা পৃষ্ঠায় এত এত রহস্য ছিলো যা বোঝা কষ্টসাধ্য। প্রতি পৃষ্ঠা উল্টাতে যেন রহস্য বাড়তে থাকে। পুরো উপন্যাসটাই রহস্যে ঘেরা। বইটা পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো আমি কল্পনায় মুভি বানিয়ে ফেলেছি। রোমাঞ্চকর কাহিনিগুলো রোমাঞ্চ হয়েছি আমিও। অবাক করা কাহিনিগুলোয় তুলনামূলক বেশিই অবাক হয়েছি আমি। একটি রাজ্যের কাহিনি যেমন অনেক বেশি সুন্দর হতে পারে তেমনি অনেক ভয়ংকরও হতে পারে। একের পর এক ভয়ংকর ঘটনাগুলো শিহরণ খেলে গেলো। তবে একপ্রকার বিরক্তি নিয়ে শেষমেশ বইটা শেষ হলো। কারণ কোনো রহস্যের উম্মোচনই হলো না। বিজয়াদিত্যের খোঁজ না পাওয়া, অরুণাদিত্য কিংবা পুষ্পলতার খোঁজ না পাওয়া, রায়পুরের সাথে চন্দ্রগড়ের যে বিশাল যুদ্ধ হওয়ার কথা ছিলো সেটাও না হওয়া, রাজ মাতা অন্নপূর্ণা দেবী কারাগার থেকে মুক্ত না হওয়া সবকিছুই রয়ে গেলো। শঙ্খচূড় দ্বিতীয় খন্ডে এইসব রহস্যের উন্মোচন করা হবে। শঁখচূড় দ্বিতীয় খন্ডের অপেক্ষায়...............! ★ চরিত্রায়নঃ সাদাত হোসাইন এর এক অনবদ্য উপন্যাস শঙ্খচূড়। শক্তিধারী বুদ্ধিমত্তা চরিত্র দিয়ে ভরপুর এই বইটি। আমার সবথেকে পছন্দের চরিত্র রাজমাতা অন্নপূর্ণা দেবী। এই বৃদ্ধা মহীয়সী নারীর যেমন তেজ তেমনি সততা। এছাড়াও এই বইয়ের প্রতিটা চরিত্র ই পরিবর্তনশীল। অর্থাৎ বইয়ের পাতা উল্টাতে যেন চরিত্রগুলোর রূপ পরিবর্তন হতে থাকে। সবগুলো চরিত্র ই খুবই ভয়ঙ্কর। সব চরিত্রের মাঝে ই রয়েছে ষড়যন্ত্র! ★বইটি কেন পড়বেনঃ সাধারণত রাজপরিবারের উপঢৌকন এর ব্যাপারে আমাদের ধারণা খুবই তুচ্ছ। একটা রাজপরিবারের ইতিহাসে গড়া থাকে অনেক অনেক তথ্যাদি। রাজসিংহাসনের জন্য একের পর এক লড়াই চলতে থাকে। জনে জনে ষড়যন্ত্র করে রাজসিংহাসন দখল করতে চায়। আপনি এই বইটা পাঠ করবেন রাজসিংসাহনের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে জানতে। সাদাত হোসাইন তার সমস্ত চেষ্টায় বইটাকে খুবই আকর্ষণীয় করে তুলেছেন। বইটা পাঠ করে আপনি জানতে পারবেন একটি রাজপরিবারের ইতিহাস। উপর থেকে মানুষের যেমন রূপ দেখা যায় আসলে ভেতর থেকে তারা তেমন নাও হতে পারে। এই কথাটাকে উপলব্ধি করাতে এই বইটি সাহায্য করবে। ★ ভালো লাগার কিছু লাইনঃ- "বিশ্বাসের মতো এত অবিশ্বাস্য একটা বিষয়কে যত কম বিশ্বাস করা যায় ততই ভালো।" "ভালোবাসা এমন কেন? কেন কেউ বুকের ভেতর এমন আলগোছে চুপিচুপি শিকড় গজিয়ে ফেলে? আর সেই শিকড় উপড়ে ফেলতে গেলেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বুকের জমিন। ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে হৃদয়ভূমি। একেমন অনুভব?" "যা তোমার নয়, তা তুমি পেয়ে গেলেও তোমার নুশ। আর যা তোমার, তা তুমি না পেলেও তা চিরকাল তোমারই। সুতরাং কারও ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে পেতে চেয়ো না। বরং ছেড়ে দাও। মুক্ত করে দাও। মনে রেখো কখনো কখনো মুক্তিই বন্দিত্ব। আবার কখনো বন্দিত্বই মুক্তি। কিন্তু মানুষ তা চট করে বুঝতে পারে না। বুঝতে পারে সময়। তাই যা নিজের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তা সময়ের হাতে ছেড়ে দাও।" বইঃ শঙ্খচূড় লেখকঃ সাদাত হোসাইন প্রচ্ছদঃ মো. সাদিতউজজামান প্রকাশনীঃ অন্যপ্রকাশ প্রকাশকঃ মাজহারুল ইসলাম মূল্যঃ ৭০০৳ ব্যক্তিগত রেটিংঃ- ৯.৫/১০
Was this review helpful to you?
or
ভালো
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ একটি বই, বইটি পড়ে অনেক ভালো লেগেছে রেটিং ৫/৫ দিলাম। চমৎকার একটি বই
Was this review helpful to you?
or
এই লেখকের অন্যান্য অনেক বই আমি পড়েছি অনেক ভালো লেখক আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে আপনার চাইলে এই বইটি কিনতে পারেন আপনাদের গল্পটি অনেক ভালো লাগবে আপনাদের লস হবে না আমি চাই এরকম বই আরও প্রকাশ পায়
Was this review helpful to you?
or
বই, বই আমার ভীষণই পছন্দের একটি নাম। যে নামে লুকিয়ে থাকে অনেক কল্পনা অনেক কিছু জানার আগ্রহ। আমারও তেমনটাই। ২০২৩ সাল, তখন ওই বছরই প্রথমবার বইমেলায় যাই। অন্য প্রকাশে গিয়ে দূর থেকে একটি বই চোখে পড়ে।বইটির নাম শঙ্খচূড়। বইটি পড়বো পড়বো বলে আর পড়া হয় না, এ বছর এসে বইটি পড়লাম । আমার ভীষণ পছন্দের একটি উপন্যাস। সাদাত হোসাইন এর লেখা সবচেয়ে সুন্দর একটি বই।
Was this review helpful to you?
or
শঙ্খচূড় উপন্যাসটা পড়ে শেষ করলাম অবশেষে রিডার্স ব্লকের মাঝে থেকেও৷ ৩০৮ এই পৃষ্ঠার উপন্যাসটি ৩টি রাষ্ট্র, দুটি জমিদার বাড়ি, প্রেম, রাজনীতি এবং যুদ্ধ নিয়ে লেখা উপন্যাস। উপন্যাসের একটি ডায়লগ: রাজনীতি, প্রেম ও যুদ্ধে কেবল একটি প্রতিশ্রুতিই সত্য, বাকি সব মিথ্যে। "এখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রতিশ্রুতি রাখার প্রতিশ্রুতি নেই।" তারপর এই গল্পের একজন ১৭ বছর বয়েসী যুবকের প্রেমে আমি পড়ে গিয়েছিলাম একটি ডায়লগে:- বিশ্বাস মূলত একটি অবিশ্বাসযোগ্য ব্যাপার। তাই বিশ্বাসের মতো অবিশ্বাসযোগ্য একটি বিষয়ে যত কম বিশ্বাস রাখা যায়, তত ভালো। তাই শেষে আমার একটা বিনীত অনুরোধ পুষ্পলতাকে যুবরাজের থেকে আলাদা করবেন না প্লিজ! পুষ্পলতা মারা গেলে যুবরাজেরই ক্ষতি। এবং অপেক্ষায় রইলাম পরবর্তী খন্ডের।
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ সুন্দর কাভার, প্রিয় মানুষকে উপহার হিসাবে পাঠাবো
Was this review helpful to you?
or
বরাবরের মতোই ভালো হবে আশা করি💚
Was this review helpful to you?
or
most probably the second humayon ahmed he will be
Was this review helpful to you?
or
Waiting for 2nd part
Was this review helpful to you?
or
⚈ স্পয়লার-ফ্রি রিভিউ⚊ ❛শঙ্খচূড়❜ ❝রাজনীতি পাশার চালের মতো। যদি পাশার দান পাল্টে যায় তবে পাশার চালটাও পাল্টাতে শিখতে হয়।❞ —শকুনি মামা মহাভারত গ্রিক উপাখ্যানে বর্ণিত এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হলো ট্রোজান যুদ্ধ। এই যুদ্ধ গ্রিক পুরাণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। কথিত আছে, দেবরাজ জিউস নাকি মনে করতেন পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত বেড়ে গেছে, তাই তা কমানোর দরকার। এজন্য তিনি তার কূটকৌশলের মাধ্যমে একটি যুদ্ধ বাঁধানোর চেষ্টা করেন যাতে মানুষের সংখ্যা কমে যায়। এই যুদ্ধ গ্রিক ও ট্রোজানদের মধ্যে সংঘটিত হলেও এর পটভূমি শুরু হয় গ্রিক মিথোলজির দেব-দেবীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে। ট্রোজান যুদ্ধের এ কাহিনীর শুরু গ্রিক বীর অ্যাকেলিসের খুনে ক্রোধের ঘোষণা রেখে, আর শেষ ট্রোজান বীর হেক্টরের অন্তেষ্টিক্রিয়ায়। এর মাঝে রাজসিক পংক্তিগুলিতে রক্ত ঝরিয়ে হেঁটে চলেছে কিংবদন্তি ট্রোজান বীরেরা: প্রায়াম, হেক্টর, প্যারিস ঈনিয়াস; এবং গ্রিক পক্ষে অ্যাকেলিস, অ্যাজেক্স, আগামেমনেস সহ আরও অনেকে। আর ট্রয়ের নগরপ্রকারের ওপর দাঁড়িয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দেখছে এক পরমা সুন্দরী রানী, নাম তার হেলেন — তাকে কেন্দ্র করেই শুরু এ সবকিছুর। সেই সঙ্গে মানুষের এ যুদ্ধক্ষেত্রের ওপরে দীর্ঘ ছায়া ফেলে দাঁড়িয়ে আছে দেবিদেবীরাও: জিউস, পসাইডন, অ্যাপেলো, যার যার স্বার্থ নিয়ে। ——— প্রেম, কাম, ক্রোধ, যুদ্ধ, প্রতিহিংসা, রাজনীতি, ষড়যন্ত্র ও সততার এক সর্ব বিস্তারী রুদ্ধশ্বাস রাজকীয় আখ্যান 'শঙ্খচূড়'। এ উপাখ্যানের শুরু রাজমাতা অন্নপূর্ণার ক্রোধের আগুনে পুড়ে আর সমাপ্তি রাজবধূ পুষ্পলতার ইজ্জত নিলামে চড়িয়ে। এর মাঝে রাজকীয় অশ্ব ছুটে চলেছে রাজা বিজয়াদিত্য, রানী বিভাবতী, রাজমাতা অন্নপূর্ণা দেবী, যুবরাজ অরুণাদিত্য, রাজভ্রাতা বিনয়াদিত্য, সেনাপতি অক্ষয়াদিত্য, চিত্রলেখা, রাজকুমারী সৃজিতা, রাজকুমারী পুষ্পলতা, গৌড়ী, কৃষ্ণেন্দু মিত্র, অরিন্দম মিত্র গল্প নিয়ে। আর এই রাজকীয় যুদ্ধ, হিংস, রাজনীতি সবই নিরব দৃষ্টিতে পরোখ করছে এক রত্নখচিত সিংহাসন, কারণ তাকে ঘিরেই যে এত এত উপখ্যান। পুরো উপাখ্যানে ছায়া সঙ্গী হিসেবে ভ্রমণ করছে আরও দুজন চরিত্র, দস্যু বনপতি; রত্নেশ্বর ঠাকুর, তাদেরও আছে স্ব স্ব স্বার্থ। রাজকীয় এ উপখ্যানে শুধু একটা প্রতিশ্রুতিই সত্য, বাকি সব মিথ্যে, এখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রতিশ্রুতি রাখার প্রতিশ্রুতি নেই। ➲ আখ্যান— "ভালোবাসা এমন কেন? কেন কেউ বুকের ভেতর এমন আলগোছে চুপিচুপি শেকড় গজিয়ে ফেলে? আর সেই শেকড় উপড়ে ফেলতে গেলেই ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বুকের জমিন। ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে হৃদয়ভূমি। এ কেমন অনুভব?" "বেশিরভাগ মানুষের ঔদ্ধত্য কোথা থেকে তৈরি হয় জানো?” "কোথা থেকে?" “নিজের নির্বুদ্ধিতা আর অন্যের বিনয় থেকে।" "মানে?" “মানে বুদ্ধিমান মানুষ উদ্ধত হয় না। উদ্ধত হয় নির্বোধ লোক। বেশিরভাগ নির্বোধই অন্যের বিনয়কে দুর্বলতা ভাবে। আর কাউকে দুর্বল ভাবা মাত্রই সে হয়ে ওঠে উদ্ধত। আর উদ্ধত মানুষ মাত্রই নিজেকে অতি-আত্মবিশ্বাসী এবং অতিসক্ষম মনে করা শুরু করে। সমস্যা হচ্ছে, এটি তার ভেতরে অবচেতনেই অন্যের সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল ধারণা দেয়। আর ভুল যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন পতন অনিবার্য।" ➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ❝যে বইটা পড়ার পর বইটা আবারও পড়ার জন্য আগ্রহ জাগে না সে বইটা আমার কাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ না। যে বইটা পড়ার পর কিছুক্ষণের জন্যেও আমি স্তব্ধ হয়ে থাকি না সে বইটা আমার কাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ না। যে কাহিনী পড়ার সময় আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হয় না সে কাহিনী আমার কাছে পার্ফেক্ট থ্রিলার না।❞ — ❛শঙ্খচূড়❜ পড়ার সময় কিংবা পড়ার পর উপরের তিনটা অনুভূতিই কাজ করেছে। বইটা শেষ করে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলাম। কোনোভাবেই কাহিনীটাকে মাথা থেকে সড়াতে পারছিলাম না। বইয়ের ভাজে ভাজে থাকা প্রশ্নগুলো আমাকে ভাবাচ্ছিলো। দাবার ছকের মতো পরবর্তী চালগুলো ভাবছিলাম। ❛শঙ্খচূড়❜ পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো রোলার কোস্টার রাইড দিচ্ছি। ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত আগাচ্ছিলো কাহিনী ঠিক ভাবে বুঝে উঠতে পারা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াচ্ছিলো। একের পর এক টুইস্ট, একের পর এক মোড়! কাকে ভরসা করব তা-ই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। সবচেয়ে দূর্বল চরিত্রও হুট করে এত শক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছিলো, পুরো ব্যাপারটা হজম করতে কষ্ট হচ্ছিলো। গল্পটার শেষ কোথায় হবে তা-ই মিলাতে পারছিলাম না৷ ● সূত্রপাত— একটা বই পাঠককে আটকে রাখতে সূত্রপাত অনেক বড় ভূমিকা রাখে। বইয়ের সূত্রপাতই যদি ম্যাড়মেড়ে হয় তবে অনেক পাঠকই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে সামনে আগানোর। এমনও অনেক সময় দেখা যায় অনেক ভালো বই পাঠক ফেলে রাখে শুরুটা ভালো না হওয়ায়। কিন্তু ❛শঙ্খচূড়❜ এর সম্পূর্ণ ব্যাতিক্রম। শুরু থেকেই যেভাবে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছে এই বই তাতে পাঠক এক মুহুর্তের জন্য কাহিনী ছেড়ে উঠতে পারবে বলে মনে হয় না। রাজা বিজয়াদীত্যের অসুস্থতা এবং রাজমাতা অন্নপূর্ণা দেবীর নেয়া কঠিন সিদ্ধান্ত পাঠক মনে প্রশ্নের উদ্রেক করবে, এরপর চন্দ্রগড়ের রাজ সিংহাসন কার হবে? এই প্রশ্নই একজন পাঠককে পুরো বইয়ে চুম্বকের মতো আটকে রাখার জন্য যথেষ্ট। ● গল্প বুনট— নাটকীয় সংঘাত, অপ্রত্যাশিত ভাবে গল্পের মোড় পরিবর্তন ❛শঙ্খচূড়❜ উপন্যাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য যা প্রশংসার দাবিদার। কৃষ্ণেন্দ মিত্রের ছেলে অরিন্দম মিত্রের জিহবা কর্তনের পূর্ব পর্যন্ত ❛শঙ্খচূড়❜ ছিল একটি লঘু রাজনৈতিক কাহিনী। তার পরেই বইটি গুরুগম্ভীর রূপ ধারণ করে। বিনয়াদিত্য আর সৃজিতার বিয়ের এক মাস পর অরুণাদিত্যের আগমনে পাঠক মনে আবার আশা জাগে মিলনান্তক পরিণতির। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ অভাবিত ভাবে ভিন্ন খাতে বয়ে যায়, আশা পরিণত হয় হতাশায়। বইয়ের প্রতিটা অধ্যায়ে আমার কানে শুধু একটা বাক্যই প্রতিধ্বনিত হয়েছে, ❝বিশ্বাস মূলত একটি অবিশ্বাসযোগ্য ব্যাপার। তাই বিশ্বাসের মতো অবিশ্বাসযোগ্য একটি বিষয়ে যত কম বিশ্বাস রাখা যায়, তত ভালো।'❞ বইয়ের প্রতি পাতায় উন্মোচিত নতুন নতুন সত্য শুধু উপরের লাইনের উপর বিশ্বাস আনতে আরও বেশি বাধ্য করেছে। শেষ পর্যন্ত বিনয়াদিত্যের বিশ্বাসঘাতকতার একটা তিক্ত ছাপ থেকে যাবে যেকোনো পাঠক মনে। ● লেখনশৈলী প্রতিটা লেখকের লিখনশৈলী ভিন্ন। লিখনশৈলীর মাধ্যমেই একজন লেখককে আলাদা করা যায় অন্য লেখকের থেকে। ❛শেষ অধ্যায় নেই❜ বইয়ের মাধ্যমেই পরিচিত হয়েছিলাম সাদাত হোসাইনের লেখনশৈলীর সাথে। তবে ❛শঙ্খচূড়❜ বইটা পড়ার সময় মনে হয়েছে লেখকের লেখার মাঝে আমূল পরিবর্তন না আসলেও চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন এসেছে। উন্নত হয়েছে আগের চেয়ে। ভিন্নতা এসেছে বাক্যগঠনে। হুমায়ুন আহমেদের ❝বাদশাহ নামদার❞ বইয়ের লেখনশৈলীর যে ছাঁচে গড়া ক্ষনিকের জন্য মনে হলো বইয়ের লেখনশৈলীও সে ছাঁচেই গড়া। এক নিঃশ্বাসে গিলে ফেলা যায়। ● বর্ণনা— খুব সাধারণ একটা কাহিনীও পাঠকমনে দাগ কেটে যায় চমৎকার বর্ণনায় আবার অনেক অসাধারণ কাহিনীও পাঠকমনে বিরক্তির উদ্রেক সৃষ্টি করে অবান্তর বর্ণনার দরুন। ❛শঙ্খচূড়❜ উপন্যাসটি এত দ্রুত টাইমলাইন পরিবর্তন করছিলো আর কাহিনী এত জটিল ভাবে এগুচ্ছিলো যে বর্ণনার দিকে সেভাবে নজরই পড়েনি। তবে লেখক চাইলে প্রথম অর্ধ্বাংশকেই আরও বিস্তারিত লিখতে পারতেন। বইটাতে আরও কিছুক্ষণ থাকতে পারলে ভালো লাগতো। ঠিক এই যায়গাটাতেই মনে হয়েছে লেখায় বর্ণনার কিছুটা ঘাটতি আছে। ছোট ছোট কিছু ঘটনাতে বর্ণনা আর একটু বৃদ্ধি করলে বইটা আরো বেশি জীবন্ত মনে হতো। গল্প একই রেখে অন্তত একশো পেইজ বৃদ্ধি করা যেত শো ডোন্ট টেল এর মাধ্যমে। বইয়ের একমাত্র খামতি হিসেবে আমি বর্ণনাকেই দায়ী করব। ● ভাষাঃ ❛শঙ্খচূড়❜ - কথ্য ভাষায় রচিত। লেখকের টানা গদ্যে প্রাণের সমাহার হিংসনীয়। বাক্যের ভাজে ভাজে পাঠকমন বিমোহিত। লেখক ছোট ছোট বাক্যের ব্যবহার করেছেন দৃষ্টিনন্দন ভঙ্গিতে। তাই পড়ার সময় ক্লান্তি অনুপস্থিত। মাঝেমাঝে বড় বাক্যও লক্ষ্য করা যায় তবে তা বিরক্তির উদ্রেক সৃষ্টিতো করেইনি বরঞ্চ পুরো লেখার মাঝে একটা সাবলীলতা বজায় রেখেছে। এই উপন্যাসের ভাষা চরিত্রানুগ, বেশ কিছু চরিত্র কথা বলেছে যাজকোচিত উপদেশগম্ভীর ভাষায়। একই চরিত্রের সংলাপ পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়েছে। এছাড়া কিছু চরিত্রের সংলাপ আবেগের একতারায় ঝংকার তুলেছে নিদারুণ ভাবে। লেখকের শব্দ ভাণ্ডার নজর কাড়বে যেকোনো পাঠকের। এতে পাঠক আর যাই হোক, বিরক্তিবোধ করবে না। ● চরিত্রায়ন— একটা রাজ্য পরিচালনা করার জন্য যেমন অনেক মানুষের প্রয়োজন তেমনই একটা রাজকীয় উপাখ্যান লেখার জন্যেও অনেকগুলো মূল চরিত্র এবং পার্শ্ব চরিত্র প্রয়োজন। ❛শঙ্খচূড়❜- এর ব্যতিক্রম না। গল্পের প্রয়োজনে বেশ অনেক চরিত্রই এসেছে। কোনো চরিত্রের উপস্থিতি ক্ষনিকের আবার কোনো চরিত্রের পুরো কাহিনী জুড়ে। এ গল্পের নায়ক কে আর খলনায়ক কে তা আমি খুঁজে বের করতে পারিনি। প্রতিটা চরিত্রের দাবি যেমন যুক্তিসঙ্গত তেমনই তাদের কর্মকাণ্ড নিন্দনীয়। এ উপাখ্যানে সবচেয়ে বেশি মেলে ধরা হয়েছে রাজমাতা অন্নপূর্ণা দেবীকে। কেবল এই চরিত্রটাকেই পূর্ণাঙ্গ মনে হয়েছে। রাজা বিজয়াদিত্য, দস্যু বনপতি এবং রত্নেশ্বর ঠাকুর সবচেয়ে ধোঁয়াশাপূর্ণ চরিত্র। তবে আমার কেন যেন মনে হয়েছে যুবরাজ অরুণাদিত্য চরিত্রটা পূর্ণাঙ্গ না। পুষ্পলতার দিকেও আরও বেশি সময় দেয়া যেত। ❛শঙ্খচূড়❜- উপন্যাসে সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে রাজভ্রাতা বিনয়াদিত্য এবং রাজকুমারী সৃজিতা। ঠিক তাদের কাছে এসেই আমার মনে একটা সুর বাজছিলো, ❝পৃথিবীতে সকলেই কমবেশি বিশ্বাস ভাঙে। কিন্তু তার চেয়ে জঘন্য মানুষ আর হয় না, যে তার সেই বন্ধুর বিশ্বাস ভাঙে, যে বন্ধু তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।❞ ● অবসান— ❝অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি’ মনে হবে, শেষ হইয়াও হইল না শেষ!❞ কবিগুরু যেন এই দুটি লাইন লিখেছেন ❛শঙ্খচূড়❜ বইটার জন্য-ই। পাঠকমনে অতৃপ্তির বীণা বাজিয়েই বইটার সমাপ্তি টেনেছেন লেখক সাহেব। ফাটল ধরা ফসলি জমি যেমন বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনে তেমনই আমার বুভুক্ষু হৃদয় অপেক্ষায় ছিলো মধুর সমাপ্তির। কিন্তু বইয়ের অন্তঃ ঘটল কীভাবে? এক বুক দীর্ঘশ্বাস ফেলে অসীমপানে তাকিয়ে আপনাকে শান্তনা দেই, ❝সব গল্প সুখের নয়, কিছু গল্প বেদনায় সিক্ত হয়❞। লেখক গল্পের খাতিরে সমাপ্তি টেনেছেন ঠিকই কিন্তু পাঠক মনে অপ্রাপ্তির ছাপ থেকে যাবে বহুকাল। তবে পাঠক চাইলে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির এই জটিল গাণিতিক সমস্যাটা রেখে দিতে পারেন ❛শঙ্খচূড়❜ বইয়ের দ্বিতীয় খন্ডের জন্য। কেননা লেখক বইয়ের শেষাংশে গোটা গোটা অক্ষরে ঘোষণা দিয়েছেন পরবর্তী খন্ডের। ● খুচরা আলাপ— বই আমাদের অনেক পাঠই দেয়, কিন্তু বইয়ের চেয়েও বেশি পাঠ দিয়ে থাকে ❝কষ্ট❞ নামক শব্দটা। ❛শঙ্খচূড়❜ পড়ার পর বিষয়টি আরও বেশি উপলব্ধি করলাম। অরুণাদিত্য যখন সৃজিতাকে বলছিলো, ❝সবাই ভাবে বয়স মানুষকে বড় বানায়, কথাটা সত্য না। মানুষকে কী বড় বানায় জানো? কষ্ট।❞ তখন নিজের জীবনের সাথে মেলানোর চেষ্টা করলাম। বাক্যটা খাপে খাপ মিলে গেলো। আমাদের জীবনে অনেক সময় অনেক ধরনের কষ্ট আসে, আর সেই কষ্টই আমাদের শক্ত হতে সাহায্য করে। বইয়ের মাঝপথে সৃজীতার প্রতি অরুণের ভালোবাসা দেখে খুব খারাপই লাগছিলো। কিন্তু কিচ্ছুক্ষণ পরেই আরও একটা জীবন পাঠ পেলাম। রত্নেশ্বর ঠাকুরের বলা কথা গুলো, ❝যা তোমার নয়, তা তুমি পেয়ে গেলেও তোমার নয়। আর যা তোমার, তা তুমি না পেলেও তা চিরকাল তোমারই। সুতরাং কারও ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে পেতে চেয়ো না। বরং ছেড়ে দাও। মুক্ত করে দাও। মনে রেখো, কখনো কখনো মুক্তিই বন্দীত্ব। আবার কখনো বন্দীত্বই মুক্তি।❞ এর সত্যতা উপলব্ধি করলাম অরুণাদিত্যের প্রতি পুষ্পলতার ভালোবাসা দেখে। ——— প্রতিটা রাজকীয় উপখ্যান থেকে আমি কোনো না কোনো জীবনদর্শন পেয়েছি। এ ধরনের কাহিনির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে দর্শনশাস্ত্র। অমিশ ত্রিপাঠীর শিব ট্রিলজি আর রামচন্দ্র সিরিজ দিয়েই এধরণের বইয়ের সাথে আমার পরিচয়। বইয়ের কন্সেপ্ট মুগ্ধ করতে না পারলেও দর্শনশাস্ত্র ঠিকই মুগ্ধ করে ছিলো। ❛শঙ্খচূড়❜ - বইয়ের প্রতি মুগ্ধতা কাজ করার আর একটা অন্যতম কারণ ছিলো দর্শনশাস্ত্র। অনেক সংলাপের সাথে পূর্ব পরিচিত থাকলেও রত্নেশ্বর ঠাকুরের বলা সংলাপ, ❝তুমি ভেতর থেকে ভেঙে পড়েছ বা দুর্বল হয়ে গেছ, সেটা কাউকে বুঝতে দিয়ো না। কারণ, মানুষ ভেঙে যাওয়া বাড়ির ইট পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়❞ আমার জীবনবোধকে আর একটু সমৃদ্ধ করেছে। সত্যিইতো আমরা বুঝে কিংবা না বুঝে অপরের কাছে নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করে ফেলি। আর মানুষ সেই দূর্বলতারই সুযোগ নেয়। ➣ লেখক নিয়ে কিছু কথা— ❝বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়!❞ একজনের লেখকের পরিচয় তার লেখার মাঝে। সাদাত হোসাইনও তার ব্যাতিক্রম নন। লেখার মাধ্যমে যায়গা করে নিয়েছেন হাজারো পাঠকের মন পিঞ্জিরায়। তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই ❝যেতে চাইলে যেও❞, যা প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে। আর তারপর যেন তাঁর লেখক সত্ত্বা আরো প্রকট রূপ লাভ করে, কলম যেন হয়ে উঠে খাপছাড়া তলোয়ার। এক এক করে প্রকাশিত হয় পঁচিশটি গ্রন্থ। প্রতিটা গ্রন্থই পাঠকমহলে হিংসনীয় পর্যায়ের সাড়া ফেলে। লেখকের সর্বশেষ প্রকাশিত গ্রন্থ ❛শঙ্খচূড়❜। ● সম্পাদনা ও বানান— বইটার কাহিনী এত দ্রুত এগুচ্ছিলো যে বানানের দিকে আলাদা ভাবে নজর দেয়ার সুযোগই হয়নি। তারপরও কয়েকটা ভুল বানান চোখে পড়েছে। বাংলা একাডেমি যেহেতু প্রতি মাসেই কিছু না কিছু শব্দের পরিবর্তন আনছে তাই এই ভুল বানানগুলোকে ভুলের খাতায় না আনলেও চলবে। ● প্রোডাকশন— অন্যপ্রকাশের প্রোডাকশনের দিকে আঙুল তোলা আর বোকার স্বর্গে বাস করা সমতূল্য। তাই এ দুঃসাহস আমি করব না। ❛শঙ্খচূড়❜ বইয়ে দামি কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে। বাধাই হয়েছে মাখনের মতো মোলায়েম। খুব সহজেই পৃষ্ঠা উল্টিয়ে পড়তে পারছিলাম। আমি ইতিমধ্যে দুইবার পড়ে ফেলেছি বইটা, আশা করা যায় আরও কয়েকবার পড়ার পরেও বাধাইয়ে সমস্যা হবে না। লাইন গ্যাপ এবং ফন্ট স্পেস বইটাকে পড়তে আরো আরাম দেয়। বাহ্যিক প্রোডাকশন এবং অভ্যন্তরীণ কন্সেপ্ট নিয়ে ❛শঙ্খচূড়❜ হয়েছে অনন্য। ● প্রচ্ছদ— ❝আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী❞ উপরোক্ত প্রবাদটি ❛শঙ্খচূড়❜ বইয়ের মাঝে প্রতিফলিত হয় খুব সুন্দর ভাবে। প্রথম দেখাতেই যে কারো নজর কাড়বে এ বইয়ের প্রচ্ছদ। সোনায় মোড়ানো এক ফ্রেমে রাজমুকুট এবং রাজপ্রাসাদের চিত্র। এ চিত্র দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে ক্ষমতার লড়াই হবে পুরো বইয়ে। প্রচ্ছদকার সাদিতউজ্জাম তাঁর প্রচ্ছদের মাঝে সব সময় সেরাটা দিতে চেষ্টা করেন। কিন্তু এই বইয়ের প্রচ্ছদে যেন আবেগের ছোঁয়া একটু বেশিই ছিলো। তবে নামলিপিটা আমার সাদামাটা মনে হয়েছে। নামলিপিতে সময় দিলে আরও ভালো কিছু করা সম্ভব হতো। অলংকরণ চোখে পরার মতো না। বইয়ের শোভা বর্ধনের জন্য অলংকরণের প্রয়োজনীয়তা ছিলো ব্যাপক। বইয়ের কন্সেপ্টের সাথে বেশ মানানসই একটা প্রচ্ছদ করেছেন প্রচ্ছদকার। এরজন্য তাঁর ধন্যবাদ প্রাপ্য। ⛃ বই : শঙ্খচূড় ⛁ লেখক : সাদাত হোসাইন ⛃ জনরা : ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস ⛁ প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ⛃ মূল প্রচ্ছদ : মো. সাদিতউজ্জামান ⛁ প্রকাশনা : অন্যপ্রকাশ ⛃ প্রকাশক : মাজহারুল ইসলাম ⛁ মুদ্রিত মূল্য : ৭০০৳ ⛃ পৃষ্ঠা : ৩০৭ ⛁ পার্সোনাল রেটিং : ৭/১০ রিভিউদাতাঃ সারোয়ার হাসান
Was this review helpful to you?
or
এক কথায় মাস্টারপিস। বইয়ের প্রতি পাতায় পাতায় রহস্য লুকিয়ে আছে। একটা পেইজ স্কিপ করে অন্য পেইজে যাওয়ার অপশন রাখেননি লেখক। আমার কাছে বইমেলা- 2023 এর সেরা একটি বই এটি।
Was this review helpful to you?
or
কখন যে হাতে পাব সেই আশায় আছি 🥺 অসাধারণ একটা বই হবে আশা করি।❤️
Was this review helpful to you?
or
পরবর্তী অংশের অপেক্ষায় আছি।
Was this review helpful to you?
or
ইনশাআল্লাহ অনেক সুন্দর একটি উপন্যাস হতে যাচ্ছে ❤️... অনেক অনেক শুভ কামনা প্রিয় সাদাত ভাই
Was this review helpful to you?
or
price ta overrated
Was this review helpful to you?
or
লেখকের যতো গুলো বই পড়েছি, তার ভিতরে সব থেকে ভাল লেগেছে এই বইটি। গল্পের কাহিনী, চরিত্র গুলোর কাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালি। প্রতিটা অধ্যায়ে নতুন নতুন চমক। তবে বইটি এক পর্বে সমাপ্তি হলে ভালো হতো । যেহেতু কাহিনীটি একটু জটিল..আর এই ধরনের জটিল কাহিনীর ধারা অব্যাহত রাখা টাও অনেক কঠিন... তাই আমার মনে হয়, প্রথম খন্ডের ভিত্তিতে পরবর্তী খন্ডে পাঠকদের প্রত্যাশাটাও আরো বেশি থাকবে..
Was this review helpful to you?
or
অসাধারণ একটা বই হতে যাচ্ছে। শুভ কামনা সাদাত হোসাইন ভাইয়া 😍🌿




